যুক্তরাজ্যে হয়ে গেল ব্যতিক্রমী শামুক দৌড় প্রতিযোগিতা।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম আআন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: প্রাচীনকাল থেকেই বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয় নানা ধরনের খেলা বা প্রতিযোগিতার। এসব বিনোদনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রায়ই আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার। ঘোড়দৌড়, ষাঁড়দৌড়ের পর এবার যুক্তরাজ্যে হয়ে গেল ব্যতিক্রমী শামুক দৌড় প্রতিযোগিতা। আর এ প্রতিযোগিতা ঘিরে দর্শকের উৎসাহেরও কমতি ছিল না।

ধীর গতির জন্য শামুকের খ্যাতি রয়েছে বিশ্বজুড়ে। আর সেই শামুককে নিয়েই আয়োজন, বিশ্ব দৌড় প্রতিযোগিতার।

পূর্ব ইংল্যান্ডের নরফোক এলাকার কংহ্যাম গ্রামে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় একটি টেবিলে ভেজা কাপড়ের ওপর বৃত্তাকার রেখা টেনে তৈরি করা হয় দৌড়ের পথ। গোলাকার সীমার মাঝ থেকে শুরু হয় ঢিমেতালে শামুক দৌড়।

এক জন দর্শক বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই এ প্রতিযোগিতা হয়ে আসছে। এটা পুরোপুরি ভাগ্যের ব্যাপার কোন শামুকটি জিতবে।

প্রতিযোগীদের আলাদাভাবে চেনার জন্য প্রত্যেকটি শামুকের খোলের ওপর লিখে দেয়া হয় নম্বরসহ স্টিকার। প্রতিযোগিতা শুরুর পর টেবিল ঘিরে উৎসুক দর্শকের চোখেমুখে ছিল একটাই প্রশ্ন কোন প্রতিযোগী সবার আগে অতিক্রম করবে ৩৩ সেন্টিমিটার দূরত্ব।

১৯৬০ সাল থেকে প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে এ ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আসরে দেড়শ’র বেশি শামুকের মালিক তাদের শামুক নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

এক জন প্রতিযোগী বলেন, ‘আজ সকালে আমাদের বাড়ির বাগান থেকে সবচেয়ে বড় শামুকটি খুঁজে বের করেছি। এর খোলসটি রং করেছি। শামুকটিকে লেটুস পাতা, শশা, গাজর খেতে দিয়েছি। এরপর সোজা এখানে নিয়ে এসেছি।’

এক দর্শক বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে বড় শামুকগুলো বেশি খাবার খাওয়ার কারণে অনেক ঢিমেতালে এগোচ্ছে। ছোট শামুকগুলোই ভালো করছে।

২০১৭ সালের আসরে সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে জয়ের মুকুটটি ছিনিয়ে নেয় নরফোকের স্থানীয় বাসিন্দা তারা বেসলির’র শামুক ল্যারি।

বেসলির বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বন্ধুকে চ্যালেঞ্জ করে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। খুবই ভালো লাগছে।

ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার পুরস্কারটিও কিন্তু একটু ভিন্ন। প্রতি বছরের মত এবারের দৌড় প্রতিযোগিতা জয়ী ল্যারির মালিকের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেয়া হয় একগুচ্ছ লেটুস পাতা।

Facebook Comments