ইমামদের সম্মানী ও আমাদের দায়বদ্ধতা।

মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে কয়েক লাখ ইমামের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চরমে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবন যাত্রার মান বাড়লেও ইমামদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠে। মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র স্থান হচ্ছে মসজিদ। আর মসজিদের ইমাম হলেন আমাদের মুসলিম সামাজের একজন ধর্মীয় নেতা স্বরুপ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো থেকে শুরু করে একটি সমাজে যখন একজন মুসলমান মারা যান তার জানাজা, ফাতেহা, দাফন, কবর জেয়ারত ইত্যাদি ইমামের সহায়তায় সম্পন্ন হয়। ঈদ, কোরবান, রমজানসহ বড় বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনায় ইমামের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মুসলিম সামাজে মসজিদের ইমামের এত গুরুত্ব থাকার পরও ইমামরা অবেহেলিত এবং আর্থিক ধন্নতায় জীবনযাপন করছেন।

চাকুরী হারানো সিলেট শহরের একজন ইমাম সাহেবের সাথে অনেক গল্প হলো। ইমামদের অনেক দুঃখ কষ্টের জীবন কাহিনী বললেন। ১৫ বছরের ইমামতি হারিয়ে তিনি আজ বেকার জীবনযাপন করছেন। সমাজের অনুকূল এবং প্রতিকূল মানুষের সাথে মানিয়ে নেওয়া এটাই যেন জীবনে বড় সংগ্রাম। নামাজে সূরা ছোট না বড় হবে, মোনাজাত ছোট না বড় হবে তা নিয়ে প্রায়ই নামাজে আসা কিছু মুসল্লি সমস্যা সৃষ্টি করেন। অনেক সময় মসজিদ কমিটিতে এ নিয়ে ঝামেলা থেকে চাকুরী চলে যায় ইমামের। সেই ভয়ে থাকতে হয় সবার মনযুগিয়ে।

শুক্রবার, ঈদে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিরামহীন কর্তব্যগুলো পালন করে ছুটির গন্ধ খুব কমই মিলে ইমাম সাহেবদের। তারপরও চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন। মুসলিম সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বেতন জানার পর কষ্টই হলো। ২০০০ থেকে শুরু করে ভালো মসজিদের ইমামের বেতন ১০০০০। যা দায়িত্বের তুলনায় সাগরে বিন্দু কণা। সম্মানী পেশা থাকলেও অর্থনৈতিক ভাবে তারা অনেক খারাপ দিনাতিপাত করতেছেন। কোন কোন মসজিদে ২৫-৩০ বছর চাকুরী করার পরও জীবনের শেষ বেলায় ফিরতে হয় খালি হাতে। বিলাসী জীবনতো দূরের কথা।

বিলাসী জীবনের প্রতিযোগিতায় মসজিদ কমিটি মসজিদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ব্যাপারে তার সিকি ভাগও নজর দেন না। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিদেশী কার্পেট, এয়ারকন্ডিশনের বিলাসী খাতে অর্থব্যয়ের প্রতিযোগিতা থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানী বাড়ানোর কথা শুনলে যেন মসজিদ কমিটির আকাশ মাথায় ভেঙ্গে পড়ে। ভাবখানা এমন যেন সম্মানী ছাড়া যদি ইমাম রাখা যেত তাহলে মুক্তি পেতেন।

তারপরও আল্লাহ পাক চালিয়ে নিচ্ছেন সম্মানিত এই ব্যক্তিদের। চুরি করতে হচ্ছে না, ঘুষ খেতে হচ্ছে না, অন্যকে ঠকানোর চিন্তা নেই, অন্যের জায়গা দখলেরও চিন্তা নেই।

কিন্তু যারা নামমাত্র পরিশ্রম করে লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন নিচ্ছে তাদেরতো লোভ, অভাব, অশান্তি, রোগ কমেনি ববং বেড়েছে। অবশেষে এই ইমামকেই নেতা মেনে পিছনে দাঁড়াতে হয় সবার। তাই প্রকৃত এই নেতা এবং পরিবারের দিকে সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিৎ বলেই আমি মনে করি।

লেখকঃ

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম

প্রধান সম্পাদক, সিলনিউজ২৪.কম

৩১ অক্টোবর ২০১৭

Facebook Comments