নিউজটি পড়া হয়েছে 7

নবীগঞ্জে হিজড়াদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জ ও জেলা শহর হবিগঞ্জে হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির কাছে জনগণ জিম্মি হয়ে পড়েছে, এদের দেখার যেন কেউ নেই। রাস্তা, শপিংমল, সুপারমল, রেস্তোরাঁ, বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক সহ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা চাঁদাবাজি করে না। কেউ কেউ আবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই চলে তাদের অশ্রাব্য গালাগালসহ দুর্ব্যবহার। এতে অনেকেই বিব্রত হন।

হিজড়াদের এই বেপরোয়া চাঁদাবাজি শহর থেকে গ্রাম গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামে-গঞ্জে কোন বিয়ে সাদী হচ্ছে রাস্তায় এমন তোরণ দেখলেই সেখানে প্রবেশ করে মোটা অংকের চাদাঁ দাবী করে বসে।

গতকাল শুক্রবার হবিগঞ্জ শহরের বাইপাস রোড আনোয়ার পুরের নিকটে দুপুর ১২টায় বিয়ের প্রায় ২০/২৫টি গাড়ী রাস্তায় আটক করে হিজড়া পার্টি। তারা গাড়ীর সামনে বরবাহী সাজানো মাইক্রোকে টার্গেট করে গাড়ীর সামনে ব্যারিকেড দিয়ে প্রত্যেক গাড়ি প্রতি প্রথমে ৫শত পরে ২শত টাকা করে চাঁদা দাবী করে, এসময় রাস্তায় যানজটে জনসাধারনের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। অতিষ্ট হয়ে তাদের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করার পরে তারা ব্যারিকেড তুলে নেয়। চাদাঁ পরিমাণও যেনতেন নয় ৫০০ থেকে দুই-তিন হাজার পর্যন্ত দাবী করে বসে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অশালীন ব্যবহার করে এবং কাপড় খুলে বসে যায় পথে। এতে বিব্রত হয়ে বাধ্য হয়ে তাদের দাবীকৃত চাঁদা দিয়ে দিতে হয়।

এছাড়াও কোন পরিবারে নতুন সন্তানের জন্ম হয়েছে শুনলে সেখানেও দল বেধেঁ হিজড়ারা হাজির হয়ে যায়। তারা মোটা অংকের টাকার পাশাপাশি কাপড় চোপড়ও দাবী করে বসে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবীকৃত পরিমাণ চাঁদা দেওয়া না হয় কতক্ষণ পর্যন্ত বসে থাকবে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ফোন করে দলবল নিয়ে হাজির হয়ে যায়। কেউ আবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই চলে অশ্রাব্য গালাগালসহ দূর্ব্যবহার।

হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। যা পিছিয়ে পড়া নির্যাতিত ও অসহায় এ জনগোষ্টির জন্য যথাযোগ্য প্রাপ্তিই বলতে হয়। এর ফলে এক দিকে যেমন তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে অন্যদিকে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে সব ধরনের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আবার অনেক হিজড়া পরিবারচ্যুত বলে জনগনের সহানুভূতিও তাদের প্রতি প্রবল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো দোকান, মার্কেট, শপিংমল,হাট-বাজারসহ বাড়ি-ঘর, বাসাতে তাদের বেপরোয়ার চাদাঁবাজি।

জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে হিজড়াদের চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের ব্যবস্থা গ্রহণ কামনা করছেন জনসাধারণ। হিজড়াদের এমন চাঁদাবাজির ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকের উপরও তারা ক্ষেপে যায়, অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করে। এই হিজড়াদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কবল থেকে বাচতে চায় সাধারন মানুষ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম/মুজিবুর/ন/পঃ

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button