একটি ঝড়ের সকাল ঃ কাশফিয়া আঁখি

সারাটা রাত বিদ্যুত যাই আসি যাই আসি করে এক সময় র্দীঘ ছুটিতে পালালো। মা আমাকে তালের হাত পাখা নেড়ে নেড়ে বাতাস দিচ্ছেন। গরমে ঘামে ভিজে জবুথবু হয়ে ক্লান্ত আমিও এক সময় নেতিয়ে পরলাম ঘুমের কোলে।
হঠাৎ বুবুর ডাক কানে এলো।
চাপা গলায় বুবু ডাকছে , এই দীপ্ত উঠ ! আয় আমার সাথে। উঠ বলছি ..(এবার আমার গায়ে সজোরে ঠেলা দিলো বুবু)।
আমি কোন রকমে চোখ তুলে তাকালাম। বুবু ততক্ষনে আমাকে টেনে তুলে বসিয়ে সেন্ডু গেঞ্জির এক অংশ ডান হাত দিয়ে ঢুকানোর চেষ্ট করছে।
আমি চোখ রগরাতে রগরাতে বললাম , বুবু এখনো তো বাইরে অন্ধকার। এতো সকালে কই যাবো ?

বুবু নিজের ঠোঁটে হাতের আঙ্গুল রেখে … হিইশশশশশশ… শব্দ তুলে বললো ,
বাবা ঘুমাচ্ছে আস্তে কথা বল। বাবা জেগে গেলে আমার সব প্ল্যান পন্ড হবে। ঘরের বাইরে আর এক পা ও যেতে দেবে না তখন।
প্ল্যান কথাটা শুনে মর্হূতেই আমার সকল ঘুম পালালো দূরে কোথাও।
বুবুর প্ল্যান মানেই এডভ্যেঞ্চার। নতুন কিছু অভিজ্ঞতার ঝুলি আর এত্তো এত্তো মজা।

আমি বুবুর হাত ধরে ঘর থেকে বাইরে এলাম। বুবুর আরেক হাতে পানি রাখার ছোট্ট বালতি। ভেজা উঠানের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ভাঙা ডাল-পাতা , খড়-কুটো।
আমি বললাম , বুবু রাতে কি ঝড় হয়েছিলো ?
বুবুর কন্ঠে এবার উচ্ছ¡াস উছলে পরলো। বললো , হ্যাঁ রে.. রাতে খুব ঝড় হয়েছিলো। আর এ জন্যই তো তোকে নিয়ে আম কুড়াতে বের হলাম।
এক পশলা শীতল বাতাস ছুঁয়ে গেলো সারা শরীর। শিরশির করে উঠলো সারা গা। আমি লম্বা পা ফেলে হাঁটতে লাগলাম বুবুর সাথে।
চোখে মুখে কল্পনার ছবি ভাসছে পুরনো জমিদার বাড়ির আম বাগানে কাঁচা পাকা এত্তো এত্তো আম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
জলে আমার পা দুখানী ভিজে গিয়ে সেন্ডেলের সাথে কচ্ কচ্ আওয়াজ তুলছে। আর আমি বুুবুর পায়ের সাথে পাল্লাদিয়ে সমানে এগিয়ে যাচ্ছি সামনের দিকে।

পুরনো জমিদার বাড়িতে তারা কেউ আর থাকেনা এখন। মায়ের কাছে শুনেছি ৭১ এর যুদ্ধের সময় তারা ছেলে-পুলে নিয়ে ভারত গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। দেশ স্বাধীন হলেও তারা আর ফিরে নি। কেন ফিরেনি প্রশ্নের উত্তর মায়ের অজানা। কিন্তু আমি আমার মতো করে উত্তর খুঁজে নিয়েছি। যে দেশকে বিপদের সময় তারা ছেড়ে গেছে সে দেশের সু-দিনে কি কওে ফিরে আসে, কোন মুখে ফিরে আসে।
তাই তারা বাকিটা জীবন বংশ পরম্পরায় ভীন দেশে কাটিয়ে দিলো জীবন ।
গ্রামের অনেক ঘরবাড়িহীন গরীব লোকেরা তাদের ছেড়ে যাওয়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে।
জমিদারদের আম বাগানের দু পাশে মস্ত বড় দুটি দিঘী। মাঝখানে সারি সারি বড় বড় মোটা আমগাছগুলো। গাছগুলোর বাকল কালচে হয়ে গেছে। চারপাশে ডালপালা ছড়িয়ে আকাশের দিকে মুখ করে তরতর করে উপরে উঠে গেছে।
সে আম গাছের গা জুড়ে ছোট ছোট বটগাছ আর বণ্য অর্কিডরা বেড়ে উঠেছে অবাধ্য পরগাছার মতো।
হাতের বালতি এক পাশে নামিয়ে রেখে দু হাতে আম কুড়াঁতে লাগলো বুবু।
আমি ও বা কম যাই কিসে। বুবুর হাত ছেড়ে দু হাতে পাকা কাঁচা আম কুড়াতে লাগলাম। খুশিতে মনটা নেচে উঠলো। এতো আম পরে আছে অথচ কেউ তুলতে আসেনি আজ। অদ্ভুত লাগছিলো আমার কাছে ।
আমাদের বালতি আমে প্রায় ভর্তি হয়ে এসেছে।
আকাশ ফরসা হয়ে এসেছে এরই মাঝে। আবছা রূপালী আলো অন্ধকার কেটে আপন জায়গা দখল করে নিচ্ছে। বুবু পুকুরের র্পূব পাড়ে এক ঝোপের ধারে দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকলো এই দীপ্ত.. শোন!
আমি দৌঁড়ে কাছে যেতেই মাটিতে ইশারা করলো। একটা পাখির ছানা মাটিতে বসে থরথর করে কাঁপছে। একটা ডানা মুচড়ে আছে। বুবু নরম হাতে ছানাটিতে তুলে নিয়ে এলো।
তারপর খুব ভালো করে এদিক ওদিক তাকালো। যদি ছানাটির বাবা মায়ের দেখা মেলে।
নাহ্ গাছের কোথাও কোন পাখিকে দেখা গেলো না।
বুবু বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করে শেষে আমাকে বললো, নে খুব সাবধানে ছানাটি ধর।
আমি দু হাতে খুব যত্ন করে ছানাটিকে ধরলাম। বুবু আমের
বালতি হাতে তুলে নিয়ে বললো , চল এবার বাড়ি যাই।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে আমার মনে পড়ছিলো।
বছর খানেক আগে বাবা বুবুকে এক জোড়া কোয়েল পাখি এনে দিয়েছিলো খাঁচা সহ।
বাড়িতে থাকা চতুর বিড়ালটি একদিন বুবুর অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে ডিম দেয়া কোযেল পাখিটিকে কামড়ে নিয়ে পালায়। রক্তাক্ত পাখিটি ছটফটাতে থাকে বিড়ালের মুখে। মাটিতে ঝরা পালক বাতাসে উড়তে থাকে এলোমেলো ভাবে।
শোকে শোকাতুর হয়ে অন্যপাখিটি ও খাবার দাবার ছেড়ে দিনের পর দিন এক কোনায় বসে ঝিমুতো। পরে একদিন নিজের প্রতি অবহেলা করতে করতে মারা যায় অন্য কোয়েল পাখিটি।
মনের কষ্টে বুবু আর কোন পাখি পোষেনি। খাঁচাটি অযত্নে পরে আছে এখনো।
বুবু বাড়ি এসে লাকড়ির ঘরের মাচা থেকে সেই খাঁচাটি নামায়। পুরনো পেপার কেটে তাতে জুড়ে দেয়। পাশের বাড়ির খড়ের গাদা থেকে আমি দু মুঠো খড় এনে দিলাম। বুবু ছানাটিকে খাঁচার ভেতর তার নতুন তৈরি বাসায় ঢুকিয়ে দিয়ে বিজ্ঞের মতো
বললো , দীপ্ত তুই হাত মুখ ধুয়ে পড়তে বস। ছানাটির এখন বিশ্রাম প্রয়োজন।
বুবুর কথা আমার কাছে শেষ কথা। আর একটুও দেরি না করে ব্রাশে পেষ্ট লাগিয়ে আমি ছুটলাম কলপাড়ের দিকে।
সকালের খাবার খাওয়ার পর আর সময় থাকেনা আমার হাতে। আমি তৈরি হয়ে স্কুলে চলে যাই আমি। সকালে পাওয়া ছানা কথা মাথা থেকে বেড়িয়ে গেছে স্কুলে পা দেবার আগেই। কিন্তু,স্কুল থেকে ফিরে উঠানে পা রাখতেই চোখে পরলো বুবু তার কোলের উপর ছানাটিকে রেখে খুঁটে খুঁটে খাবার খাওয়াচ্ছে। দেখতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।
আমি ঘরের ব্যাগ রেখে সোজা বুবুর কাছ ঘেঁষে বসলাম।
বুবু এটা কোন পাখির ছানা ?
শালিক কিংবা দোয়েল হবে ।
দোয়েল হলে আমি বেশি খুশি হবো।
কেনো ?
বারে , দোয়েল আমোদের জাতীয় পাখি। একটা জাতীয় পাখির যত্নআত্তি করছো ভাবতেই সুখে বুকটা ভরে যায়।
জাতীয় পাখি কি অন্য পাখি তাতে কি এসে যায় ভাই। আমরা একটা অসুস্থ ছানাকে সেবা দিয়ে সারিয়ে তুলতে চাইছি এটাই হলো বড় কথা।
ঠিক বলেছো বুুবু। অসুস্থ ছানাটির সুস্থ হওয়াই আসল কথা।
এইতো আমার ভাইয়ের মতো কথা। এবার যা তো ভাই রান্না ঘরের বেড়া থেকে একটা পাটকাঠি নিয়ে আয়।
এক দৌঁড়ে কাটকাঠি এনে বুবুর হাতে দিতেই বুুবু পাটকাঠি চিড়ে পাখির মুচড়ে যাওয়া পালকের দু পাশে রেখে আমাকে ধরতে বললো। তারপর নরম কাপড় দিয়ে সারা পাখাটি জড়িয়ে দিলো।
আমিও বুবুকে সাহায্য করতে চাই ছানাটিকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে। তাইতো বিকেল বেলা মাঠে না গিয়ে আমি ছানাটির জন্য পোকা ধরতে লাগলাম। উঁই পোকা ধরতে মোটেই কষ্ট পেতে হলো না। ছানাটিও উঁই পোকা মুখে তুলে দিলে টুপ করে গিলে নেয়। আর আমি পাশে বসে সে দৃশ্য দেখে তৃপ্তির সুখ পাই।

এভাবে চলতো থাকলো ভাইবোনের পাখির সেবা শুশ্রষা।
টানা একমাস যাবার পর বদলে যেতে থাকলো চিত্র…
সাদা আর কালো রঙের পালকে ঢেকে যেতে লাগলো ছানাটির গা। চকচকে সাদা আর কালো পালকে তাকে অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছে। মুচড়ে যাওয়া পাখাটির বাঁধন খুলে নিয়েছে বুবু আর সপ্তাহখানেক আগে। এখন ছানাটি পাখা নাড়িয়ে হেঁটে বেড়ায় খাঁচার এ মাথা-ও মাথা।
খাবার ঘরের কাঠের সাথে খাঁচাটিকে ঝুলিয়ে রাখে বুবু। এবার যেনো লোভী বেড়ালের কোন ফন্দি কাজ না দেয়।
বাতাসে খাঁচাটি দুলতে থাকে। দোয়েলছানা তার কচি গলায় সুর তুলতে চেষ্টা করে..হিইশ ..হিইশশ.. হিইইশশ.. ।
আর নিচে রাগে গরগর করতে করতে পায়চারী করতে দেখা যায় লোভী বেড়ালটিকে।
আমি দেখি আর মনে মনে বলি, বিড়াল মামু, এবার আর তোমার কোন কেরামতি কাজ দিতো না।

বুবুর নতুন ব্যস্ততা শুরু হলো। ছানাটিকে উড়তে শেখানোর জন্য উঠেপড়ে লাগলো সে। কোলের উপর থেকে , হাতের উপর থেকে, কাঁধের উপর শেষে পড়ার টেবিলে রেখে চলতো লাগলো তার উড়তে শেখা প্রশিক্ষণ। শেষ র্পযন্ত ১৮দিনের মাথায় সফল হলো বুবু। তার খুশি যেনো আর ধরেনা।
ছানাটি ততোদিনে পরির্পূণ দোয়েল হয়ে গেছে। খোলা খাঁচার দরজা পেরিয়ে সে এখন একটু একটু করে গা ভাসাতে শুরু করেছে বাতাসের কাঁধে। খাবার ঘর পেরিয়ে লেবু গাছ তারপর ডালিম গাছে চলে এখন তার সরব পদচারণা।
খাবারের জন্য এখর আর অপেক্ষার দৃষ্টি নিয়ে বুবুর জন্য পথ চেয়ে থাকতে দেখা যায়না দোয়েল ছানাটিতে। বরং নিজেই খাবার শিকার করার কৌশল আয়ত্ব করে নিয়েছে সে।
সেদিন বিকেলে খাঁচার দুয়ার বন্ধ রেখেই বুবু প্রাইভেট পড়তে চলে গেছে। তার ফিরতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক। স্কুল ফিরে আমি তখন খাবারের থালা হাতে নিয়ে খাবার ঘরের দুয়ারে বসে একমনে খাবার খাচ্ছি। মা পানি ভর্তি গ্লাসটা এগিয়ে দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলেন।
দোয়েলের কিচির-মিচির আওয়াজে আমি চোখ তুলে তাকালাম খাঁচার দিকে। খাঁচার বাইরে এক জোড়া দোয়েল উড়ে বেড়াচ্ছে আর খাঁচাটির কাছে এসে কিচির-মিচির করে আওয়াজ করছে।
আমার বুকটা আঁতকে উঠলো , মনে মনে বলে উঠলাম। ওরা ছানা দোয়েলে বাবা মা নয় তো!

খাবার শেষ করে খাঁচার দরজাটি খুলে দিতেই দোয়েল ছানাটি ফুড়–ৎ। ডালিম গাছের ডালে বসে ছানা দোয়েলটি নেচে নেচে কিচির-মিচির আওয়াজ তুলে যাচ্ছে। আর ছানা দোয়েলটির দুই পাশে বড় দোয়েল বসে আছে।
সাঁঝের আগে রোজকার মতো ফুটবল খেলে বাড়ি ফিরেছি আমি। ফুটবলটি খাবার ঘরের চৌকির নীচে রাখতে গিয়ে খেয়াল করলাম ছানা দোয়েলটি খাঁচায় বসে আপন সুখে হিইইইশশশশশশশশ.. সুরে ডাকছে।
আশেপাশে আর কোন দোয়েল চোখে পরলো না।
রাতে ঘুমাতে যাবার আগে আমি বুবুকে বিকেলের ঘটনাটি বললে বুবুকে চিন্তি দেখালো।
আমি আর প্রশ্ন করিনি, কি ভাবছে সে?
আমি একটা লম্বা ঘুমের প্রস্তুতি নিয়ে মনেমনে বলি , কাল শুক্রবার খুব মজা করে সকালের ঘুমটা দিবো।
নাহ্ বুবুর জন্য বেশি বেলা র্পযন্ত ঘুমানো গেলো না। এক প্রকার বিরক্তি নিয়ে চোখ মেলে তাকালাম তার দিকে। তার ¯িœগ্ধ মুখখানী বেশ মলিন লাগছে। আমি চমকে গেলাম তার মুখটা দেখে।
মা কি এই সাত সকালে বুবুকে বকা দিলো নাকী ! তাকে এতো বির্মষ কেনো লাগছে। বুবুর হাতে পাখির খাঁচা। খাঁচার ভেতরে থাকা দোয়েল ছানাটিকে অনেক বেশি শান্ত দেখাচ্ছে।
মনে হচ্ছে তারা দুজন গলাগলি করে কত কথা বলে এসেছে একটু আগে।
বুবু বললো, আমার সাথে আয় জলদি।
আমি আর কোন প্রশ্ন না করে হাফ হাতার গেঞ্জিটা পরতে পরতে সেন্ডেল পায়ে ঢুকিয়ে দিলাম দৌঁড়। বুবু ততক্ষনে উঠান পেরিয়ে রাস্তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বুবুকে কোন প্রশ্ন করার সাহস হচ্ছেনা। চুপচাপ দেখে যেতে লাগলাম সে কি করছে।
ঝড়ের সকালে আমরা যে জমিদার বাড়ির আমবাগানে এসে আম কুড়িয়েছিলাম বুব সেখানে এসে একটা মোটা আমগাছের তলায় দাঁড়ালো। কিছু সময় এদিক ওদিক তাকালো।
তারপর সে খাঁচার দরজাটি খুলে দিলো। দোয়েল ছানাটি খোলা দরজা পেয়ে বাইরে বেড়িয়ে এসে নেচে নেচে হাওয়ায় উড়তে লাগলো। এ আম গাছ ও আমাগাছের ডালে বসতে লাগলো। খানিক সময় যেতে নি যেতেই এক জোড়া দোয়েল এসে যোগ হলো তার সাথে । তারা ৩টি দোয়েল এবার নিজেদের গল্পে মশগুল হয়ে পরলো।
বুবু এক দৃষ্টিতে সেদিকে চেয়ে আছে। এবার আমি আমার সকল না বলা প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছি ।
বুুবুর চোখ দুটি র্বষার জলে ভরা টুইটুম্বুর দুটি দিঘীর মতো দেখাচ্ছে। যেনো যে কোন সময় জল গড়িয়ে পরবে চারপাশে।
আমার দিকে না তাকিয়ে বুবু বললো, চল দীপ্ত এবার বাড়ি যাই।
চোখের জল লুকানোর চেষ্ট তার।
আমি আর কোন প্রশ্ন করিনি কিন্তু, সে নিজে নিজে বললো , আজ আমাদের দায়িত্ব শেষ ভাই।
ছানা দোয়েলটিকে সেবা দিয়ে সুস্থ করে তার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছি।
আমার মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেলো , বুবু দোয়েল ছানাটির জন্য আমার যে কষ্ট হচ্ছে।
বুবুও তার সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বললো , আমারও কষ্ট হচ্ছে ভাই। কিন্তু পাখিটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার চেয়ে সুখ আর কোথায় পাবো।
খাঁচা নয় খোলা বন-বাঁদাড়ই হচ্ছে পাখিদের থাকার আর্দশ জায়গা। যেমন আমাদের থাকার জন্য আপন ঘর,আপন পরিবার । ওদের বেলায় ও তাই। আপনজনের কাছেই সবথেকে বেশি সুখ।
আমরা আমাদের মায়ের কাছে ফিরি চল..
দোয়েল ছানাটিও তার মায়ের কোলে ভালো থাকুক ।
মায়ের ভালোবাসায় মাখামাখি হয়ে কাটুক তার বাকি দিনগুলো।

 

বিঃদ্রঃ কপি বা প্রকাশনার জন্য কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

সিলনিউজ২৪.কম

Facebook Comments