নিউজটি পড়া হয়েছে 29

বাহুবলে এমপি কেয়া চৌধুরীর উপর হামলা, ওসমানী মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম :::: হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর অনুষ্ঠানে হামলা করেছে নবনির্বাচিত তারা মিয়ার সমর্থকরা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বেদে পল্লীতে সমাজসেব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সরকারী সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এমপি কেয়া চৌধুরীর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষন পর মোবাইলে ছবি তুলাকে কেন্দ্র করে বাহুবল উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তারা মিয়ার এক সমর্থকের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে উত্তেজিত সমর্থকর অনুষ্ঠানস্থলে হামলা চালায়।

এ সময় স্থানীয় এমপিকে অবরোদ্ধ করে লাঞ্ছিত করে তারা মিয়ার সমর্থকরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এমপি কেয়া চৌধুরীর অনুসারীরা ঘটনাস্থলে পৌছলে দু’গ্রপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনার পর তাৎক্ষনিকভাবে মিরপুর বাজারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে কেয়া চৌধুরীর সমর্থকরা। তখন বক্তৃতা দিতে মঞ্চে দাড়ান কেয়া চৌধুরী। এক পর্যায়ে বক্তৃতারত অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সাথে সাথে তাকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা হাসপাতাল ও পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা মহিলা লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাহেলা আক্তার ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি তৈয়ব আলী আহত হন। আহত আওয়ামী লীগ নেতা তৈয়ব আলীকে বাহুবল উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং মহিলা লীগ নেত্রী রাহেলা আক্তারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাতে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিলেট মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রাত ২টার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইসিইউতে তার চিকিৎসা চলছিল। অপর দিকে এ ঘটনার পর মিরপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে র‌্যাব-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজিত সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তারা মিয়া জানান, অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ছেলে মোবাইলে ছবি ধারণ করছিল। এ সময় সংসদ সদস্যের লোকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষে উত্তেজিত হয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে নারী সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী জানান, উপজেলার মিরপুরে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান ছিল আমার। অনুষ্ঠান চলাকালে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া ও তার লোকজন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

সুত্রঃ দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button