বার্সেলোনার লাস রামব্লাসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িঁয়েছে ১৩ জন।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: এবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার স্পেনের বার্সেলোনা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বার্সেলোনার পর্যটন এলাকা লাস রামব্লাসে ভিড়ের মধ্যে পিকআপ ভ্যান তুলে দিলে নিহত হন এ পর্যন্ত ১৩ জন। এ ঘটনায় আহত হন শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এরইমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। হামলায় জড়িত সন্দেহে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেনের পর এবার সন্ত্রাসী হামলার কবলে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। বৃহস্পতিবার দেশটির বার্সেলোনা শহরের একটি জনবহুল পর্যটন এলাকায় পথচারীদের ওপর আকস্মিক পিকআপ ভ্যান তুলে দেয়া হয়। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। দিগবিদিক ছুটতে থাকেন দিশেহারা পথচারীরা।

হামলার পরপরই রাস্তার পাশে বহু মানুষকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে হতাহত হন বহু মানুষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পথচারীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার পর চালকসহ কয়েকজন হামলাকারী দ্রুত গতিতে পায়ে হেটে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর একটি পানশালায় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে হামলাকারীরা।

ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। প্রতিটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি চালানো হয় ব্যাপক তল্লাশি। বাড়ি বাড়ি অভিযান ছাড়াও হেলিকপ্টার নিয়ে টহল দিতে শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী।

ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা উল্লেখ করে পুলিশ এক টুইটার বার্তায় সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানায়। বন্ধ করে দেয়া হয় সেখানকার রেলস্টেশনসহ গণপরিবহন সেবা। আরো হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতা জারির পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হামলায় ঠিক কতজন অংশ নিয়েছিল সে বিষয়ে জানা না গেলেও এরইমধ্যে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া আরেক হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে বলে জানায় সংবাদ মাধ্যম।

ভয়াবহ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রন্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, স্পেনে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ। এ হামলার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়বে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া, নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx