সিরিয়ার রাক্কায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৮ জন নিহত।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: সিরিয়ায় আইএস নিয়ন্ত্রিত রাক্কা শহরে মার্কিন জোটের বিমান হামলায় গত দুইদিনে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক।

ইদলিবে গত এপ্রিলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো রাসায়নিক হামলা বিদ্রোহীরাই চালিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে দামেস্ক। একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররাষ্ট্রগুলো বিদ্রোহীদের নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এদিকে, আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে সিরীয় সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী।

আইএসের কাছ থেকে রাক্কা শহর পুনরুদ্ধারে গত কয়েক জুন মাস থেকে চলা মার্কিন সমর্থিত বিদ্রোহীগোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস – এসডিএফের অভিযান বুধবারও অব্যাহত ছিল। কয়েকদিন ধরেই জঙ্গিগোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে শহরের তিন দিক থেকে আক্রমণ পরিচালনা করছে বিদ্রোহীরা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাক্কার পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে এসডিএফ।

জঙ্গিরা শহরটির বাসিন্দাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় খুব সাবধানে অগ্রসর হতে হচ্ছে বলে এসডিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জাতিসংঘের হিসেবমতে শহরটিতে এখনও ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছে।

সেনাসদস্যরা বলেন, ‘আমরা আইএসের হাত থেকে এখানকার সাধারণ মানুষদের বাঁচাতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাদেরকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্য করছি। কিন্তু আইএস সদস্যরা তাদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবুও, আমরা খুব সাবধানে অগ্রসর হচ্ছি। ইনশাল্লাহ , শিগগিরই আমরা তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবো।’

এ অবস্থার মধ্যেই, রাক্কায় মার্কিন জোটের আইএসবিরোধী বিমান হামলায় গত দুইদিনে অন্তত ৩৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, বুধবার, রাক্কার ওল্ড সিটি ও এর আশপাশের এলাকায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। এতে, ২ নারী ও ৫ শিশুসহ নিহত হয় অন্তত ১৭ বেসামরিক নাগরিক। হামলায় বেশ কয়েকজহন গুরুতর আহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানায় পর্যবেক্ষণ সংস্থা।

গত এপ্রিলে, ইদলিবের খান শেখাউনের শেইরাত বিমান ঘাঁটিতে রাসায়নিক হামলার জন্য মার্কিন সমর্থিত বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে দামেস্ক। বুধবার, সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফায়সাল মেকদাদ বলেন, সংগৃহীত আলামত পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে এটা নিশ্চিত যে, পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীরাই ওই হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমারাষ্ট্রগুলো বিদ্রোহীদের এসব নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফায়সাল মেকদাদ বলেন, ‘সিরীয় সরকার কখনোই নিজের জনগণের ওপর হামলা চালায়নি। ভবিষ্যতেও চালাবেনা। এমনকি আইএস, আল নুসরার মতো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েও সিরীয় বাহিনী কখনো বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেনি। আমরা কেনইবা আমাদের জনগণের ওপর এসব রাসায়নিক ব্যবহার করবো। পশ্চিমারাই আমাদের সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে ক্রমাগত এসব মিখ্যা অভিযোগ তুলে চলেছে।’

এদিকে, সিরিয়ার লেবানন সীমান্তবর্তী আরসাল শহরে হিজবুল্লাহর আল নুসরাবিরোধী অভিযানের পর, এবার একই এলাকায় আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে অগ্রসর হচ্ছে লেবাননের সেনাবাহিনী। বুধবার, অনলাইনে প্রকাশিত এক ছবিতে, ভারি অস্ত্র-শস্ত্র ও ট্যাংক নিয়ে লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায় লেবাননের সেনা সদস্যদের। শিগগিরই মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় তারা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা শুরু করবে বলে জানিয়েছে লেবাননের মার্কিন দূতাবাস। সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx