নবীগঞ্জের বোয়ালজুরে কাঠমিস্ত্রী দুধু মিয়ার ভিটে মাটি জবরদখল, মামলা করায় বাদীকে হত্যার হুমকি।

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জের বহুল আলোচিত বোয়ালজুর গ্রামের কাঠমিস্ত্রী দুধু মিয়ার ঘর- বাড়ি ও সহায় সম্পত্তি প্রভাবশালীরা দখল করে তাদের পরিবার পরিজনকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেও শান্ত হয়নি। নিজের পিতৃসম্পদ উদ্ধারে আদালতে মামলা দায়ের করলে জবরদখলকারী একই গ্রামের প্রভাবশালী আলী হোসেন মামলা প্রত্যাহারের জন্য কাঠমিস্ত্রী দুধু মিয়াকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ভিটে মাটিহারা কাঠমিস্ত্রী দুধু মিয়া আতংকে দিনাতিপাত ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে আলী হোসেন বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলেও জানান অসহায় পরিবারের লোকজন।

অভিযোগে উল্লেখ, নিজের পিতার তৈরীকৃত দালান বাড়ি-ঘর আজও তাদের পিতার স্মৃতি বিজড়িত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও ভোগ করছেন একদল ভূমিখেকো চক্র। বাড়ি উঠানে দাঁড়াতে পারলেও ঘরে প্রবেশের মতা নেই! আজ থেকে প্রায় ৫ বছর পূর্বে তাদের নিজের ঘর-বাড়ি থেকে মারপিট করে বের করে দিয়েছেল। নিজের সম্পত্তি হারিয়ে পাগলের ন্যায় বিচারের দাবীতে সমাজপতিদের ধারে ধারে ধর্না দিচ্ছেন।

বছরের পর বছর ধরে ঘটনাটি ঘটছে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের ক্রামইজোন হিসাবে খ্যাত বোয়ালজুর গ্রামে। এ ঘটনায় বোয়ালজোর গ্রামে আবারো টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

বোয়ালজোর গ্রামের মৃত হাজী আনফর উল্লার পুত্র কাঠমিস্ত্রী দুদুু মিয়া সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা জীবদ্দশায় নিজের তৈরী দালান-কোটা, ঘর-বাড়ি সহ প্রায় ১কেদার ২৬ শতাংশ বাড়ি রমক ভূমি ও ফসলী জমি প্রায় ১০ একর সহ দেড় কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ, ১পুত্র সন্তান, ৭ কন্যা সন্তান ও স্ত্রী রেখে যান। তিনি মারা যাওয়ার পরে দুদুু মিয়া ও তার মা-বোন ও সংসার নিয়ে মোটামুটি সুখে শান্তিতেই বসবাস করে আসছিলেন।

পেশায় দুদুু মিয়া একজন কাঠমিস্ত্রী। কর্মস্থল নবীগঞ্জ শহরে। এরই সুবাদে বেশীর ভাগ সময়ই দুদুু মিয়া নবীগঞ্জ শহরেই থাকতো। তার পরিবার পরিজন থাকতো বাড়িতেই। তার বৃদ্ধ মা সুনু বিবি (৭০), বোন রেবেকা বেগম (৩০), দুধু মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৩৫), ছেলে তুহিন (১১), মেয়ে শিরিন (৯), লিপিকে (৭) নিয়ে বাড়িতে থাকতেন তিনি।

সুখের সংসারে হঠাৎ নেমে আসলো ভূমি খেকোদের আক্রমণ। তার পিতৃ সম্পদ গ্রাস করিতে মরিয়া হয়ে ওঠে প্রতিবেশী কয়েক ব্যক্তি ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী। মৃত আনফর উল্লার পুত্র দুদুু মিয়া ও তার বোনদের সম্পদ গ্রাস করতে নানা কৌশল অবলম্বন করে প্রভাবশালীরা। মৃত হাজী আনফর উল্লাহ মালিকাধীন ঘর- বাড়ি তৈরীকৃত বাড়ি রকম ভূমি বোয়ালজোর মৌজার জে.এল. নং ৪২, এর আওতাধীন সাবেক খতিয়ান ১৫৫, সাবেক দাগ ৭০৯, সাবেক খতিয়ান ১২৭, সাবেক দাগ ৭১১, সাবেক খতিয়ান ১৫৬ ও ১৫৯, সাবেক দাগ ৭০৫। উক্ত দাগগুলোতে মোট ৫৬ শতক জায়গা সহ বিভিন্ন দাগ খতিয়ানের প্রায় ১০ একর ফসলী জমি সহ আরো অনেক জায়গা রয়েছে। এ সব জায়গা এখন ভূমিখেকোদের দখলে! এরই জের ধরে বিগত ২০১২ সালে নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা এফ.আই.আর ভুক্ত করিয়ে আলী হোসেন এর বড় ভাইকে বাদী করা হয়।

প্রকৃতপক্ষে দুদুু মিয়া গংদের সাথে কোন ঘটনা না ঘটলেও মারামারি, রাহাজানি সহ নানা ঘটনা সাজানো হয় উক্ত মামলায় দাবি করেন দুদুু মিয়া। ঐ মামলায় আসামী করা হয় দুদুু মিয়া ও তার মা- বোন সহ মোট ১৫জনকে। থানায় মামলা রেকর্ড করেই দুদুু মিয়াকে তার কর্মস্থল নবীগঞ্জ শহর থেকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। উক্ত মামলায় দুদুু মিয়ার মা, বোন সহ অন্যান্যরা আদালতে গত ২৫.১০.২০১২ তারিখে হাজিরা দিতে গেলে তাদের বাড়িতে দুদুু মিয়ার বড় বোন হালেমা বেগম ও তার পুত্রবধু রাহেনা বেগমকে বাড়িতে রেখে যান। এর সুযোগে ভূমি খেকো বাহিনী লোকজন একজোট হয়ে দুদুু মিয়ার ঘর-বাড়ি দালান কোটা দখলের মিশনে নামে। এই ভূমি খেকো বাহিনী হালেমা বেগম ও তার পুত্রবধুকে অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ২জনকেই এলোপাতাড়ি মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং দুদুু মিয়ার ঘর-বাড়ি জবর দখল করে রাখে।

দুদুু মিয়ার মা-বোনেরা হবিগঞ্জ আদালত থেকে মামলার হাজিরা শেষে বাড়ি ফিরে তার ঘরে ঢুকতে চাইলে ভূমি খেকো বাহিনী তাদেরকে বাড়ি থেকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেয়। এরপর থেকে বিজ্ঞ আদালতে পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করেন। তৎকালীন সময়ে বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ ধারা অমান্য করেও জবর দখলকারীরা বহাল তবিয়তে থাকে। ভূমি খেকো বাহিনীর তান্ডবে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ গণমান্য মুরুব্বিদেরকেও তারা পাত্তা দেয় না। ভূমি খেকো বাহিনীর বিরুদ্ধে গ্রামের আরো নানান অপকর্মসহ ১১টি মামলা রয়েছে। এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন ভূমি খেকো বাহিনীর খুঁটির জোর কোথায়?

গতকাল সকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কান্না জড়িত কণ্ঠে অসহায় দুদুু ও তার বোন হালেমা বেগম উপরোক্ত তথ্যগুলো দিয়ে তাদের পৈত্রিক সম্পদ ঘরবাড়ি ফেরত পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। ভূমি খেকো চক্রের মুল হুতা আলী হোসেন ও তার লোকজনকে আইনের আওতায় এনে নিজের পিতৃ সম্পদ ঘর-বাড়ি ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য আশুহস্তপে কামনা করছেন। এলাকাবাসীর সচেতন মহলের প্রশ্ন আলী হোসেন ও তার লোকজনের খুটির জোর কোথায়?

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম/ন/প/০৮অক্টোবর

Facebook Comments