ছোটগল্পঃ ফেসবুক :—— ইকবাল এইচকে খোকন

ছোটগল্পঃ
 
* ফেসবুক *
——————— ইকবাল এইচকে খোকন
 
হ্যালো রাজিব, তুই কই এখন?
এইমাত্র বাসায় আসলাম। কেন কি হইছে?
তোর সাথে দেখা হওয়া খুব দরকার
কি হইছে বলবিতো!
ফোনে বলতে পারবনা, বিকালে একটু দেখা কর
ঠিক আছে
তুই ঠিক চারটায় টিএসসিতে চলে আয়।
 
 
বিকাল চারটায় টিএসসিতে হাজির রাজিব। নাফিসাকে খুব অগোছালো দেখাচ্ছে। কি হইছে, জরুরী তলব?
চল ঐখানটাতে বসি, লোকজন কম আছে, নাফিসা বলে।
হ্যাঁ বল এবার
তোর সাথে একটা বিষয় শেয়ার করা খুব প্রয়োজন ফিল করছি। আমি জানি তুই খারাপ ভাববি শুনলে, কষ্টও পাবি।
এতো হেয়ালী করছিস কেন, বলতো কি হইছে? আমি তোর ফ্রেন্ড না! তুই বল।
আমি জানি সেটা, তবুও সংকুচ লাগছে বলতে।
বল বল সমস্যা নাই।
তোর সাথে পরিচয়ের আগে রাসেল নামের একটা ছেলের সাথে রিলেশন ছিল আমার। তবে সেটা খুব বেশিদিনের না, চার মাস। রাসেল ফার্মগেট থাকে, ওর বাবা বড় ব্যবসায়ী, সেও তার বাবার সাথে ব্যবসা দেখাশুনা করতো। আমরা যখন শ্যাওড়াপাড়া থাকতাম তখন আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে তার এক খালা থাকতো। ও সেখানে মাঝে মাঝে আসতো। সেখান থেকেই তার সাথে দেখা, পরিচয় এবং প্রেম। বলতে পারিস ওর পাগলামির কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হই তখন। আমার জন্য এমন সব পাগলামো করতো যা না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। বলতে পারিস ওর ভালোবাসার কাছে পরাস্থ আমি। সেই থেকেই শুরু। তুইতো জানিসই আমার বাবা কতো রাগী আর কনজারভেটিভ, সেই জন্য খুব কষ্ট করে রাসেলের সাথে দেখা করতাম মাঝে মধ্যে। একদিন আমার ছোট ভাই রাসেলের সাথে আমাকে দেখে ফেলে। রাতে আমাকে জিজ্ঞেস করে রাসেলের সাথে আমার কি ধরনের সম্পর্ক। সে রাসেলকে চেনে ভালো করে। রাসেলের সাথে মেলামেশা না করতে আমাকে শাসায়। আর যোগাযোগ করলে বাবাকে সে বলে দেবে বলে হুমকি দেয়। রাসেলের সাথে এরপর যোগাযোগ কমিয়ে দেই আমি। তাকে জানিয়ে দেই আমার ভাইয়ের কথা। কিন্তু রাসেল কিছুতেই মানতে নারাজ, সে যোগাযোগ করবেই, কথা বলবেই। আমি পড়ি মহাসমস্যায়, কোনভাবেই রাসেলকে বুঝাতে পারিনা। বার বার মোবাইলে কল দেয় বলে এক সময় মোবাইল বন্ধ করে রাখি। এতে রাসেল আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য ফেসবুক একাউন্ট করে দেয় সে। মোবাইলে কথা বলা আর দেখা করার চেয়ে ফেসবুকে যোগাযোগ করাটাকেই সেইফ মনে করি। তবে আবার সমস্যা বাঁধায় আমার ছোট ভাই। সারাদিন মোবাইল নিয়ে বসে থাকতে দেখে সে বুঝে ফেলে যে আমি ইন্টারনেট ইউজ করি। জিজ্ঞেস করে আমি ফেসবুক ইউজ করি কিনা। আমি সত্যতা স্বীকার করি। সে বলল নেট ইউজ করছ ভালকথা কিন্তু রাসেলের সাথে যোগাযোগ না করলেই হলো। আমি রাসেলের সাথে যোগাযোগের কথা অস্বীকার করলাম। তারপর রাসেল সম্পর্কে একগাধা কাহিনী বলে গেল সে। আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছিলামনা। রাসেল আমার সাথে অনেক বড় মিথ্যে বলেছে। যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজের বলেছে সেটা ডাহা মিথ্যে। ঐ প্রতিষ্ঠানটি তাদেরনা, এমনকি ঐ প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও তার কিছু হয়না। সে এখানে ছোট পোস্টে চাকরি করে, থাকে বড় বোনের বাসায়। আমাকে সে যা বলেছে তা পুরোটাই মিথ্যে। সরাসরি রাসেলের সাথে দেখা করে সেটা জানতে চাই আমি। প্রথমে অস্বীকার করলেও এক সময় সত্যতা স্বীকার করে সে। আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং বলে সে যা করেছে সেটা শুধু আমাকে পাওয়ার জন্যই করেছে। সে ছোট চাকরি করে সেটা জানলে এবং তার সব কথা জানলে নাকি আমি তার সাথে রিলেশন করতাম না, সেটা চিন্তা করে তার এ নাটক। প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল আমার, কষ্টও পেয়েছিলাম অসম্ভব রকমের। সে আমাকে সত্য কথা বলতে পারতো। মিথ্যে কথা বলে সে আমার বিশ্বাসটাকে ভেংগে দিয়েছে। আমিতো তাকে দেখে ভালবেসেছিলাম, তার পেশা দেখে নয়। খুব খারাপ লেগেছিল আমার। একটা সময় তার অনুনয় বিনয় আর ভালোবাসার কাছে আমার মন থেকে সব মুছে ফেলি। আগামি দিনে আর কোন সময় মিথ্যে বলবেনা, প্রমিস করে সে । মাস খানেক পরের ঘটনা। আমি তখন মুন্সিগঞ্জ নানা বাড়িতে। নানু অসুস্থ ছিলেন, তাকে দেখতে আমি আর মা নানা বাড়ি এসেছি। বাবা আমাদের দিয়ে ঢাকা চলে গেছেন। তিনদিন থাকবো সেই প্ল্যানে নানা বাড়ি এসেছি। পরেরদিন রাত দেড়টায় মোবাইলে কল দেয় আমার ছোট ভাই। এতো রাতে ফোন ! আৎকে উঠি, কোন খারাপ খবর নয়তো! মা শুয়ে পড়েছেন অনেক আগে, ঘুম আসছেনা তাই বসে টিভি দেখছি আমি। আমার ভাইয়ের ফোন রিসিভ করে পাথরের মত হয়ে গেলাম, মাথা ঘুরছিল, মনে হচ্ছে একটা ভূমিকম্প আমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। মূর্তির মতো বসে রইলাম। আমার ভাই জানালো, আমাদের পাশের ফ্ল্যাটে রাসেলের যে খালা থাকতো সেই ফ্ল্যাটে রাত সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ তল্লাশি করে রাসেলের খালা খালু ও তাদের দুই মেয়ে সহ সাতজনকে আটক করে নিয়ে গেছে। তাদের ফ্ল্যাট থেকে ১০৭ পিস ইয়াবা ও তিন বোতল বিদেশী মদ ও উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে দুই মেয়েকে নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দিতেন তারা আসলে রাসেলের খালার মেয়ে নয়। তাদের দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। এতো বড় একটা অপরাধ এই ভবনে চলছে সেটা একটা বাসিন্দাও টের পেলনা? অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। পুরো ভবনের বাসিন্দারা একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এই ঘটনার পর। রাসেলও আটক হয়, সেও এই সংঘবদ্ধ চক্রের একজন। যাকে সে খালা বলে পরিচয় দিত তিনি আসলে তার কোন রিলেটিভ নয়। অসামাজিক কার্যকলাপে রাসেলও জড়িত। এসব শুনার পর লজ্জায় ঘৃণায় চার পাঁচটা ঘুমের ঔষধ খেয়েছিলাম, নিজের প্রতি খুব ঘৃণা হচ্ছিল। আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। কি সর্বনাশা পথে পা বাড়াচ্ছিলাম আমি! সেটা চিন্তা করলেই গা শিউড়ে উঠে, মাথা ঘুরতে থাকে। পরের মাসে আমরা বাসা ছেড়ে দেই, নতুন বাসায় উঠি এখন যেখানে আছি। আমার জীবনের সেই ঝড় তছনছ করে দিয়ে যায় আমার সবকিছুকে। অনেকদিন অসুস্থ থাকার পর সুস্থ হয়ে উঠি। নিজের সাথে যুদ্ধ করে সবার কথা চিন্তা করে নতুন জীবন শুরুর চেষ্টা করি। সবকিছুর উপর আমার বিশ্বাস উঠে যায়। মোবাইল বন্ধ করি, ফেসবুক ইউজও ছেড়ে দেই, যাথে ঐ জানোয়ারটা আর আমাকে খুঁজে না পায় সে জন্য ।
 
রাজিব এতক্ষন চুপ করে নাফিসার কথাগুলো শুনছিল। নাফিসার চোখ ছলছল করছে পানিতে। নাফিসার কথাগুলো শুনে খুব খারাপ লাগলো রাজিবের। নাফিসার এক হাত চেপে বলল, তোর ভাগ্য ভালো তাই মস্তবড় একটা ফ্রডের হাত থেকে বেঁচে গেছিস, নইলে যে কি হতো!
নাফিসা চোখ মুছে বলল, তুই খুব মাইন্ড করেছিস আমার কথায়? সত্যি করে বল?
সত্যি বলতে কি নাফিসা, খারাপ লেগেছিল প্রথমে, তবে এখন লাগছেনা। তাছাড়া তুই আমার ভালো ফ্রেন্ড, বড় একটা বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে গেছিস, সো এইটাই আমার কাছে এখন বড় বিষয়, আর কিছু না।
থ্যাঙ্ক ইউ রাজিব। আমি জানতাম সব কথা শুনার পর আমাকে তুই ভুল বুঝবিনা।
রাজিব বলে, আচ্ছা তোর সাথেতো দুই তিন মাস হলো সম্পর্ক, ভালো ফ্রেন্ডও হয়ে গেলাম অল্প সময়ের মধ্যে। কিন্তু এসব কথা আগে না বলে এখন বলছিস কেন?
আমি চাইনি আমার চরম ভুলের এই কাহিনী শুনে তুই আমাকে বকাবকি কর। কিন্তু আজ বলতেই হলো, এছাড়া একা মানসিকভাবে বিষণ্ণ হয়ে পরেছিলাম, তাই…
নতুন আবার কি হলো?
নতুন আবার কি হবে! পুরনো অতীতই নতুন করে ডুবাতে এসেছে আমাকে।
মানে? খুলে বলতো নাফিসা।
গত চার পাঁচ দিন থেকে আমার সেল নাম্ভারে বিভিন্ন অপরিচিত নাম্ভার থেকে আজেবাজে ছেলেদের বিরক্তিকর কল আসতেছে, বলছে ফেসবুক থেকে নাকি নাম্ভার পেয়েছে।
বলিস কি? তুইতো ফেসবুকে পারসোনাল নাম্ভার দিসনি! তাছাড়া তোর ফ্রেন্ডলিস্টেওতো হাতেগুনা কয়েকজন ফ্রেন্ড।
এটাইতো সমস্যা। বুঝতেছিনা আমার সেল নাম্ভারটা কে রটাচ্ছে চারিদিকে!
মনে হচ্ছে তোর পরিচিত কেউ হবে।
পরিচিত কে হবে? এই নাম্ভারতো আমার বাসার সবাই, তুই, সামি আর দুই তিন জন বান্ধবী ছাড়া আর কেউ জানেনা।
তোর বান্ধবী কেউ?
আরে না, মাথা খারাপ? জীবন গেলেও ওরা সেটা করবেনা। আমি চিন্তা করছি অন্যটা।
কোনটা?
ঐ রাসেল কুত্তাটা এইটা করছেনাতো?
ধ্যাত! তোর এ নাম্ভার সে পাবে কই?
সেটাওতো কথা! মাথায় কিছু আসছেনারে।
দেখিতো কোন নাম্ভার থেকে কল দিয়েছে।
কয়টা দেখবি? একেক সময় একেক নাম্ভার থেকে কল আসে এবং সবগুলোই কোন না কোন ফোন ফ্যাক্সের দোকান থেকে আসে। বিভিন্ন এলাকা থেকে একেক দিন।
হুম! আচ্ছা চিন্তা করিসনা আর। যত অপরিচিত নাম্ভার থেকে কল আসে সবগুলো সেভ করে রাখবি। যদি এক নাম্ভার থেকে তুই তিন বার কল আসে তাহলে একটা ব্যবস্থা নেয়া যাবে। তিনদিন পর নাফিসার জরুরী কল পেয়ে দেখা করতে যায় রাজিব। কিরে ইমারজেন্সি কল?
সমস্যা একটা হয়ে গেছে। আমার মাথা নষ্ট হবার উপক্রম এখন।
কি হইছে ?
তোরে বলছিলামনা বিভিন্ন নাম্ভার থেকে আজেবাজে কল আসে?
হ্যাঁ বলছিলি, চিনতে পারছিস কাউকে?
সেই জন্যইতো তোরে ডাকলাম।
খুলে বল।
চল চা খাই একটু, সব বলতেছি।
আমি সন্ধেহ করছিলামনা ঐ কুত্তাটা এসব করাচ্ছে? আমার ধারনাই ঠিক।
বলিস কি, কি করে জানলি?
কুত্তাটা কল করেছিল আজ।
ও মাই গড, বলিস কি? তোর নাম্ভার পেল কই?
এই প্রশ্ন আমিও করেছিলাম, শুধু বলল বাসা পাল্টাইছো  কিন্তু তোমার বাবার অফিস তো আর পাল্টাও নাই।
তার মানে হচ্ছে , সে তোর বাবার অফিসে গিয়ে যে কোনভাবেই তোর বাবার কাছ থেকে নাম্ভার সংগ্রহ করেছে!
আমিও তাই ভাবছি।
তোর বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলি?
তোর কি মাথা খারাপ, বাবাকে জিজ্ঞেস করবো আমি? বাবা যদি কিছু আর শুনে তাহলে মেরে ফেলবে আমাকে।
হুম… সেটাওতো সমস্যা। কল দিয়ে কি বলে তোরে?
গালাগালি হুমকি ধামকি ইত্যাদি। আমি কল দিতে নিষেধ করলে সে বলে, আমি নাকি তাকে কল দিতে বাধ্য হবো, তাকে কল দিতে হবেনা।
মানে? বুঝলাম না?
মানে আর কি, সে আমাকে ব্ল্যাকমেল করতেছে।
ব্ল্যাকমেল! বলিস কি, কিভাবে?
ওর কাছে ওর আর আমার কিছু ক্লোজ ছবি ও ভিডিও ক্লিপ রয়ে গেছে। সেটা বাবাকে দেখাবে বলেছে এবং প্রয়োজনে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে সেগুলো।
সর্বনাশ ! কি করেছিস এইসব?
আমি কি জানতাম ঐগুলো গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়াবে এখন?
তোর উপর এখন খুব রাগ হচ্ছে নাফিসা, থাপ্পর দিতে ইচ্ছা করতেছে।
শুধু থাপ্পর কেন, যা ইচ্ছা শাস্তি দে আমাকে, পারলে মেরে ফেল, তাহলে অন্তত এ অবস্থা থেকে বাঁচবো। যদি বাবার কানে এসব কিছু পৌঁছে তাহলে নির্ঘাত আমাকে মেরে ফেলবে। আমি আর পারছিনা সহ্য করতে।
রাজিব কিছু বলেনা, রাগ হচ্ছে অনেক। নাফিসা কি সর্বনাশেই না জড়িয়ে ফেলেছে নিজেকে, এখন কি হবে ওর?
নাফিসা রাজিবকে ধাক্কা দিয়ে বলে, চুপ করে আছিস কেন, মার আমাকে!
রাজিব চিন্তা করছে কি করবে এখন। মেয়েরা এতো বোকা হয় কি করে? প্রেম করলেই যুগল ক্লোজ ছবি, ভিডিও ক্লিপ, ছিঃ ছিঃ ছিঃ…..।  রাজিব বলে ভিডিও ক্লিপ বলতে কি ধরনের ভিডিও?
নাফিসা লজ্জায় কিছু বলেনা, ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে তার।
কি হলো, কিছু বলছিস না যে? তাহলে কি….
প্লিজ রাজিব, ঐসব কিছুনা। ও আমাকে জোর করে কিস করেছে আর সেটা সে তার মোবাইল দিয়ে ভিডিও করেছিল, ঐটুকুই।
বুঝেছি, ঐ হারামির বাচ্চা কি চায় এখন?
আমার সাথে আগের মতো রিলেশন রাখতে চায়।
তুই কি বললি?
মুখ দিয়ে যা এসেছে তাই বলেছি, ওর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেছি।
শোন! এখন বেশি বাড়াবাড়ি করার দরকার নাই।
আমার ইচ্ছা হইছিল কুত্তারে সামনে পাইলে জুতা দিয়ে পেটাই। আমার জীবনটারে শেষ করে দিয়েছে হারামির বাচ্চাটা। ফুফিয়ে কেঁদে ফেলে নাফিসা।
এখন কাঁদার সময় নয়। থাম, কিছু না বুঝে যা ইচ্ছা করবি আবার শেষে কাঁদবি! তুদের মেয়েদের এই এক দোষ, যাগগে… ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে হবে এখন।
আমি কিচ্ছু জানিনা, আমাকে তুই মেরে ফেল, বাসার কেউ যদি এসব কিছু জানে তাহলে আমাকে আস্ত রাখবেনা আর।
আচ্ছা থাম এবার। চিন্তা করিসনা, ভেবে দেখি কি করা যায়। তুই এখন বাসায় যা, সামির সাথে আলাপ করে দেখি কি করা যায়।
প্লিজ, সামিকে এসব কিছু বলিস না তুই।
কেন? ওতো আমার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড, তোরও।
ফ্রেন্ড ঠিক আছে, বাট এ বিষয়ে আমি চাচ্ছিনা আর কেউ কিছু জানুক। সামি ও জানবেনা। প্লিজ ওরে কিছু বলিস না।
আচ্ছা ঠিক আছে, দেখি কি করা যায়। চিন্তা করিস না তুই, বাসায় যা এখন। নাফিসার বিষয়টা নিয়ে খুব টেনশনে রাজিব। সত্যি সত্যি যদি রাসেল কিছু করে বসে তাহলে নাফিসা যে সুইসাইড করবে সেটা নিশ্চিত। যা একরোখা টাইপের মেয়ে সে! একটা কিছু করতে হবে।
এক দিন, দুই দিন, করে করে দুই সপ্তাহ কেটে গেল। নাফিসা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বাসা থেকেও বের হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু মোবাইলে যোগাযোগ করে রাজিবের সাথে। রাসেল বিভিন্ন নাম্ভার থেকে কল দেয়, সব নাম্ভার নাফিসার কাছ থেকে সংগ্রহ করে কল দেয় রাজিব। সবগুলোই ফোনের দোকানের নাম্ভার। এক নাম্ভার থেকে দ্বিতীয়বার কল দেয়না রাসেল। নাফিসাকে শাসিয়ে যাচ্ছেই প্রতিনিয়ত। নাফিসাকে বিপর্যস্ত দেখায়, মানসিকভাবে বাজে অবস্থার মাঝে আছে। ওর এখন প্রয়োজন কোথাও বেড়ানোর, কিন্তু সে সারাদিন বাসায় বসে থাকে, বের হতে বললেও বাসা থেকে বের হয়না।
এক সপ্তাহ পর সকালে রাজিবকে কল দেয় নাফিসা, তুই কি কলেজ যাবি আজ?
হ্যাঁ, কেন বলতো?
আজ কলেজ না গেলে হয়না? আমার একটা উপকার করবি, তুইতো আমার বেষ্টফ্রেন্ড।
ঘটনা কি আগে বলবিতো!
তোকে নিয়ে এক জায়গায় যাব, খুব জরুরি। সারে দশটায় ওখানে গিয়ে পৌছাতে হবে। প্লিজ দোস্ত, আজকে আরেকটু হেল্প কর।
ঠিক আছে ঠিক আছে, কিন্তু যাবিটা কই? কারনটা বলবিতো!
স্কয়ার হসপিটাল, আর কিছু বলতে পারবনা, আগে আয় তাড়াতাড়ি। সিএনজিতে বসে রাজিব বলে, স্কয়ারে যাচ্ছি কেন? কাকে দেখতে যাবি?
কাউকে দেখতে যাবোনা। একজন লোকের সাথে এপয়মেন্ট আছে, ব্যক্তিগত।
কার সাথে?
নাফিসা তার ব্যাগে থাকা একটা পেপার বের করে বলে, বিজ্ঞাপনটা পড়।
রাজিব পড়ে…..
” কিডনি আবশ্যক “একজন  মুমুর্ষ  রোগীর  জন্য  A পজেটিভ কিডনি …………………………………………. কিডনি প্রদানকারীকে আলোচনা সাপেক্ষে উপযুক্ত অর্থ প্রদান করা হবে।
যোগাযোগ ০১৭১১……”এই বিজ্ঞাপন দিয়ে তুই কি করবি? রাজিব বলে।
নাফিসা বলে, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার একটা কিডনি দান করব। তাতে একজন মুমুর্ষ রোগীরও জীবন বাঁচবে এবং আমিও বাঁচবো বিপদ থেকে। আমারও A পজেটিভ।
তুই পাগল হইছিস? কি যা তা বকছিস? ড্রাইভার ভাই সিএনজি দাঁড় করান। সিএনজি থামিয়ে নামল রাজিব, নাফিসাকেও নামাল। সিএনজির ভাড়া দিয়ে সিএনজি বিদায় করে রাজিব বলল, চল ঐ দিকটায়। তারপর ফুটপাতের এক পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে রাজিব নাফিসাকে বলল, তোর মাথাটা কি পুরোটাই গেছে? তুই কি করছিস বুঝতে পারছিস?
নাফিসা বলে, দেখ রাজিব আরো কিছুদিন গেলে আমি সত্যি সত্যিই পাগল হয়ে যাব। আর যাতে পুরোটা পাগল না হই সেই জন্যই আমার এ ডিসিশন। প্লিজ চল তাড়াতাড়ি, সাড়ে দশটায় ঐ লোকটার সাথে আমার এপয়মেন্ট।
রাজিব নাফিসার হাতটা ঝাপটে ধরে বলল সত্যি করে বলতো কি হইছে তোর? হঠাৎ নিজের কিডনি বিক্রি করতে চাচ্ছিস যে? জানিস ভবিষ্যতে কি প্রবলেম হতে পারে তোর? এই ভুত তোর মাথায় কে ডুকালো?
জানি সব। ভবিষ্যতের চাইতে বর্তমানটাই আমার কাছে মুখ্য। আমি অনেক বড় বিপদে আছি।
খুলে বলতো সব, আসলেই কি হইছে তোর? একটু শান্ত হয়ে বোস, প্লিজ।
দেখ রাজিব, আমি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করেই ডিসিশনটা নিয়েছি।
তোর হঠাৎ টাকার প্রয়োজন পড়ল কেন বলতো ? কই বল!
ঐ কুকুরটারে দিতে হবে।
মানে রাসেলকে? কেন?
ছবি আর ভিডিও ক্লিপের কথা বললামনা তোকে? সে আমাকে কোনভাবে ম্যানেজ করতে করতে না পেরে এখন পাঁচ লাখ টাকা দাবি করছে। টাকা দিলে সব ফেরত দেবে, না দিলে বাবাকে দেখাবে, সিডি করে বাজারে ছাড়বে, এমনকি ইউটিউবে ছেড়ে দেবার হুমকি দিছে। তুইতো জানিস আমাদের ফ্যামেলির অবস্থা, তাছাড়া বাবা যদি যানে তাহলে নির্ঘাত হার্টফেইল করে মারা যাবেন, আমাদের পুরো ফ্যামেলি ধ্বংস হয়ে যাবে বাবার কিছু হলে। আর এসব চিন্তা করেই আমার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া। আমার ভুলের জন্যতো আমার ফ্যামেলিকে ধ্বংস করে দিতে পারিনা। পাপ যখন আমি করেছি তাহলে প্রায়াশ্চিত্তটা আমিই করতে চাই একা। কিডনি বিক্রির টাকাটা ঐ কুত্তার হাতে তুলে দিয়ে আমি মুক্তি নেব। দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে, এর মধ্যেই যা করার করতে হবে।
রাজিব কিছু বলেনা, কি বলবে বুঝে উঠতে পারছেনা। সমস্যাটা যে এতো জটিল হয়ে উঠবে ভাবেনি। রাজিব বলে, তাই বলে কিডনি বিক্রি করবি? এটা কি করে হয়!
এছাড়া আর কোন উপায় নাইরে, আগে আমাকে মুক্তিটা পেতে দে, তারপর কুত্তাটারে কুত্তার মতোই উপযুক্ত শিক্ষা দেব, কি করব সেই প্ল্যান করে রেখেছি। আমার লাইফ নিয়ে খেলা! ওরে শিক্ষা না দিলেই নয়।
রাজিব বলে, আচ্ছা ঠিক আছে, সবইতো বুঝলাম। আচ্ছা চল কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে আগে কিছু খাই, ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখতে হবে কিভাবে সমাধান করা যায়। চল।
মাথা খারাপ হইছে তুর? তুই গিয়ে খেয়ে আয়, আমি একাই চললাম, তুই যা।
আহা! কথা বাড়াচ্ছিস কেন? সবইতো শুনলাম, বুঝলাম। চল আমার সাথে, আরে বাবা ভেবে দেখার সুযোগটাতো দিবি, নাকি? প্লিজ চল।
রাজিব তুই বিষয়টা বুঝতে পারছিসনা।
আমি বুঝতে পারছি, চলতো ….রাজিব খুব টেনশনে পড়ে, কি করবে বুঝতে পারছেনা। নাফিসার এই বিপদে কি করবে এখন? অজুহাত দেখিয়ে এপয়মেন্ট ডেটটা একদিন পিছিয়েছে। কালই আবার দেখা করতে যাবে হসপিটালে। সারারাত চিন্তা করেই কাটলো রাজিবের। সকাল নয়টার দিকে নাফিসাকে কল দেয়, দেখা করে। নাফিসাকে বলে, তোর মাথা থেকে কিডনি বিক্রির বাজে চিন্তা বাদদে, আমিতো আছিই, এখনো বেশ কয়দিন সময় আছে। ব্যবস্থা একটা হবেই।
আগে তোকে সেইভ করি, তারপর দেখিস রাসেলকে কি করি।
নাফিসা বলে, তুই কি করবি?
দেখি টাকার ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।
তুই এতো টাকা পাবি কই? তোর কি মাথা ঠিক আছে? তুই স্টুডেন্ট মানুষ, এটা কি হাজার পাঁচেক টাকার কিছু ছিল, যে তুই ম্যানেজ করে নিবি?
এটা তোর ভাববার বিষয় নয়, একটা ব্যবস্থা হবেই, ব্যাস।
আমার মতো দেখি তোরও মাথা গেছে! নাফিসা বলে।
গেলে যাক, তোকে যা বলেছি তাই কর। বাসায় যা এখন, চিন্তা করিস না, দিন পাঁচেকের মধ্যেই  টাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
রাজিব, এটা আবেগের বিষয় না।
শোন, আমি যা বুঝার বুঝব, এখন তুই বেশি না বুঝলেই হলো।নাফিসাকে বুঝাতে সক্ষম হয় রাজিব। টাকাটা  সে যে করেই হোক ম্যানেজ করবে। নাফিসা বলে এতো টাকা সে রিটার্ন করবে কি করে। রাজিব বলে, তুই যখন চাকুরি করবি তখন তোর সেলারি থেকে কিছু কিছু এমাউন্ট দিয়ে টাকা রিটার্ন করবি, তবে সুদ লাগবেনা, হাসে রাজিব। নাফিসা কৃতজ্ঞতা জানায়। এক সপ্তাহ পর টাকার ব্যবস্থা করে নাফিসাকে কল দেয় রাজিব। নাফিসা পরের দিন রাসেলকে টাকা দেওয়ার ডেট দেয়। নাফিসার এক খালু পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। উনার রেফারেন্সে পুলিশ ফাঁদ পাতে রাসেলকে আটক করার। গোপনীয়তার জন্য প্ল্যান জানায়নি পুলিশ। রাসেলকে টাকা দেওয়ার কথা দুপুর সাড়ে বারোটায়, কোন জায়গায় আসবে সেটা বলেনি, শুধু বলেছে কল করে সে জানাবে কোথায় টাকা নিয়ে যেথে হবে।
রাজিব টেনশন করতে থাকে। বিকাল চারটার দিকে কল দেয় নাফিসা, বলে দোস্ত মিশন সাকসেসফুল, রাসেল আটক হইছে, সব উদ্ধার হইছে, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সব বলবো, আমি খুব টায়ার্ড।

রাজিব খুব উচ্ছ্বসিত, নাফিসাকে একটা বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পেরে ভাল লাগছে। সন্ধায় রাজিবকে কল দেয় নাফিসা, থ্যাংক ইউ রাজিব, তোর মতো একজন ভালো ফ্রেন্ড ছিল বলে এতো বড় একটা বিপদ থেকে রক্ষা পেলাম। রাসেল পুলিশের হেফাজতে আছে, পরশু ওদের অফিসে যেথে বলেছে। টাকাগুলো ও ডকুমেন্ট আনতে পারব কিছু আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলেই, পরশু তোকে সাথে করেই নিয়ে যাব। থ্যাংক ইউ সো মাচ দোস্ত । আমার কিছুদিন ফুল রেস্টের প্রয়োজন, যে মানসিক টর্নেডো আমার উপর দিয়ে গেছে তাতে আমি পুরো বিধ্বস্ত।
রাজিব বলে, হ্যাঁ এখন তোর রেস্টের প্রয়োজন। দুই তিন দিন রেস্ট নে, পরশু দেখা করিস।
রাতে আর বেশি কথা কয়নি নাফিসার সাথে। মেয়েটার উপর দিয়ে যে ঝড় গেছে সেটা আগে কাটিয়ে উঠুক। পরের দিন আর কল দেয়নি নাফিসাকে কিন্তু নাফিসার মোবাইল বন্ধ পায় রাজিব। হয়তো অফ করে রেস্টে আছে। নাফিসাকে আর কল দেয়নি রাজিব, নাফিসা ফ্রি হয়ে এমনি কল দেবে। পরের দিন কলেজ থেকে ফিরে ল্যাপটপ নিয়ে বসে রাজিব। অনেক দিন নেটে বসা হয়না। ফেসবুকে নাফিসার ওয়ালে একটা স্ট্যাটাস লিখতে হবে। বিকালে থানায় যেথে হবে। ল্যাপটপ অন করার সময় কাজের ছেলে এসে একটা চিটি দিয়ে যায় রাজিবকে, সকালে কুরিয়ারে এসেছে। রাজিব চিটি পেয়ে অবাক, আমাকে কে চিটি দিল? তা ও মেইলের যুগে? আগ্রহ নিয়ে চিটি খুলে পড়া শুরু করে রাজিব।
রাজিব,
চিটি পেয়ে অবাক হচ্ছিস বুঝি ? তোকে চমকে দেয়ার জন্যই চিটি। তুই আমার সবচেয়ে ভালো ফ্রেন্ড, এটা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। দোস্ত তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস। আমি তুর সাথে অনেক বড় একটা বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। তুই আমার জন্য যা করেছিস সেটা আজকের স্বার্থপুরি জগতে বিরলই বলা যায়। আমাকে কি ভাববি জানিনা, তবে সবচেয়ে বাজে মেয়ে ভাববি সেইটাই প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক। তোর সাথে এতদিন যা করেছি তা সবই ছিল প্রতারণা। রাসেল নামের কোন ছেলের সাথে আমার কোন রিলেশন ছিলনা, রাসেল ইস্যুটি পুরোটাই সাজানো নাটক। তোকে শুধু সত্য কথাটা বলছি আজ, অভিনয় করতে গিয়ে সত্যি সত্যি তোকে মনে প্রাণে একজন ভাল বন্ধুর মর্যাদায় বসিয়েছি। ভালো একজন বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা আমার মতো মেয়ের নেই, তারপরও আমার জীবনের বড় একটা অংশ হয়ে গেলি। আমি কোন ভালো মেয়ে নই, ভাগ্যের বিড়ম্বনায় আমি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সাথে সম্পৃক্ত। রাসেল, রাসেলের সাথে প্রেম, বিচ্ছেদ, ব্ল্যাকমেল, টাকা দাবি, আমার বাসার ঠিকানা, বাবার অফিস, পুলিশ, কলেজ, ছবি ভিডিও ক্লিপ সব সব মিথ্যা। যার কোন অস্তিত্ব নেই। ফেসবুকে বড়লোক ছেলেদের সাথে পরিচয়, বন্ধুত্ব, প্রেম এবং সর্বশেষে প্রতারণাই আমাদের কাজ। এটা বিশাল এক কালো জগত। চাইলেই এখান থেকে বেরুনো যায়না, আমিও পারিনি, হয়তো কোনদিনও পারব না। তোর জন্য খুব কষ্ট হয় আমার, অনেকের সাথেই এ রকম প্রতারণা করেছি কিন্তু এই প্রথম কারো জন্য কষ্ট হচ্ছে। তোকে আমি কোনদিন ভুলবনা। যে নাম্ভারে আমার সাথে কথা বলতে সেই সিম এখন আর আমার কাছে নাই। আজ থেকে নতুন আরেকটা সিম আমার মোবাইলে, নতুন কারো সাথে নতুনভাবে প্রতারণার সন্ধানে নামতে হচ্ছে। তোর মতো একই কথা বলে সামিকেও প্রতারিত করেছি, ওর কাছ থেকেও তিন লাখ টাকা নিয়েছি, দেখা হলে নিশ্চয়ই সামি তোকে সব বলবে। তোর সাথে এতদিন যা করেছি সেটা মিথ্যে আর প্রতারণা হলেও, শেষ বেলায় অন্তত একটা সত্য কথা বলে যাই। আমার প্রকৃত নাম শায়লা। নাফিসা আমার ছদ্মনাম, আজ থেকে হবে নতুন আরেক ছদ্মনাম। তোকে প্রমিস করছি, যদি বেঁচে থাকি তাহলে জীবনে একদিন হলেও তোর সামনে এসে দাঁড়াবো, তোর টাকাগুলো ফেরত দিয়ে যাব। তবে সেই টাকা কোন প্রতারণার টাকা নয়, আমার নিজের শ্রম দিয়ে উপার্জিত টাকা হবে সেটি। সেই দিন না আসা পর্যন্ত যেন আমার মৃত্যু না হয়। আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইব সেইদিন, তুই যে শাস্তি দিবি সেটা মেনে নেব মাথা পেতে। আমি তোকে কোনদিন ভুলবনা।

ভালো থাকিস
শায়লা ( নাফিসা )

রাজিব নিস্তব্দ, নির্বাক হয়ে যায়। ভাষাশূন্য সে। সাথে সাথে নাফিসার মোবাইলে কল দেয়, কিন্তু মোবাইল বন্ধ, কয়েকবার ট্রাই করে, বন্ধ। নাফিসার বাসায়, তার বাবার অফিস, মোবাইল অপারেটর অফিস, সব জায়গায় খুঁজে নাফিসা নামের কোন মেয়ের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি রাজিব। ফেসবুকেও নাফিসার আইডি ডিটেকটিভ করা।
সামিকে কল দেয় রাজিব, সামি সব ঘটনা খুলে বলে রাজিবকে। রাজিব কিছু বলেনা। নাফিসা যে তার সাথেও প্রতারণা করেছে সেটা এড়িয়ে যায় সে।
রাজিব মনে মনে বলে, নাফিসা তোর টাকার প্রয়োজন হলে আমাকে সব খুলে বলতে পারতি, প্রতারণারতো কোন প্রয়োজন পড়তো না, আমি তোকে বাঁচাতে চেষ্টা করতাম এবং সেটা যে ভাবেই হোক না কেন। কিন্তু তুই অমর্যাদা করে গেলি বন্ধুত্বের। বিশ্বাস নামক শব্দটাকে আমার জীবন থেকে মুঁছে দিয়ে গেলি। তোকে ভুলবনা কোনদিন ।

লেখকঃ

সম্পাদক, সিলনিউজ২৪.কম

৮ নেভেম্বর ২০১৭

* প্রথম প্রকাশ ২১.০৮.২০১৩

Facebook Comments