রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক পদক্ষপের প্রশংসা করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইইউ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: ইউরোপীয় পার্লামেন্ট মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিশাল রোহিঙ্গাদের জনগোষ্ঠীকে আশ্রয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক পদক্ষপের প্রশংসা করে বৃহস্পতিবার একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইইউ। এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতি মায়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের বিষয় বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ পার্লামেন্ট অধিবেশনের প্রস্তাবে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সুরক্ষা সুগমে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিচ্ছে।ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিবেশী অন্যান্য দেশের প্রতি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কারণে পালিয়ে আসা সকল রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ঢুকতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা এসব শরণার্থীর জন্য আর্থিক ও বস্তুগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে (ইউরোপীয়) কমিশন ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে।

একই সাথে প্রস্তাবে এটাও বলা হয় যে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে এটি পরিষ্কার করতে হবে যে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে তারা ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাঙ্কার বৃহস্পতিবার মায়ানমারের এই মানবিক সংকটকে ‘মর্মান্তিক বিপর্যয়’ অভিহিত করে এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলমানের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

এই সংকটের কারণে প্রায় চার লাখ লোক মায়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ সংকটের কারনে বিশেষ করে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো জোরদার হয়েছে।

ইউটিউবে এক প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে জাঙ্কার বলেন, ‘মায়ানমারে যা ঘটছে তা প্রকৃতপক্ষেই এক মর্মান্তিক মানবিক বিপর্যয়। কারণ সেখানে আবারো জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূলের চেষ্টা চলছে।

ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে ইউরো-এমপিদের এক বৈঠকে মায়ানমারে সকল সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের সরাসরি নিন্দা জানাতে একটি প্রস্তাব পাস করা হয়।রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া দ্রুত বন্ধে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের হামলার জবাবে শুরু করা মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন পীড়নের কারণে বহু সংখ্যক রোহিঙ্গা দেশ ছাড়া হয়ে পড়ে। এর ফলে সেখানে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন যে, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতায় প্রায় চার লাখ লোক প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এদিকে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়,২৫ আগস্ট থেকে সর্বশেষ রোহিঙ্গা আসা শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের আশ্রয়ে আরো চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এ সহিংসতার কারণে উভয় সীমান্তে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর এমন দমন পীড়নের নিন্দায় সু চির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ক্ষুধার্ত ও পরিশ্রান্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ প্রদানে চেষ্টা করে যাচ্ছে। মায়ানমার থেকে আসা এসব লোকের ৬০ শতাংশই শিশু। এদিকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০ হাজার রাখাইন বৌদ্ধের পাশাপাশি অনেক হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছে। বাসস

Facebook Comments