এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় সিইসি।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: কিছুদিন আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশংসা করার পর এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার প্রশংসায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তির প্রসার অবকাঠানোর উন্নয়ন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে আজ ধরিত্রীর বিশ্ব মুকুট শেখ হাসিনার মাথায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়ে বা উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।’

আওয়ামী সরকারের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং বেশ কয়েকজনের রায়ও কার্যকর করেছে। আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে।’

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠকে বসেছেন তারা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সিইসির সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার সরকার দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রেখেছে বলে দোবি করে সিইসি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ বিশ্বমাতৃকার আসন অলংকৃত করেছেন।’

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাও এই সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে সকল আইন ও বিধি বিধানে পরিচালিত হচ্ছে তার প্রায় সবগুলোই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৈরি করা। বিশ্বের বহু দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে এ দেশের কমিশন বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। যা আওয়ামী লীগ সরকার প্রদান করেছে।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা ও নির্দেশে সেদিনকার আমরা তরুণরা বুকে গ্রেনেড নিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ঐতিহাসিক আন্দোলনের মুকুট সবগুলো এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে।’

সিইসি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে সম্পূর্ণ ধ্বংস দেশ গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশে একটি সংবিধান উপহার দেন। কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ১৯৭৪ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন এবং স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদীয় সরকার গঠন করেন।

ওদিকে সংলাপ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়াদুল কাদের বলেন নির্বাচন কমিশন দলটির ১১ দফাকে ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে রচিত একটি নিরপেক্ষ সুপারিশমালা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে অংশগ্রগণকারী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই ধারবাহিকতায় এই বৈঠক হয়। এ পর্যন্ত ৩৮ টি দলের সঙ্গে বৈঠক করল ইসি।

সূত্র: সময় টিভি

Facebook Comments