মায়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপে ইইউর পার্লামেন্টে সুপারিশ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়ায় দেশটির ওপর অবরোধ আরোপের সুপারিশসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টে একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

এর আগে বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নির্যাতন অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে এক বিতর্কের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপিয়ান কমিশনকে মায়ানমার সরকারের ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকানোর জন্য গৃহীত যৌথ রেজ্যুলেশনে চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

শাখারভ পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সান সু চি’কে ওই রেজ্যুলেশনে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, এই পুরস্কার তাকেই দেওয়া হয় যে মানবাধিকার রক্ষা করবে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেবে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানাবে। এছাড়া দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় যারা এগুলো পালন করবে না তাদের শাখারভ পুরস্কার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কিনা।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, ইইউ সদস্যরা ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের জন্য প্রস্তুত এবং মায়ানমার যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। ৫০ এর অধিক ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য এই যৌথ রেজ্যুলেশন সংসদে নিয়ে আসেন এবং বিতর্কের পরে এটি গৃহীত হয়।

রাখাইনে হত্যা, সহিংস ঘটনা, বেসামরিক নাগরিকের সম্পদ ধ্বংস এবং বাস্তচ্যুত হবার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ বন্ধের জন্য মায়ানমার সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া, মায়ানমার সরকার ও বিশেষ করে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’কে আহ্বান জানানো হয় সব ধরনের জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতাকে নিন্দা জানানোর জন্য। বাংলাদেশ সীমান্তে ল্যান্ডমাইন সরিয়ে ফেলার জন্যও তারা মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

কফি আনান কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে রেজ্যুলেশনে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৮ মে অং সানর সুচির রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র বলেছিলেন, মায়ানমারের সরকারের উচিৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়া।

এছাড়া সহিংসতা বন্ধে ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চীন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আসিয়ান ও আঞ্চলিক সরকারসমূহ যেন মায়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করে এবং সব বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা ও শরণার্থীদের সহায়তা দেয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মায়ানমার সামরিক বাহিনীর এক চেক পোস্টে রোহিঙ্গা ‘বিদ্রোহী’দের হামলার অভিযোগে সংখ্যালঘু এই সম্প্রদায়টির ওপর নির্যাতন শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী।

সূত্র: সময় টিভি

Facebook Comments