নিউজটি পড়া হয়েছে 364

ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতেই জুরাইনে দুই নারীকে হত্যা।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম ::: রাজধানীর কদমতলী থানার পূর্ব জুরাইন এলাকার দুই নারীর লাশ উদ্ধারের পৃথক দু’টি ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আসামি জামাল খান পাটোয়ারী ও রাজিব হাওলাদারকে সাভার ও ফতুল্লা এলাকা থেকে এবং আসামী মো. জাকির শিকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও মফিজ উদ্দিন সাগরকে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতেই দুই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। টাকা পয়সা চুরি মূল বিষয় ছিল না। দুটি ঘটনায় আসামিরা দুই নারীর পরিচিত ছিল বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে, গত ১৮ জুন দিবাগত রাতে কদমতলীর পূর্ব জুরাইন এলাকা থেকে পারুল বেগম ও ১০ জুলাই পূর্ব জুরাইনের শিশু কবরস্থান এলাকা থেকে ফরিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে জানা যায়, ওই দুই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারি বিভাগের উপ-কমিশনার বলেন, জামাল ও রাজীব পরস্পর বন্ধু। রাজীব ও নিহত পারুল পূর্বে একটি কীটনাশক কোম্পানিতে চাকুরী করতো। পারুলের স্বামী লিটন একজন গাড়ি চালক। মাঝেমাঝে সে বাড়ির বাইরে থাকতো। তা জানতো রাজীব। রাজীব তার বন্ধু জামালের সাথে বিষয়টি শেয়ার করে। জামাল একজন পেশাদার চোর। দু্ই বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে স্বামীর অনুপস্থিতিতে বাসায় গিয়ে মালামাল চুরি করবে।

“পরিকল্পনানুযায়ী রাজীব পারুলকে ফোন দিয়ে রাতে বেড়াতে আসার কথা জানায় এবং বেড়াতে যায়। যাবার সময় রাজীব ও জামাল পেয়ারা, আম, হালিম ও দুইটি কোমল পানীয়ের (স্প্রীড) বোতল নিয়ে যায়। কৌশলে তারা হালিম ও কোমল পানীয়তে ঘুমের ওষুধের গুড়া মিশিয়ে দেয়। বাসায় গিয়ে গল্পের ছলে সেগুলো খাওয়ায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পারুল গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে। এরপর দুই জনে মিলে পারুলকে ধর্ষণ করে। কিন্তু একাধিকবার ধর্ষণের এক পর্যায়ে পারুল কিছুটা চেতনা ফিরে পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করতে চাইলে জামাল তার গলা চেপে ধরে আর রাজীব মুখ চেপে ধরে এবং মুখ ও হাত-পা বেধে ফেলে। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পারুলের স্বর্ণের নাকফুল, ব্যবহৃত স্যামসাং মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।”

ফরিদা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ডিসি ফরিদ বলেন, শামীম ও সাগরের সাথে একই গার্মেন্টে চাকরি করতো ফরিদা। স্বামী মারা যাওয়ার পর ফরিদা একা থাকা শুরু করেন। এই সুযোগ নিয়ে সাগর, শামীম ও তাদের বন্ধু জাকির ফরিদার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনে পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনানুযায়ী গত ৭ জুন রাতে জোরপূর্বক তিনজনই ফরিদাকে ধর্ষণ করে। এরপর ফরিদা চিৎকার শুরু করলে চাকু মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে আঘাত করে। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

ধর্ষণের পর হত্যাকান্ডের দুই ঘটনায় গ্রেফতার আসামীরা জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। সূত্র: চ্যা: অা

ফেসবুক মন্তব্য
xxx