তিন তালাককে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: ভারতীয় মুসলিম সমাজে প্রচলিত তাৎক্ষণিক তিনতালাক (তালাক-এ-বিদাত) প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেএস খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় দেন।

বেঞ্চের পাঁচ বিচারপতির মধ্যে তিন জন বিচারপতি এই রায়ের সপক্ষে মত দেন। বাকি দুই বিচারপতি ছ’মাসের স্থগিতাদেশ দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে আইন তৈরির কথা বলেন। কিন্তু, শেষমেষ সংখ্যাগরিষ্ঠের বিচারেই তালাক-এ-বিদাত অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়।

বেশ কিছু দিন ধরেই শীর্ষ আদালতে এই তিন তালাক প্রথা নিয়ে শুনানি চলছে। এ দিন বিচারপতি ইউ ইউ ললিত, আর এফ নরিম্যান ওকুরিয়েন জোসেফ তালাক-এ-বিদাতকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘ইসলামবিরোধী’ এবং ‘কোরান বিরুদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেন। তাদের মতে, এই প্রথা ইসলামে নেই, কোরানেও এর কোনও উল্লেখ নেই। কিন্তু, শরিয়া আইনে এর উল্লেখ রয়েছে। কাজেই দেশের সংবিধানের মানদন্ডে এই আইনকে নিরীক্ষণ করা প্রয়োজন। সে দিক থেকে বিচার করে দেখা গেছে, এই প্রথা সম্পূর্ণ ভাবেই সংবিধান বিরোধী।

যদিও ওই বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর এবং বিচারপতি এস আবদুল নাজির তিন তালাক প্রথাকে সংবিধান বিরোধী বলার বিপক্ষে ছিলেন। তাঁদের মতে, ইসলামে যার উল্লেখ রয়েছে, তাকে অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। তাঁরা ওই প্রথার ওপর ছ’মাসের স্থগিতাদেশ দেয়ার পক্ষে ছিলেন। পাশাপাশি তাঁদের মত ছিল, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন কোনো আইন আনুক। ততদিন স্থগিতাদেশ বহাল থাকুক। কিন্তু, শেষমেশ খেহর ও নাজিরের মত ৩:২-এ হেরে যায়।

ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত এই প্রথার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ আবেদন জমা পড়েছিল শীর্ষ আদালতে। তার প্রেক্ষিতেই বিষয়টির বিচার শুরু করে প্রধান বিচারপতি জেএস খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট মামলাকারী এবং বিরোধী অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের বক্তব্য শুনেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যও শোনেন বিচারপতিরা।

গত মে মাসের ১১ তারিখ থেকে শুরু হয় শুনানি পর্ব। টানা ছ’দিন ধরে চলে শুনানি। তার পর গত ১৮ মে এ বিষয়ে রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত।তিন তালাক ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। এমনকি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে তিন তালাক প্রথায় আদালতের হস্তক্ষেপ ঠেকানোর শেষ চেষ্টা করেছিল অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)।

তিন তালাক প্রথার প্রয়োগ মুসলিমদের মধ্যে এমনিতেই কমে এসেছে বলে মুসলিম পার্সোনাল ল. বোর্ডের পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবল আদালতে দাবি করেন। সিবল আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদিও সে সব আশঙ্কা উড়িয়ে আজ এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। রায় ঘোষণার পর এআইএমপিএলবি জানিয়েছে, পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করতে ১০ সেপ্টেম্বর বৈঠকে বসবেন তারা। বাসস

ফেসবুক মন্তব্য
xxx