একজন কাউন্সিলর আজাদ ও কিছু কথা।

সম্প্রতিকালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অং সাং সূচির নির্দেশনায় বার্মিজ আর্মি রোহিঙ্গা জণগোষ্ঠির উপর চালাচ্ছে গণহত্যা। যুবকদের ধরে ধরে নির্মমভাবে হত্যা করছে মানুষরুপী পশুরা। বাদ পড়ছে না বৃদ্ধ, নারী এমনকি শিশুরাও। নারীদের ধর্ষন করে নির্মমভাবে হত্যা করছে সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, বিগত প্রায় চার দশক ধরে বিভিন্নভাবে চলছে এইসব গণহত্যা। কিন্তু সম্প্রতি এই গণহত্যা চরম রুপ ধারন করেছে। রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু বিশ্বের মুড়লরা এইসব দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি মুসলীম বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশগুলোও পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে এই গণহত্যায়। সবকিছু হারিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা নাফ নদীর এপারে থাকা সীমান্তবর্তী দেশ বাংলাদেশ এর দিকে ঝুকে পড়লো। ঝাকেঁ ঝাকেঁ প্রতিদিন আসতে লাগলো বাংলাদেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তাদের দূরাবস্থা দেখে বিশ্ব-মোড়লদের পাষানমন না কাদঁলেও কাদঁলো আমাদের মমতাময়ী নেত্রী, বিশ্ব শান্তির অগ্রদূত দেশরত্ন শেখ হাসিনার। যিনি সবার কাছে মানবতার মা বা “Mother Of Humanity” নামেও পরিচিত। বিভিন্নরকম ঝুকি থাকা স্বত্বেও তিনি বাংলাদেশের বর্ডার রোহিঙ্গাদের জন্য খুলে দেয়ার নির্দেশ দিলেন। বর্ডার খুলে দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্য দেশে আগত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌছালো। নির্যাতিত ঐসকল রোহিঙ্গাদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠলো বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের দূরাবস্থা দেখে কাদঁছে বিশ্ববিবেক, কাদঁছে পুরো দেশ। দেশনেত্রী ঘোষনা দিলেন রোহিঙ্গাদের কেউ না খেয়ে থাকবে না। আমরা যখন ১৬কোটি মানুষকে প্রতিদিন খাওয়াতে পারছি তখন কয়েক লাখ রোহিঙ্গাদের ও খাওয়াতে পারবো। প্রয়োজনে আমরা ভাগাভাগী করে খাবো’। একইসাথে তিনি দেশের সকল মানুষকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এগিয়ে আসার আহবান জানালেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে ত্রাণ নিয়ে যেতে লাগলো রোহিঙ্গাদের জন্য। সিলেটের একজন সুপরিচিত মানুষ যিনি সুযোগ পেলেই বিপন্ন ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াঁন নিজের সর্বোচ্ছ শক্তি নিয়ে। সিলেট মহানগরীর তরুন ও যুবকদের আইডল, যিনি সবসময় যুবসমাজকে নেশা ও খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখতে মাতিয়ে রাখেন খেলাধুলায়। কোনো বিপদগ্রস্থ মানুষ তার কাছে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসেনি কখনো। দাড়িয়েছেন তিনি কিছুদিন আগে বন্যায় বিপর্যস্থ মানুষের পাশে। সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন মানবতার কল্যাণে। হ্যা সুপ্রীয় পাঠকবৃন্ধ আপনাদের অনুমান সম্পুর্ণ সঠিক, যেই মানুষটার কথা এতক্ষন বর্ণনা করছিলাম তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। যিনি বিলিয়ে দিয়েছেন স্বীয় মন, প্রাণ ও জীবন শুধুমাত্র মানবতার কল্যাণে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনিও ভীষন চিন্তিত ছিলেন, এতগুলো মানুষ মারা যাচ্ছে, অনেকেই বাংলাদেশে আসছে। যার বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তারাই বা কিভাবে দিনাতিপাত করছে এসব চিন্তা যেনো তার দু’চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এরইমধ্য দেশনেত্রী দেশের সকল মানুষকে রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্তে এগিয়ে আসার মুক্ত আহবান জানালেন। ঠিক এইসময়টার জন্যই হয়তো অপেক্ষা করছিলেন কাউন্সিলর আজাদ। সিসিক ২০নং ওয়ার্ড ও সিলেটের বেশকিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে আলোচনা করে গঠন করলেন একটি মুক্ত ত্রাণ তহবিল। সিলেটের সকল মানুষদের আহবান করলেন তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য গঠিত ঐ ত্রাণ তহবিলে সাহায্য করতে। শুরু হলো প্রচারণা, ক্যাম্পেইন। সিলেটের মাঠেঘাটে শুরু হলো গুঞ্জন, কানাঘুষা। ঘন্টার পর ঘন্টা পায়ে হেটে, বাজারে বাজারে গিয়ে তহবিল সংগ্রহ করতে শুরু করলেন। সিলেটের মানুষজনও সাড়া দিলো তার ডাকে। ঐযে সিলেটের আস্থা ও ভরসার শেষ ঠিকানা কাউন্সিলর আজাদ, সিসিক মেয়র নির্বাচন অনেক দূরে এখনো কিন্তু সিলেটের আপামর জনতা এখন থেকেই নগরপিতা হিসেবে কাউন্সিলর আজাদকে মনের ভোটে নির্বাচিত করে ফেলেছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশন তার জন্মের পর থেকে বহু নেতৃত্ব পেয়েছে কিন্তু কাউন্সিলর আজাদের মতো জনদরদী, জনবান্ধন নেতা একজন ও পেয়েছে কিনা সন্দেহ আছে। ক্লান্তিহীন প্রায় একসপ্তাহ সকাল থেকে গভীর রাত্রী পর্যন্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পরে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার ত্রাণ ও ৫৬ জনের রিলিফ টিমের এক বিশাল বহর নিয়ে রওয়ানা হলেন সিলেট থেকে টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে।

সুপ্রীয় পাঠকবৃন্ধ, চমক এখনো শেষ হয়নি, আরো একবার আপনাদের চমকে দিয়ে এই লেখার ইতি টানবো। আল্লাহর রহমতে যথাসময়ে উনি তার ত্রাণেরর বহর নিয়ে পৌছালেন টেকনাফের উখিয়ায় শরনার্থী শিবিরে। দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঐখানেও। ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণের সময় অনেক টিভি চ্যানেলের রিপোর্টাররা ত্রাণের বহরে নেতাকে খু্জেঁ পাচ্ছিলো না। পাবেই বা কিভাবে ওরা ত আর জানেনা কাউন্সিলর আজাদ লোক দেখানো জনসেবা করেন না। উনি অসহায়দের পাশে দাড়াঁন মনের টান থেকে। উনি কখনোই কর্মীদের উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দু’একটা ফটোশেসন করে হোটেলের দামি স্যুটে বিশ্রাম নেন না। অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়ে নেই কোন পলিথিনে ঘেরা মানবতা। ত্রাণ বিতরণকে ত্বরান্বিত করতে কখনো কাধে তুলে নিচ্ছেন ২০ লিটারের পানির ক্যান কখনওবা চাপাচ্ছেন ৩০কেজি ওজনের ত্রাণের ভারী বস্তা। এরই ফাকেঁ খোজঁখবর নিচ্ছেন সঙ্গিসাথীদের। সমস্যা দেখা দিলে দিচ্ছেন ত্বড়িৎ সমাধান দিচ্ছেন নির্দেশনাও। এটা সম্ভব শুধুমাত্র কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ এর পক্ষেই। আপনার সম্পর্কে কিছুই বলার নেই। শুধু একটা কথাই বলবো “Hats off on you, Every leader should have learn from you about True leadership & How to Serve people”.

 

লেখক
ফাহাদ আহমেদ
বি.বি.এস ১ম বর্ষ।
মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
৩০.০৯.২০১৭

Facebook Comments