নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নওগাঁ, গাইবান্ধা ও জামালপুরে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। বসতবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা দুর্গত মানুষ। এদিকে, উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ দুর্গতদের।

জামালপুর: যমুনার পানি বাড়ায় নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে জামালপুর জেলা। সোমবার রাত থেকে নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুরসহ ৫ উপজেলার ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মাদারগঞ্জে নাদাগাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নতুন করে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও ফসলি জমি। গবাদি পশু নিয়ে মানুষ ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য। জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় রেল চলাচল বন্ধ আছে।

নওগাঁ: গলা সমান পানিতে ডুবে আছে নওগাঁর মান্দা উপজেলা। চারিদিকে পানি থাকলেও একটু বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষকে ছুটতে হচ্ছে দূর দূরান্তে। ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নার কাজ করতে হচ্ছে বাইরে। সীমাহীন দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার মানুষ। মঙ্গলবার নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নিয়ামতপুর, আত্রাইসহ ৫ উপজেলার শতাধিক গ্রাম। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছেন। তিনদিন পার হলেও এখনো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বন্যা দুর্গতরা।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে ধরলা নদীর পানি। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ রয়েছে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত ৫টি রেলস্টেশন।

গাইবান্ধা: মঙ্গলবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে দুটি পয়েন্ট ভেঙ্গে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।

সুনামগঞ্জে বৃষ্টি না হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের। বন্যায় ভেসে গেছে ৫ শতাধিক পুকুরের মাছ। নষ্ট হয়ে গেছে আমন ধান। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুর্গতরা।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx