নিউজটি পড়া হয়েছে 5

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনা মামলার রায় পিছিয়ে আগামী ২২ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিতও জেল আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের ওপর রায় পিছিয়ে আগামী ২২ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ রায় ঘোষণার নতুন তারিখ ধার্য করে এ আদেশ দেয়।

মামলার শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য আজ ১৩ আগস্ট দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছিল। আজ সকালে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়ে আদেশ দেয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী পরে সাংবাদিকদের জানান, রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে।

আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিচারপ্রার্থী এবং তাদের স্বজনদের উপস্থিতিতে এজলাস কক্ষ ছিল জনাকীর্ণ। আপিলে আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, এডভোকেট এস এম শাহজাহান, এডভোকেট মো. আহসান উল্লাহ।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী এটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

শুনানিতে এটর্নি জেনারেল বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখার আর্জি পেশ করেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তাই মামলার রায়ের মধ্যে দিয়ে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

গত ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন, মাসুদ রানা, এমদাদুল হক (হাবিলদার), বেলাল হোসেন, আবু তৈয়ব, শিহাব উদ্দিন, এসআই সুনেন্দু বালা, পূর্ণেন্দু বালা, আসাদুজ্জামান নূর, মূর্তজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান বিপু, আবুল বাশার ও রহম আলীসহ ২০ আসামী হাইকোর্টে নিয়মিত আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেছেন।

চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যৃদন্ড দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেয়। এ মামলার ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

গত ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওইদিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথিপত্র (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেয় বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপার বুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হয়। সে আলোকে গত ৭ মে মামলার পেপার বুক হাইকোর্টে এসেছে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার।

ফেসবুক মন্তব্য
Share Button