নিউজটি পড়া হয়েছে 7

২১শে আগস্ট মামলার নাটকের সেই ‘জজ মিয়া’ এখন কোথায়!

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যে মামলা সাজায় তাতে অন্যতম আসামি হিসেবে মঞ্চস্থ করা হয় জজ মিয়াকে।

মামলায় জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়। পরে তাকে ধরিয়ে দিতে কোটি টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। এবং এক পর্যায়ে নোয়াখালীর সেনবাগের বিরকোট গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জজ মিয়াকে। তাঁর কাছ থেকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ আদায়ের পর তাঁকে আসামি করেই চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

কিন্তু পরে অধিকতর তদন্তে দেখা যায়, ওই মামলাকে ‘ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য’ চারদলীয় জোট সরকারের নির্দেশে সিআইডি জজ মিয়াকে নিয়ে নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। অথচ গ্রামের সহজ-সরল এই যুবক এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।

জজ মিয়া জানান, ক্রসফায়ার ও পরিবারের সদস্যদের গুম করার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। বিনিময়ে গ্রামে থাকা তাঁর পরিবারকে মাসে মাসে কিছু নগদ টাকা দেওয়া হতো। কয়েক মাস দেওয়ার পর তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন ‘হাওয়া ভবনের’ নির্দেশে ক্ষমতালোভী কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে তাঁর জীবন ধ্বংস করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় আলোচিত চরিত্র ‘জজ মিয়া’ এখন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকার ভাড়া বাসায় মা ও বোনকে নিয়ে অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার বা প্রশাসন কোনো ধরনের সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জজ মিয়া গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার মায়ের কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। মায়ের চিকিৎসা করাতে করাতে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য গ্রামের বসতভিটা পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়া লেগেছে। অর্থের অভাবে নাকি বোনের বিয়ে দিতে পারছেন না তিনি।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় ওই সব পুলিশ কর্মকর্তার কীর্তিকলাপ ফাঁস করে দেন তাঁর মা। সম্পূরক চার্জশিটে রাঘব-বোয়ালদের নাম যুক্ত হওয়ার পর বেঁচে যান জজ মিয়া। আদালতের নির্দেশে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। ওই সময় সরকার বলেছিল, জজ মিয়া ও তাঁর পরিবারকে দেখভাল করবে। কিন্তু কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না বলে জানান জজ মিয়া।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button