প্রধানমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাসী হামলায় পঙ্গু মালেকের খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
অবদমিত মানুষের নেত্রী হিসেবে আপনি আমার শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছেন আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। অনেক দুঃখ এবং বেদনার্ত হয়ে আজ আমি আপনার স্মরনাপন্ন হয়েছি।
‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডান পা হারিয়ে এখন অামি জিন্দা লাশ। সব স্বপ্ন, অাশা-ভালবাসা শেষ। আপনার কাছে একটাই দাবি, এসব সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।

 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি আহমদ মালিক বাহরাইন প্রবাসী ছিলাম, দেশে ছুটিতে এসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে পা হারিয়ে এখন আমি অসহায় অাছি, পঙ্গুত্ব বরণ করি।
গত বছরে অন্যান্য প্রবাসীর মত নিজ পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে দেশে ফিরে আসি। কিন্তু দেশে ফিরে পরিবার, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগির পরিণতি গিয়ে ঠেকলো আমার জীবনের এক কালো অধ্যায়ে। দিনটি ছিল গত বছরের ১৫ জুলাই শুক্রবার। জুম্মার নামাজ শেষে আমার বাড়ির সামনেই এলাকার চিহ্নিত কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রথমে আমাকে মারধর ও পরে গুলি করে প্রাণনাশের চেষ্টা করে। ভাগ্যক্রমে আমার পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে বেঁচে যাই। তারপর আমাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় বেশ কিছুদিন কাটানোর পর,জীবন বাছাতে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের ডাক্তাররা গুলিবিদ্ধ আমার ডান পা-ই কেটে ফেলতে বাধ্য হোন,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামে আমার বাড়ি, আমার বাবা তাজপুর ডিগ্রী কলেজের অফিস সহকারী মোঃ রহমত উল্লাহ,বাহরাইন থেকে ছুটিতে দেশে বেড়াতে এসে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হই।
আমার নিজ বাড়ির সামনে এলাকার সন্ত্রাসী গোষ্টি কবির বাহিনীর প্রধান কবিরের হুকুমে তার চাচাতো ভাই মুছলের নেতৃত্বে,কবির এর ছেলে সুমন,তার ভাগিনা বাদল,তার ভাতিজা মাহি আমাকে গুলি করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে,সন্ত্রাসী সুমনের দেয়া বন্দুক থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি দুটি বন্দুক দিয়ে আমার ডান পায়ের হাটুর উপরে গুলি মারে সন্ত্রাসী বাদল ও মাহি।অপর সন্ত্রাসী সুমন এর হাতে থাকা আরেকটা বন্দুক দিয়ে গুলি মারতে চেষ্টা করে ভাগ্যক্রমে গুলি লক্ষভ্রষ্ট হয়। আমার ছোট ভাইয়েরা আমাকে বাছাতে এগিয়ে আসলে তাদের সাথে থাকা অপর সন্ত্রাসী দোলন,জুবেল,ইমন,তাহের,ছায়েদ,শ্যমল ও অঙ্গাত কয়েকজন মিলে লম্বা দা দিয়ে কুপ মেরে আমার দুই ভাইকে মারাক্তক আহত করে। ওরা সবাই কবিরের আত্বীয়স্বজন। এদের সাথে আরো কয়েকজন দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত (লম্বা দা,লাটি,ছুরি/চাকু ও কুচা) ছিলো।
এব্যাপারে আমার বাবা বাদী হয় আমাদের ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন,মামলা নং-১১
জীবন বাছাতে সিলেট হাসপাতালে আমাকে নিলে, সিলেটের ডাক্তাররা ঢাকায় প্রেরন করেন, আমার ডান পা ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে কেটে ফেলতে বাধ্য হন ডাক্তাররা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
এসব সন্ত্রাসীদের কাছে রয়েছে অনেক অবৈধ অস্ত্র বন্দুক,কবির উদ্দিনের ছেলে সুমন হয়তো অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী তা না হলে সে কিভাবে তিনটি বন্দুক নিয়ে আমাকে প্রাণে মারতে আসলো,সে একটি হত্যা মামলার আসামি এবং বড় প্রতারক,এলাকার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ব্যবসায় অংশীদার ও লাভ দেবার কথা বলে কয়েক লক্ষ টাকা আত্বসাথ করে নেয়। দিনের পর দিন ওরা রাজনৈতিক পদপদবী ও দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজ স্বার্থের জন্য সাদিপুর ইউনিয়নে এই সন্ত্রাসীদের দ্বারা বিভিন্ন অপকর্ম হতে চলছে, নদী বিল পুকুর জায়গা জমিন দখল,মামলা হামলা খুন করে রেখে ওরা অনেক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে,এদের অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই অত্যাচার অবিচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে কবির বাহিনী,প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এদের অত্যাচারে এলাকার অনেকেই আইনের আশ্রয় নিয়েছেন,অনেকে এদের জুলুমে অতিষ্ট হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত অাইন শৃঙ্খলা বাহিনী এদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও এদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি,আমার প্রতি এই হামলার সংবাদ স্থানীয় জাতীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার ও প্রকাশিত হয় যা দেশে বিদেশে ব্যাপক সারা ফেলে। দেশে ও বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অতিবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আমার বর্তমান পরিস্থিতি কি আর বলবো, যারা আমার চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছেন,যারা আমার শরীরে রক্ত দিয়েছেন,যারা আমাকে দেখতে হাসপাতালে ও বাড়িতে এসেছিলেন,যারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন,তাদের সবাইকে এসব সন্ত্রাসীরা হুমকি দামকি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে,আমার সাক্ষীদের উপর মিথ্যা সাজানো মামলা করে,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমার চিন্তায় আমার বাবা ব্রেইন স্ট্রোক করলে বাম হাত বাম পা অচল হয়ে যায়। এখনো আমার বাবা অসুস্থ চলাফেরা করতে পারেন না। আমি অসুস্থ, বাবা অসুস্থ,
কিন্তু দুঃখের বিষয় হামলার একবছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার কিংবা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সক্ষম হয়নি। প্রশাসন এদের পলাতক দাবি করলেও এরা এলাকাতেই চলাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে আমার উপর চাপ প্রয়োগ করছে ও আবার গুলি করে প্রাণে মারার হুমকি দিচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমি চাই না আমার মতো আর কারো এদের কারনে এই পরিণতি হোক। আমি চাই আইনের মাধ্যমে এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
বিভিন্ন সময়ে এসব সন্ত্রাসী গুষ্টিদের মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন আমাদের এলাকার অনেক সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র,শিক্ষক,কৃষক,ব্যবসায়ী, প্রবাসী,জনপ্রতিনিধী সহ আরো অনেক বিশিষ্ট লোকজন।
এদের করা অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করলেই ওরা জুলুম নির্যাতন করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
তিন সন্তানের জনক আমি, অনেক অনিশ্চয়তা আর সংশয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। আর কখনো আমার প্রবাসে নিজ কর্মস্থানে ফেরা হবে না। তিন সন্তানের হাতে ধরে আমি আর বেড়াতে নিয়ে যেতে পারবো না। তাদের সু শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি উজ্জ্বল ভবিষৎতের যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। আমার সব শেষ। মানসিকভাবে আমি মানুষটি যতই শক্তিশালী হই না কেন, আমি আর নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ মনে করতে পারি না। আমি এক জিন্দা লাশ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে ডান পা হারিয়ে এখন অামি জিন্দা লাশ। সব স্বপ্ন, অাশা-ভালবাসা শেষ। একটাই দাবি আপনার মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।’
আমি আপনার কাছে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছি।

Facebook Comments