যুদ্ধবিধ্বস্ত মসুল পুনর্গঠনে প্রয়োজন ১০০ কোটি ডলার: জাতিসংঘ

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: ইরাকের এক সময়ের ব্যস্ততম শহর মসুল এখন একটি ধংসস্তুপ ছাড়া আর কিছুই নয়। নয় মাসের আইএসবিরোধী যুদ্ধে জঙ্গিমুক্ত হলেও শহরের সর্বত্রই ধংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম মসুল। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে বলে জানান ইরাকে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার সমন্বয়কারী লিস গ্রান্দে। আর এতে গুনতে হবে একশো কোটি ডলার।

তিন দিন সাহায্যের আকুতি জানিয়েছিলো মসুলের দশ বছরের আমিরা। ধংসস্তুপের নিচে চাপাপড়া শিশুটি বারবারই ডেকে গেছে তা মাকে। কিন্তু তখনো সে জানতো না সরকারি বাহিনী ও আইএসের পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে তার মা।

আমিরার মত অনেক শিশুই এমন হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির শিকার। নয় মাসের যুদ্ধে মসুলে হাজার হাজার ইরাকি নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ। গৃহহীনের সংখ্যাও অনেক। গত বছর অক্টোবরে মসুল পুনরুদ্ধার অভিযান শুরুর পর দশ লাখেরও বেশি মানুষ ঘর ছেড়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রথম ছয় মাসে সাড়ে চার হাজার পরিবার মসুল ছেড়ে পালিয়েছে। গৃহহীন ১ লাখ ২৬ হাজার পরিবার।

জঙ্গিমুক্ত হলেও শহরের সর্বত্রই ধংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্ট। পূর্বের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম মসুল। জাতিসংঘের হিসেবে পশ্চিম মসুলের ৫৪টি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি ধংস হয়েছে ১৫টি আবাসিক জেলা। শহর ছাড়ার আগে জঙ্গিদের পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে এখনো ঘটছে হতাহতের ঘটনা।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইটের ছবিতে মসুলের ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এতে দেখা যায়, অভিযান শুরুর আগে মসুলের ২১ শতাংশ আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযান শুরুর প্রথম পাঁচ মাসে সেই সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪৭ শতাংশে। আর পুরো অভিযান শেষের পর পুরোপুরি ধংস হওয়া ভবনের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ যার ৯৮ শতাংশই আবাসিক ভবন। তবে বিশ্লেষকদের মতে জাতিসংঘের স্যাটেলাইটে আসল ভয়াবহতার চিত্র ধরা পড়েনি। আসল ক্ষয়ক্ষতি আরো ভয়াবহ বলে মত তাদের।

মসুল পুনর্গঠন অভিযানকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি বৃহত্তম পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পুনর্গঠনের চেয়েও মসুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরাক সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মত তাদের।

সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট

Facebook Comments