নিউজটি পড়া হয়েছে 6

উদ্ধার অভিযানে সিটি কর্পোরেশন, আসামী হলেন কাউন্সিলর তুহিন

সিলনিউজ২৪.কমঃ সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়া আবাসিক এলাকায় সরকারী জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে মামলার আসামী হলেন নগরীর ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আবদুর রহিব তুহিন। গতকাল রবিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন শিবগঞ্জের আলী আকবর। তিনি দাবি করেছেন ওই জায়গাটি তার ক্রয়কৃত। তার কাছে কাগজপত্রও রয়েছে। নগরভবন কর্তৃপক্ষের দাবি এটি সরকারী জায়গা। আলী আকবরই অবৈধ দখলকারী।

রবিবার সকালের দিকে সিটি কর্পোরেশনের বুলডোজার নিয়ে সোনারপাড়া রাস্তার মুখে সরকারী রাস্তার জায়গা উচ্ছেদ করতে অভিযানে নামে। এসময় পিয়েন্টের মেহরাব স্টোরের ভূমির মালিক দাবিদার আলী আকবর দোকান উচ্ছেদে বাধা দেন। অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওইদিনই তিনি কাউন্সিলর তুহিনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন আলী আকবর।

মামলার পর আদালত উক্ত ভূমির উপর ১৫৪ ধারা জারি করেন। আদালতের নির্দেশনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেনের কাজ বন্ধ রেখেছে। তাই কাজ বন্ধ রয়েছে। আলী আকবর দাবি করেছেন এ জায়গাটি তিনি ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে এটি সরকারী জায়গা। উপশহর আবাসিক এলাকার যাত্রা শুরু সময় এটি সরকার মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে সেটি রাস্তার জন্য নিয়েছে।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন জানান- গতকাল রবিবার সিটি কর্পোরেশন শিবগঞ্জে অবৈধদখল উচ্ছেদ অভিযান করে। এসময় মেহরাব স্টোরসহ আরেকটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে সরকারী রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। এর আগে সিটি কর্পোরেশন থেকে জায়গার মালিক দাবিদার আলী আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিলো। তিনি বলেছেন তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক। কিন্তু এ জায়গাটি তার ক্রয়ের আগে সরকারীভাবে রাস্তার নামে বরাদ্দ রয়েছে। যা নগরীর শাহজালাল উপশহরের সরকারী মানচিত্রে উল্লেখ রয়েছে। এটি নগরভবন কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমেও নিশ্চিত হয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে।

কাউন্সিলর তুহিন বলেন- ‘অবৈধ দোকানকোঠা উচ্ছেদ করে সরকারী রাস্তার জায়গা উদ্ধার করলো সিটি কর্পোরেশন, আর মামলা হলো আমার বিরুদ্ধে। মামলার নথি পড়ে মনে হচ্ছে আমি ব্যক্তি তুহিন আলী আকবর সাহেবকে উচ্ছেদ করে দোকান দখল করেছি। তিনি জানান আলী আকবরের বিরুদ্ধে তিনি মানহানি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’

এদিকে মামলার বাদী আলী আকবর বলেন- দোকানকোঠার জায়গা যদি সরকারী হয়। তবে আমি অবশ্যই ছাড়তে রাজি। কিন্তু এ জায়গাটি আমি ক্রয়সূত্রে মালিক। এটা কোনভাবেই রাস্তার জায়গা নয়। আমার কাছে দলিল রয়েছে। তিনি মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন- ‘উচ্ছেদের ব্যাপারে আমার সাথে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনরকম যোগাযোগই করা হয়নি। কাউন্সিলর তুহিন আমাকে বলেছিলেন তার করার কিছু নেই। এটি সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপার, আইনী বিয়ষ। তিনি সিটি করপোরেশনে গিয়ে যোগাযোগ করার কথা বলেন। তখন আমি সিটি করপোরেশনে গিয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর দেখা পাইনি। সেদিন তিনি সুনামগঞ্জে ছিলেন। এরপরে আমি মেয়রের সাথে যোগাযোগ করার আগেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো। এটি কতোটা আইনসিদ্ধ সেটিই আমার প্রশ্ন। কারোর কাছে কোন সুরাহা না পেয়ে আমি অবশেষে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

কাউন্সিলর তুহিনের মামলার আসামী করার কারণ হিসেবে আলী আকবর উল্লেখ করেন- কাউন্সিলর তুহিন সাহেবই আমাকে জানিয়েছেন আমার মালিকানাধীন জায়গাটি নাকি সরকারী। সিটি কর্পোরেশন থেকে এ ব্যাপারে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। কোন নোটিশও প্রেরণ করা হয়নি। তাই আমি সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button