নিউজটি পড়া হয়েছে 6

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মায়ানমার সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আন্তর্জাতিক গণআদালত।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন, গণহত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মায়ানমার সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আন্তর্জাতিক গণআদালত। প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে শুক্রবার এ প্রতীকী রায় ঘোষণা করা হয়। এদিকে রাখাইনে সংঘাত বন্ধে সু চি সরকারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ওপরও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে ৪ দিনের শুনানি শেষে শুক্রবার এই প্রতীকী বিচারের রায় ঘোষণা করেন গণ-আদালতের বিচারকগণ। ৭ জন বিচারক ভাগ ভাগ করে প্রায় ৩০ পৃষ্ঠার এ রায় পাঠ করেন।

তারা সর্বসম্মতিক্রমে রাখাইনে গণহত্যার জন্য মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি ও সেনাপ্রধান মিন অং হাইং-কে দোষী সাব্যস্ত করেন। সেইসঙ্গে মায়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপে বিশ্বের সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারস প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন বলেন, ‘রাখাইনে যা কিছু হচ্ছে জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী তা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অং সান সু চি, মায়ানমারের সেনাপ্রধান ও সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। আমাদের সবার দৃষ্টিতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যার জন্য তারা দোষী।

এছাড়া রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র বিরতি কার্যকর, রোহিঙ্গাসগ মায়ানমারের সব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান, তদন্তের মাধ্যমে রাখাইনে গণহত্যায় দোষীদের বিচার নিশ্চিত করাসহ ১৭টি সুপারিশ তুলে ধরে পারমানেস্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল-পিপিটি।

গত সোমবার থেকে ৪দিনের শুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার কর্মীরা তাদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। প্রতীকী এই আদালতে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষও থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি, চলমান সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।

এদিকে রোহিঙ্গাসঙ্কট সমাধানে মায়ানমারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন দ্রুত বন্ধে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি ও দেশটির সেনা প্রধানের প্রতি আহবান জানান জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে কারণে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মার্ফি।

শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শরণার্থীর জন্য আগামী ৬ মাসে অন্তত ২০ কোটি ডলার সহযোগিতার প্রয়োজন।

সূত্র: সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button