নিউজটি পড়া হয়েছে 174

কাশফিয়া আঁখি’র কবিতা : চিঠিকাব্য

** চিঠিকাব্য **

———– কাশফিয়া আঁখি

বাইরে হয়তো এখনো থেমে থেমে বাজছে বৃষ্টির মাদল।
তুই হয়তো ডুবে আছিস কোন স্বপ্নে।
একটা নৌকার এক পাশে বসে তুই বৈঠা ফেলছিস নিঃশব্দে।
বৈঠা জানেনা সে কথা,
নৌকাও না,
কেবল জল জানে
বৈঠা তার হৃদয়ের ভেতর কতটা আঘাত করে নৌকাকে এগিয়ে নেয় সমুখে।
সিলিং এর দিকে মুখ করে ঘুমিয়ে থাকা তোকে
অচিন কোন রাজপুত্রের মতো দেখায়।
হতে ও তো পারতো,
অচিন কোন ভালোবাসা পূজারির তুই একমাত্র রাজপুত্র,
স্বপ্নের দীপশিখা।
হতে পারে অনেক কিছু,
বলা, না বলা কথার মতো। পালক ঝরা গানের মতো।
হতে পারতো অনেক কিছুই।
অতল ঘুমে ডুবে থাকা তুই কি জাগ্রত আছিস কারো স্বপ্নে?
অথবা,,, বৃষ্টি থেমে গেছে বহু আগেই। তো জানালার শার্শিতে রেখে গেছে জলের ছাপ।
জল শুকালে বিবর্ণ একটা ছাপ থেকে যায়। ক্ষত শুকালেও ঠিক তাই।
আচ্ছা বুকের ক্ষতরা কি আদৌ শুকায়!! নাকি, বুকের চরাচরে জেগে থাকা কষ্টগুলো ঢাকা পড়ে যায় বালুর আবরণে। কোন কোন দিন আচমকা ঝড়ো বাতাসে বালুকণা সরে যায় দূরের কোন তটে। ক্ষতটা চেয়ে রয় অপলক নীল ড্যাব ড্যাবে চোখ করে।
বৃষ্টি থেমে যাওয়া মানে তোর ব্যস্ততা শুরু…..
তোর ব্যস্ততা মানে একটা নীলকন্ঠি ফুল অবেলায় ফুটে নিরবেই ঝড়ে যাওয়া। সকাল, দুপুর, বিকেল কাটিয়ে গোধূলী লগ্নে যখন তুই ফিরবি বুকে পকেটে জমিয়ে গাঙচিলের উদোম সুখ নিয়ে। আমি তখন দূরের এক পাল তোলা নায়ের মতো চলে যেতে যেতে অদৃশ্য হয়ে যাবো তোর চোখের সীমানায়।
আমার চোখের পাতা ছুঁয়েছিলি কেন?
চোখের পাতায় রাখা আমার নড়বড়ে স্বপ্নগুলো যদি খসে যেত!!
তখন….
স্বপ্নহীন আমার কি করুণ দশাই না হতো… বল!
আচ্ছা..
আমাকে হারানোর এতো ভয় কেন তাড়িত করে তোকে?
আমি কি ঘুড়ি?
তুই কি মহাকালের মতো নাটাই সুতো হাতে দাঁড়িয়ে সভ্যতার দেয়াল ঘেষে।
সুতো ছেঁড়া ঘুড়ি একবার পালালে আর খোঁজে পাওয়া যায় না।
আমি কি তেমন বল!!
আমি তো শৈশবের মতোই তোর সাথে লুকোচুরি খেলে যাচ্ছি,,,
কখনো তুই লুকাবি আমি খুঁজবো
আর কখনো
আমি লুকালে তুই।
তবে,,
খেলার শেষটা এমন হবে তুই দেখিস,,
একবার লুকাবো আমি এক গহীন অন্ধকারে
আর তুই সারাবিশ্ব তন্ন তন্ন করে খুঁজবি কিন্তু আর কোথাও পাবি না আমায়।
আমি তখন হয়তো অনেক দূরে মাটির ঘরে গভীর ঘুমে মগ্ন রবো।

১৬ নভেম্বর ২০১৭

ফেসবুক মন্তব্য