বড়লেখায় খুন করে আত্মহত্যার নাটক।

ফাহাদ আহমেদ, বড়লেখা থেকেঃ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউনিয়নের চুলুপাড়া গ্রামে এক নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন গৃহবধূ রেশমা বেগম (২৭)।

বুধবার দুপুর ২ ঘটিকার সময় তার স্বামী, বিয়ানিবাজার উপজেলার খাসাড়িপাড়া গ্রামের বেলাল মিয়ার ছেলে আব্দুস ছামাদ গলা টিপে তাকে হত্যা করে সিলিংয়ের সাথে দড়িতে ঝুলিয়ে দেয়। আত্মহত্যার এই নাটক রচনায় ছামাদকে সাহায্য করেন তার ভগ্নিপতি বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন।

ঘটনার দিন সকাল থেকে রেশমাকে অমানুষিক নির্যাতন ও মারধর করে ছামাদ। সকালে তার ছোট মেয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ঘাতক ছামাদ মেয়েকে বলে “শেষবারের মত মায়ের সাথে কথা বলে নাও”। সকাল ১১টার সময় ছামাদ রেশমার ভাই জুনেদ আহমদকে কল করে ১ ঘন্টার ভেতর বোনকে নিয়ে যেতে বলেন, তা না হলে তার বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

রেশমার ভাই তার বোনকে নিতে আসার আগেই রেশমাকে খুন করে ঘাতক ছামাদ। খুন করার পর ঘাতক ছামাদ তার বোনকে বিস্তারিত বললে ছামাদ ও তার দুলাভাই মিলে রেশমার হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যার নাটক সাজান এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করেন। ফেসবুকে ফটো দেখে রেশমার ভাই জুনেদ ভগ্নিপতি ছামাদকে ফোন দিলে তিনি জানান তার বোন আত্মহত্যা করেছে।

ফুটেজে ষ্পষ্টতই দেখা যায় রেশমার পা মাটিতে এবং তিনি যে আত্মহত্যা করেননি বরং এটা ঠান্ডা মাথার খুন সেটা বুঝা যায়। তদন্তকালে পুলিশ রেশমার নিকট একটা সুইসাইড নোট পান। তদন্তের জন্য বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ তা প্রকাশ করেননি। নিহত রেশমা ২ মেয়ে ও ১ছেলে সন্তানের জননী। ২০১২ সালে ছামাদের সাথে বিয়ে হয়েছিল বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়নের ফরিদ মিয়ার ছোট মেয়ে রেশমার।

Facebook Comments