নিউজটি পড়া হয়েছে 276

একজন ইউএনও,কবি তারিক সালমনের গল্প

বাড়ে জলস্রোত শুধু, মেঘেরা অধীর
ছায়া এসে দেয় ঢেকে তোমার শরীর

আকাশে রয়েছে লেখা তোমার বিষাদ
তোমাকে তাকিয়ে দেখি – অতল সে খাদ

খাদের কিনারে একা উড়ছে যে পাখি
আমি তার ছায়াছবি বুকে চেপে রাখি।

লিখেছেন তারিক সালমন। ৩০ জুন তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেছেন। তারিক সালমন মানে গাজী তারিক সালমন অয়ন। বর্তমানে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সম্প্রতি যার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা হয়েছে। হাতে হাতকড়া পরেছে। যাকে নিয়ে দেশজুড়ে এখন চলছে তোলপাড়, সেই তারিক সালমনের লেখা কবিতা এটি। তিনি শুধু সরকারি দফতরের দায়িত্ব পালনেই সীমাবদ্ধ নন, তিনি একজন কবিও।

গাজী তারিক সালমন অয়নের জন্ম ১৯৮৩ সালের ২৮ আগস্ট। সাতক্ষীরা জেলা শহরে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা করেছেন যশোর জিলা স্কুলে এবং যশোরের ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকায়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে। অতপর ২৮ তম বিসিএসের মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন সরকারি দফতরে।

২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় তার ‘সহজ প্রেমের কবিতা’ বই প্রকাশিত হয়েছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলজুড়ে রয়েছে বিখ্যাত সব বইয়ের খোঁজ। তার সংগ্রহে থাকা বা হাতের নাগালে পাওয়া বই সম্পর্কেও লিখেছেন টুকটাক। সামহোয়ার ইনব্লগেও একসময় লিখতেন তারিক সালমন।

সংস্কৃতিমনা ও নান্দনিক শিল্পবোধসম্পন্ন এই ইউএনও-কে হেনস্তায় তার নিজ কর্ম এলাকায় যে মামলা হয়েছে, তাতে অভিযোগ তোলা হয়েছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ‘বিকৃতি’র! আর এই অভিযোগে মামলা ঠুকে দিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। আর এতেই কোনঠাসা অবস্থা হয়েছে কবির। ন্যায় ও সততার সঙ্গে কাজ করে যাওয়া তারিক সালমনের হাতে পরেছে হাতকড়া।

মামলা সম্পর্কে জানা যায়, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ইউএনওর দায়িত্বে থাকার সময় ২০১৭ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে একটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করা হয়। এই আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি ছাপা হয়, যেটি পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর আঁকা। আর এই ঘটনায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদুল্লাহ সাজু ৭ জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তারিক সালমনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারি করেন। জুনে তারিক সালমন বরগুনা সদর উপজেলার ইউএনও পদে বদলি হন। মানহানির ওই মামলায় ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও ঘণ্টা দুই পরেই পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে আদালত ২৩ জুলাই মামলার ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

যে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে এত বিতর্ক

এই আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর ছবিটি বিকৃত বলে অভিযোগ তুলেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। ছবি: সংগৃহীত

এই ঘটনায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। আর তারিক সালমনকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে।

কর্মজীবনে এই কর্মকর্তার সততা ও একনিষ্ঠতার প্রশংসা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর যে ছবি নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, সেটি কোনোভাবেই ‘বিকৃত’ হতে পারে না। একজন শিশু মনের মাধুরী মিশিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছে। শিশুরা যখন কোনো কাজ করে, তা মন থেকেই করে। আর শিশুর আঁকা দারুণ এই চিত্রকর্মটি স্থান পেয়েছে স্বাধীনতা দিবসের আমন্ত্রণপত্রে। এর মধ্য দিয়ে একজন আমলার শিল্পবোধ, নান্দনিকতা ও রুচিশীলতার পরিচয়ও ফুটে উঠেছে। যা খুব একটা দেখা যায় না। অথচ এটিকে একটি পক্ষ সুযোগ বানিয়ে ঘায়েল করা হলো সেই ব্যক্তিকেই।

তবে সব জায়গায় উঠে এসেছে তারিক সালমনের সততা ও একনিষ্ঠতার কথা। বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি তার নীতি ও সততাকে একটুও ছাড় দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু, জুনিয়র ও শিক্ষকরা বলছেন, অয়ন যথেষ্ট মেধাবী, সৎ ও সজ্জন ব্যক্তি। তার ‍বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কোনোভাবেই মানা যায় না।

তারিক সালমন একজন বইপ্রেমী। তার ফেসবুক টাইমলাইন ঘাঁটলে পাওয়া যাবে বইয়ের তথ্য। পাওয়া যাবে কবিতা। সহজ প্রেমের কবিতা। তারিক সালমনের কবিতা।

‘রাতের গান’ শিরোনামে একটি কবিতা ২৭ জুন পোস্ট করেছেন তিনি।

বাতাসে বাজছে বাঁশি
তুমিও নিখোঁজ
আমাকে বাজিয়ে যেয়ো তুমি এসে রোজ

তোমার শরীর থেকে উড়ে আসে রাত
এই ঘর ভরে যায় কফির সুবাসে
বাতাসের সাথে মেশে মেঘমল্লারও
আমার দুকূলজুড়ে মেঘ করে আসে

‘সহজ প্রেমের কবিতা’ বইয়ের প্রচ্ছদ

২০১৬ সালে তারিক সালমনের প্রথম বই ‘সহজ প্রেমের কবিতা’ প্রকাশিত হয় চৈতন্য থেকে।

দেশপ্রেম রয়েছে অয়নের হৃদয়জুড়ে। তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে গ্রামীণ আবহের মনকাড়া কয়েকটি ছবি রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ সেই দৃশ্যের সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও/ আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব’।

দেশে প্রায় কয়েক ডজন ঈদ সংখ্যা বের হয়। সেখান থেকে কয়েকটি বাছাই ঈদসংখ্যা কিনেছেন তারিক। এ নিয়ে লিখেছেন, অন্যান্যবার ধরা খেয়েছি গাদাগাদা ঈদসংখ্যা কিনে। বেশিরভাগ ঈদসংখ্যাতেই পড়ার মতো বস্তু খুঁজে পাওয়া কঠিন। এবার তাই খুব দেখেশুনে কিনলাম মাত্র চার-পাঁচটা।

ঈদের ছুটিটার যেন সদ্ব্যবহার হয়, সেজন্য তিনি সতর্ক ছিলেন। সঙ্গে নিয়েছেন পড়ার বই। রহস্যে ভরপুর লেখাগুলো ছিল এবারের ঈদের সঙ্গী। তিনি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ঈদের ছুটি কিছুটা লম্বা এবার। রহস্যকাহিনির স্টকটাও তাই খানিকটা বড়সড় করে রাখতে হচ্ছে।’

শুধু দেশি ঈদসংখ্যাই নয়, তার সঙ্গে ছিল ওপার বাংলার শারদীয় সংখ্যাগুলোও। তিনি লিখেছেন, ‘যে যাই ভাবুক না কেন, আমি কিন্তু কাউকে বিন্দুমাত্র লোভ দেখানোর জন্য আমার রিডিং টেবিলের এই ছবিটা দিইনি।’

 

বইপোকা ছিলেন তারিক। শুধু দেশ-বিদেশের সব বিখ্যাতদের বই ছিল তার সংগ্রহে। তিনি ছিলেন সচেতন পাঠকও। ওপার বাংলার প্রায় সব খ্যাতনামা লেখকদের বইও তার দখলে ছিল শত শত। ভিন্ন ভাষার লেখকরা সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি, যার প্রমাণ রয়েছে ফেসবুক টাইমলাইনে।

তিনি লিখেছেন, ‘আজ বেশ ভালো লাগছে কড়কড়ে ৬২ টি গল্পের মালিক হতে পেরে। ৫০ টি গল্প হর্ষ দত্তের, আর ‘দেশ’ পত্রিকার গল্প সংখ্যার আরও বারোটি গল্প, সবগুলো মিলে সিক্সটি টু। ৮৪ বছর বয়সী ‘দেশ’ পত্রিকার সাথে হর্ষ দত্তেরও অবশ্য সম্পর্ক আছে একটা – বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠতম এই সাময়িকীটির বর্তমান সম্পাদক তিনিই।’

শুধু পড়ুয়া নন, দেশে সিরিয়াস লেখকদের পাঠক বাড়ছে এই তথ্য জানান দিয়েছেন তিনি। শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’ বইটি খুঁজে পেতে সময় লেগেছে এবং তা খুঁজতে গিয়েই তিনি এমন মন্তব্য করেন,

বিশেষ কোনো বই নিয়ে খুব একটা হাইপ উঠতে দেখা যায় না হুমায়ূন-পরবর্তী জামানায়। ব্যতিক্রম ঘটিয়ে দিলো শাহাদুজ্জামানের ‘একজন কমলালেবু’। বইমেলা চলাকালীন রকমারিডটকমে অর্ডার দিয়ে এই বইটি পাইনি সব কপি ফুরিয়ে গেছে বলে। বরিশালের বুক ভিলায় ২০ কপি এসেছিল যা শেষ হয়ে গেছে আসার একদিনের মধ্যেই! পরের দফায় আরও দশ কপি পেয়েছে বইয়ের দোকানটি, যা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য (ছবিতে সেই দশটি কপিরই একটি)। ভাল্লাগছে, সিরিয়াস ঘরানার লেখক শাহাদুজ্জামান এতটা জনপ্রিয়তা পাওয়ায়। বাংলাদেশি আম-পাঠকেরা সাবালক হচ্ছে হয়তো। জয়তু শাহাদুজ্জামান।

আবার রান্নার ঘরেও তিনি পিছিয়ে নেই। তিনি একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন,

এর আগের পোস্টের সুবাদে মোটামুটি রাষ্ট্র হয়ে গেছে যে, বউ বাসায় নেই এবং শিঙ্গাড়া আমি বেশ ভালোই বানাই। তবে কেউ কেউ শিঙ্গাড়ার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, ‘নতুন গজিয়ে ওঠা রন্ধনবিদ’ বলে ব্যঙ্গ করেছে, কেউ কেউ শিঙ্গাড়ার গড়ন ও চেহারা, এমনকি রঙ নিয়েও বাঁকা কথা বলেছে। তো, এবার ভাবলাম ছোটখাটো কিছু নয়, বরং আপাতদৃষ্টিতে কঠিন ও জটিল কিছু বানিয়েই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করি। মূলত সে কারণেই এই অসাধারণ পাস্তার সৃষ্টি। অন্য কিছু নয়।

স্ত্রী ও পুত্রের সঙ্গে সালমন।

ভারতে ঘুরতে যাওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া ছবি।

এই কবির বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে জানা গেছে, গত এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে আগৈলঝাড়ার শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পিয়াল নামের এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন। পিয়াল স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে। বহিষ্কৃত হয়ে পিয়াল ইউএনওর সঙ্গে অসদাচরণ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পিয়ালকে নকল সরবরাহের দায়ে একই দিন ওই কলেজের দপ্তরি নারায়ণকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নকল সরবরাহের দায়ে কলেজের প্রভাষক অরুণ বাড়ৈকে পরীক্ষা-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কারণে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী মহল তারিক সালমানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

এছাড়াও আগৈলঝাড়া উপজেলায় সোলার প্যানেল স্থাপনে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া ৭৯ লাখ টাকা ফেরত পাঠান ইউএনও তারিক সালমান। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ওই টাকা নিজেদের মতো করে খরচ করতে চেয়েছিলেন।

এসব ঘটনাও মামলার পেছনে কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তারিক সালমন বলছেন, আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থাকাকালে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেশ কিছু অভিযান চালিয়েছেন। এতে উপজেলার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনেকে সাজা পেয়েছে। এছাড়া টিআর  (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের কাজ কঠোরভাবে তদারকি করায় আমাকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির রোষাণলে পড়তে হয়। তারা আমার কোন দুর্নীতি খুঁজে না পাওয়ায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত ছবি নিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।

ইউএনও বলেন, আসলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমার উপর আগের থেকেই ক্ষিপ্ত ছিল। আমার ক্ষতি করার কোনো সুযোগ না পাওয়ায় এ ধরনের ভোগান্তির মধ্যে আমাকে ফেলা হয়েছে।

তারিক সালমন জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর প্রথমে বরিশাল আদালতের কোনো আইনজীবীই তার পক্ষে মামলা লড়তে রাজি হননি। পরে আইনজীবী মোখলেছুর রহমান মামলা লড়তে রাজি হন।

শিল্পী রফিকুন নবীসহ কয়েকজনের সঙ্গে তারিক সালমন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিকেলে। 

 

এবার একটি কবিতা পড়া যাক। কবি তারিক সালমনের কবিতা,

সেও ছিল এক বর্ষার মওসুম
একগুচ্ছ ফুলের মতো শরীর থেকে তার
নেমে আসত বিষণ্ন বিদ্যুত
চোখ থেকে হিরকখণ্ড।

সেও ছিল বর্ষার মওসুম এক
জলের মতো নিরিবিলি
অন্ধকারের মতো দুর্বোধ্য
প্রেমের মতো মাতোয়ারা।

আর এই বর্ষায় কবির হাতে হাতকড়া লাগল। যেন এই বর্ষাটা জীবনের একটি অন্ধকার, একটি দুর্বোধ্য অধ্যায়!

সূত্রঃ প্রিয়.কম

ফেসবুক মন্তব্য
>