আগামীকাল শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস।

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ আগামীকাল ৩১ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) শ্রীরামসি গণহত্যার ৪৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ৪৬ বছরেও এই গণহত্যার স্মৃতি স্মারক এখনো সরকারীভাবে সংরক্ষন করা হয়নি।

ইতিহাসে বর্নিত রয়েছে- স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আজকের এই দিনে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি গ্রামে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসীকে গণহত্যার শিকার হতে হয় পাক-হানাদার বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর হাতে।

এই দিন সকাল অনুমান ১০ ঘটিকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বেশ কয়েকটি নৌকাযোগে স্থানীয় শ্রীরামসি বাজারে আসে এবং রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় শ্রীরামসি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মম এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ছিল।

স্থানীয় রাজাকার আহমদ আলীসহ বেশ কয়েকজন রাজাকার দ্বারা শ্রীরামসি গ্রামবাসীকে শান্তি কমিটির সভার খবর দিয়ে ডেকে আনা হয় তৎকালীন শ্রীরামসি হাই স্কুল (শ্রীরামসি স্কুল এন্ড কলেজ)-এ।

তখন তাঁরা শান্তির আশায় জড়ো হন বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে। যে বা যারা সেখানে আসতে চাননি রাজাকার দ্বারা বাড়ী থেকে আনা হয় তাদেরও। এক পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের গ্রুপ ১০-১৪ জন করে হাত-পা বেঁধে লাইন ধরিয়ে নিরপরাধ ১২৬ জন লোককে হত্যা করে। এমনকি তাঁরা কয়েক শতাধিক বাড়ী-ঘর জালিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

আর সেই দিনের হত্যাযজ্ঞ স্মরণ রাখার জন্য ১৯৮৬ সালের ৩১ আগস্ট সর্বপ্রথম শ্রীরামসি আঞ্চলিক শহীদ দিবস পালন করা হয়। পরে স্থানীয়
তখনকার যুবকদের উদ্দ্যোগে শহীদ স্মৃতি সংসদ নামে একটি সামাজিক সংগঠন গঠিত হয়। পরে শ্রীরামসি স্কুল এন্ড কলেজের তাঁদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ব স্থাপন করা হয়। ওই সংগঠনের কল্যানে প্রতি বছর তাঁদের স্মরণ করা হয় পুস্পমাল্য
অর্পন, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা এবং শহীদ স্মৃতি মেধা প্রতিযোগীতার মাধ্যমে।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও তাঁদের সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি প্রভাষক নুর মুহাম্মদ জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয়
উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহবুব হোসেন।

তিনি আরও জানান, ৩১শে আগস্ট প্রথম প্রহরে শ্রীরামসি স্কুল এন্ড কলেজের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হবে। সকাল ৯টা শহীদদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল, ১১ টায় আলোচনা সভা অনুষ্টিত হবে এবং সাড়ে ১২ টায় শহীদ স্মরণে মেধা প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের হাতে পুরুস্কার বিতরণ করা হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ এম.এ মান্নান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সাদিকসহ স্থানীয় রাজনীতিক ব্যক্তিবর্গ ও আমলাগন।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx