দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশন সমাপ্ত।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: ১৯৭২-এর সংবিধানকে রক্তে ভেজা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান উল্লেখ করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে ৯৬ অনুচ্ছেদ এ সংবিধানে সংযোজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২-এর সংবিধানের এ বিধান পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

স্পিকার আজ দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন। দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশন আজ শেষ হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের অধিবেশন সমাপ্তি সম্পর্কিত ঘোষণা পাঠের মাধ্যমে অধিবেশন আজ শেষ হয়।

এর আগে আজ সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনী ভাষণ দেন। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদও সমাপনী বক্তব্য দেন।রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করার আগে স্পিকার তাঁর ভাষণে বলেন, ৭২-এর সংবিধানে আইন সভা, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের নিজ নিজ কার্যপরিধি ও সীমা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেয়া রয়েছে। এতে রাষ্ট্রের এ তিনটি বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে সীমা লংঘনের কোন সুযোগ নেই। ভারসাম্য রক্ষা করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন একটি অঙ্গ অন্য অঙ্গের বিষয়ে কটাক্ষ করা কাম্য নয়।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করে না। বরং বিচার বিভাগকে আরো অধিক সুসংহত করে। সংসদ কোন বিচারকের প্রমাণিত অসামর্থ্যতা ও অসদাচরণের প্রস্তাব তদন্তের পদ্ধতি আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে প্রস্তাব অনুমোদনে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এমনকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনও সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, অন্যদিকে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সৃষ্ট সুপ্রিম জুডিশিয়ার কাউন্সিল তিন ব্যক্তির নিকট ক্ষমতা কেন্দ্রিভূত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকার অবকাশ রয়েছে। আর সামরিক ফরমানে তৈরি এ বিধান অবৈধ, অসাংবিধানিক, অকার্যকর ও আইনের দৃষ্টিতে বেআইনি।

স্পিকার বলেন, জাতির সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু সংসদ। এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। জনগণের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটানো, সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে এ সংসদ। তিনি সংসদকে গণতন্ত্রের হৃদপিন্ড বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন, আইন সংশোধন, আইন সভার ওপরই ন্যস্ত রয়েছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ এ ক্ষমতা নিশ্চিত করেছে। তিনি বলেন, কেউ জাতির সামনে মানবতা সংকটাপন্ন, সংসদ অকার্যকর, বিচার বিভাগ ডুবন্ত, এ চিত্র তুলে ধরে তা দেশের প্রকৃত চিত্র বা অবস্থা নয়। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ে ও ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত হবে।

তিনি এ প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ সর্বক্ষেত্রে অর্জিত বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। স্পিকার বলেন, এ অধিবেশন স্বল্প সময়ের জন্য হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে সংসদ কার্য প্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধির আওতায় রোহিঙ্গা সমস্যা ও ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে সংসদে কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দু’টি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

স্পিকার এই অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদল নির্বিশেষে সকলের কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা করায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপসহ হুইপগণ, বিরোধী দলীয় নেতা, সকল সংসদ সদস্য, ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতি মন্ডলীর সদস্য, মিডিয়া কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশন ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়। মোট ৫ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে ২টি সরকারি বিল পাস হয়। বিল দু’টি হচ্ছে ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) বিল, ২০১৭ও স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল বিল, ২০১৭।

আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ১৪৭টি নোটিশ পাওয়া যায়। নোটিশগুলো থেকে ৬টি গৃহীত নোটিশের মধ্যে ৩টি আলোচিত হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ছিল ৩০টি। সংসদের ১৭তম অধিবেশনে সংসদ কার্য প্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধির আওতায় রোহিঙ্গা সমস্যা ও ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে সংসদে প্রাণবন্ত ও কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে দু’টি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

এছাড়া এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য সর্বমোট ৯৭টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনি ৯টি প্রশ্নের উত্তর দেন। মন্ত্রীদের জন্য আনা ১ হাজার ৬৬৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৬৪টি প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়া এ অধিবেশনে মন্ত্রীগণ সমসাময়িক বিষয়ের ওপর বক্তব্য দেন। সমাপনী ভাষণের পর স্পিকার দশম জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন। বাসস

Facebook Comments