নিউজটি পড়া হয়েছে 5

নাইকোর সাথে বাপেক্সের যৌথ উদ্যোগ চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সাথে বাপেক্সের যৌথ উদ্যোগ চুক্তি অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

সেই সাথে পেট্রোবাংলার সঙ্গে নাইকোর গ্যাস সরবরাহ ও কেনা-বেচার চুক্তিও অবৈধ ঘোষণা করেছে আদালত। বাংলাদেশে নাইকোর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য এক যুগের বেশি আগে ২০০৩ সালে নাইকোর সাথে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের চুক্তি হয়। এর তিন বছর পর আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা কানাডার এ প্রতিষ্ঠানের সাথে করে গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার চুক্তি।

পরে চুক্তি দুটিকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম।

২০১৬ সালের ৯ মে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছিলো হাইকোর্ট। সেই সাথে চুক্তির কার্যকারিতাও স্থগিত করা হয়েছিলো। রিটের চূড়ান্ত রায় হয় বৃহস্পতিবার।

চুক্তি অনুসারে, ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকো গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ শুরু করলে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় কূপ খনন করতে গিয়ে দুবার বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর থেকে পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি ক্ষতিপূরণ মামলা কানাডার আদালতে বিচারাধীন।

এছাড়াও নাইকোর বিরুদ্ধে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলাও আদালতে বিচারাধীন।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের করা ওই মামলার প্রধান আসামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই চুক্তির ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত ট্যাংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ ধরা হয়েছিলো ৪৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট। উত্তোলন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট। দুবার বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রটিতে আর গ্যাস মজুদ নেই বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button