নিউজটি পড়া হয়েছে 106

বাহুবলে চার শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসির আদেশ।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে চার শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর অন্য ২ আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে ৩ জনকে।

বুধবার (২৬ জুলাই) সকালে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ মকবুল আহসান এই রায় দেন। এদিকে মামলার প্রধান আসামি খালাস পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। আর ন্যায় বিচার না পাওয়ার অভিযোগ আসামিপক্ষের।

সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার চার্জশিটভুক্ত ৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের উপস্থিতিতে বিচারক রায় পড়ে শোনান। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রুবেল, আরজু মিয়া ও পলাতক আসামি উস্তারের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এছাড়া অন্য আরো ২ আসামি জুয়েল ও শাহেদকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং মামলার প্রধান আসামি আব্দুল আলী, পলাতক বাবুল ও বিল্লালকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

সিলেট পিপি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘তিন জনের ফাঁসি, দুই জনের ৭ বছর করে কারাদণ্ড এবং তিন জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।’

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিভাগীয় স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট না। আমরা আশা করেছিলাম এই রায়ে সকল আসামিদের মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।’

এদিকে ৪ শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি খালাস পাওয়ায় সমাজে বিরূপ প্রভাব পরবে বলে করছেন জেলা আইনজীবী পরিষদের সভাপতি।

সিলেট জেলা আইনজীবী পরিষদ সভাপতি মোহাম্মদ লালা বলেন, ‘প্রধান অভিযুক্ত, যে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে তাকে ছেড়ে দেওয়া মোটেই যুক্তিযুক্ত হয়নি। যদিও তিনজনকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। কারণ এই মামলার প্রধান যে আসামি তাকে অন্তত মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত ছিল। যেহেতু চারটা শিশু সন্তান, সমাজে এটার মারাত্মক ইফেক্ট পড়বে।

অন্যদিকে রায়ে ন্যায়বিচার না পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আমরা এ রায়ে ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা এ বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা খুব শীঘ্রই উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

২০১৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চার শিশু নিখোঁজ হয়। এর ৪ দিন পর, বাড়ির পাশের জমি থেকে মাটি চাপা অবস্থায় শিশুদের লাশ উদ্ধার করেন গ্রামবাসী। পরে ১৬ই ফেব্রুয়ারি নিহত মনিরের পিতা আবদাল মিয়া বাদী হয়ে বাহুবল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ৪ এপ্রিল আবদুল আলী, তার ছেলে রুবেল, জুয়েলসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। সূত্র: সময় টিভি

ফেসবুক মন্তব্য
xxx