নিউজটি পড়া হয়েছে 7

হযরত শাহজালাল (রহ.)এর দু’দিনব্যাপী ৬৯৮তম বার্ষিক উরস সম্পন্ন।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: নানা আনুষ্ঠানিকতা ও আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে আজ ভোরে হযরত শাহজালাল (রহ) এর দু’দিনব্যাপী বার্ষিক উরস সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে উরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী গতকাল সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় মাজারে গিলাফ চড়ানো। চলে বিকাল পর্যন্ত। মাজারে প্রথম গিলাফ চড়ায় মাজার কর্তৃপক্ষ।

হযরত শাহজালাল (র.) এর ৬৯৮ তম পবিত্র ওরস মোবারকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শনিবার সকাল ১১ টায় গিলাফ প্রদান করেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

গিলাফ চড়ানোকালে মাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান অংশ নেন।

মাজারে গিলাফ চড়ানো, সন্ধ্যায় পশু জবাই, রাতে কুরআন-খানি, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার, ভক্তিমূলক গজল পরিবেশন ছিল উরসের অন্যতম অনুসঙ্গ।

উরসকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার জিকির-আজকারে মশগুল হাজার হাজার ভক্ত, আশেকানের ভিড়ে এই দু’দিন মিলনমেলায় পরিণত হয় মাজার এলাকা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শাহজালালের আশেকান, অনুরক্তদের সঙ্গে সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে শামিল হওয়া বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীও মেতেছে ভক্তিমূলক গানের জলসায়। শাহজালাল (রহ.) কে উৎসর্গ করে কেউ কেউ বাদ্যযন্ত্রসহকারে আবার কেউ খালি গলায় সুমধুর গানে মাতিয়ে রাখেন আগতদের। শুধু দরগা নয়, মিছিল-স্লোগান করে লাল ফিতা মাথায় বেঁধে ভক্ত-আশেকানদের মাজারে আসার বর্ণিল আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নগরী।

গত ক’দিন সিলেটে আসা অধিকাংশ যানবাহনের গন্তব্য ছিল হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণ। এছাড়া সিলেটের বাইরে থেকে ভক্তদের নিয়ে আসা যানবাহন নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, শাহী ঈদগাহ, কাজীটুলা, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, পুলিশলাইনস, টিলাগড়,দর্শনদেউড়ীসহ নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গায় রাখা হয়েছে।

উরসকে কেন্দ্র করে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্যে রেখে মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাব ৯ এর পক্ষ থেকে ছিল ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উরস উপলক্ষে নগরীতে যাতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থা ছিল ঢেলে সাজানো। পোশাকধারি পুলিশের পাশাপাশি মাজার এলাকাসহ আশপাশ এলাকায় সাদা পোশাকের প্রায় দেড় শতাধিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করে।

এদিকে দিনের তুলনায় রাতে মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। গতকালও দূর দূরান্ত থেকে গাড়ি নিয়ে মানুষকে মাজারে আসতে দেখা গেছে। রাতে মিলাদ মাহফিলসহ জিকির আজকার অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলাম প্রচারের জন্য হযরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দে ৩৬০ সফরসঙ্গী নিয়ে সিলেট আসেন। ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ১৯ জিলকদ তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে তিনি যে টিলায় বসবাস করতেন সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এই মাজার সারা বছরই ভক্ত আশেকান ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button