নিউজটি পড়া হয়েছে 106

দেশের চারুকলার মান সব সময় উন্নত: অর্থমন্ত্রী

সিলনিউজ২৪.কমঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘শিল্পকলার বিভিন্ন অনুষঙ্গ রুচির বিকাশে যে সহায়ক ভূমিকা রাখে, তা সবার স্বীকার করা উচিত। এই রুচির বিকাশ জাতীয় জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের দেশে চারুকলার মান সব সময় উন্নত। আমরা সেই মান ধরে রাখতে পেরেছি, আরও বিস্তৃত করছি।’
আজ বুধবার বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ২২তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতিসচিব ইব্রাহীম হোসেন খান ও বরেণ্য শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে স্বাগত দেন একাডেমির চারুকলা বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। বিচারকমণ্ডলীর পক্ষে বক্তব্য দেন শিল্পী সৈয়দ আবুল বারক্‌ আলভী।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘দেশে শিল্পীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমন শিল্প অনুরাগীদের সংখ্যাও বাড়ছে। একসময় চিত্রকলা কেনার জন্য আমরা বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতাম, কিন্তু এখন দেশের মানুষও ছবি কিনছে।’
বুধবার থেকে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয়েছে ২২তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনী। শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত।
২২তম জাতীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে ৩৩২ জন শিল্পীর ৩৮৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে চিত্রকলা ২৬৫টি, ভাস্কর্য ৬৩টি, স্থাপনা ও অডিও-ভিডিও ৪৭টি ও নিউ মিডিয়ার সংখ্যা ৯টি। এ থেকে যাচাই-বাছাই করে ১০টি ক্যাটাগরিতে ১০ জন শিল্পীর ১০টি শিল্পকর্মকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছেন বিচারকেরা। এবার ‘আয়লান কুর্দির স্মরণে’ ভিডিও ইলাস্ট্রেশনের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (সব মাধ্যমের শ্রেষ্ঠ) পুরস্কার পান হারুন অর রশিদ টুটুল। চিত্রকলা বিভাগে ‘নৃশংসতার সুর’ ছবির জন্য আনিসুজ্জামান সোহেল পান সম্মানসূচক পুরস্কার। ভাস্কর্য বিভাগে সম্মানসূচক পুরস্কার পান শ্যামল চন্দ্র সরকার, তাঁর শিল্পকর্মের নাম ‘অদম্য’। ছাপচিত্র বিভাগে ‘রিডিমিং স্পেস-১’ ছবির জন্য শিল্পী আনিসু্জ্জামান, ‘ক্ষুধা ও পূর্ণিমার চাঁদ’ শিল্পকর্মের জন্য নিউ মিডিয়া বিভাগে উত্তম কুমার রায় শিল্পকলার সম্মান পুরস্কার পান। ‘শাশ্বত অস্তিত্ব-৩০’ শিল্পকর্মের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশন পুরস্কার পান সৌরভ চৌধুরী, ‘সময় ও বাস্তবতার জটিলতা’র জন্য ছাপচিত্র বিভাগে রুহুল আমিন তারেক পান এবি ব্যাংক পুরস্কার, ‘রেস্টোরেশন-২’ শিল্পকর্মের জন্য ভাষাসৈনিক গাজীউল হক পুরস্কার (ছাপচিত্র) পান কামরুজ্জামান। ‘ঐতিহ্য-২’ ছবির জন্য বেগম আজিজুন্নেছা পুরস্কার (চিত্রকলা) পান মো. কামালুদ্দিন, নিউ মিডিয়া বিভাগে শুভ ঘোষ পান দীপা হক পুরস্কার, তাঁর শিল্পকর্ম ‘মাতৃগর্ভ-২’।
আয়োজকেরা জানান, এবারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য ৬৩০ জন আবেদনকারীর ১ হাজার ৮৯০টি শিল্পকর্ম জমা পড়েছিল। এসব শিল্পকর্ম থেকে বিশিষ্ট শিল্পীদের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন কমিটির সদস্যরা ৩৩২ জন শিল্পীর ৩৮৪টি শিল্পকর্ম নির্বাচিত করেন। এ নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিল্পী তরুণ ঘোষ, রণজিৎ দাস, নাসরীন বেগম, মোস্তফা জামান মিঠু ও রফি হক। আর পুরস্কার প্রদানের লক্ষ্যে বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন শিল্পী সৈয়দ আবুল বারক্‌ আলভী, শিল্পী মনসুর উল করিম, শিল্পসমালোচক মঈনউদ্দিন খালেদ, শিল্পী জামাল আহমেদ ও শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx