লন্ডনে টাওয়ারে আগুনে নিহতের সংখ্যা ১শ’ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

সিলনিউজ২৪.কম: লন্ডনে ২৪ তলার টাওয়ারে আগুনে নিহতের সংখ্যা ১শ’ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত অনেকেই নিখোঁজ থাকায় তাদের কেউই আর বেঁচে নেই বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা। ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এটি নাশকতা না- কি দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে কাজ শুরুর করা জানিয়েছে পুলিশ।

লন্ডন সময় বুধবার ১২টা ৫৪ মিনিটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটান ঘটে পশ্চিম লন্ডনের ২৪ তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবনটিতে। এতে ১শ ২৭টি ফ্লাটে প্রায় পাঁচশো থেকে ছয়শো লোক বসবাস করতো। এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা নির্ণয় করা যায়নি। তবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ঘটনায় নিখোঁজদের আত্মীয়-স্বজনদের এখনো ঘটনাস্থলে যেতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের ভেতরে এক ধরনের আহাজারি দেখা যাচ্ছে যে, তারা যাতে মৃতদেহগুলো সনাক্ত করতে পারেন।

এক নিখোঁজের বান্ধবী বলেন, ‘বুধবারের দুর্ঘটনার পর থেকে আমার বান্ধবী নিখোঁজ আছে। তার কোনো খোজ না পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। আমি শুধু ওকে ফিরে পেতে চাই।

আরেক স্থানীয় বলেন, ‘লন্ডনের গ্রেনফেন টাওয়ায়ে মিশরীয় ও সোমালীয় ২টি পরিবার থাকতো। তারেদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি মনে করি, কর্তৃপক্ষের যথাযথ দিকনির্দেশনার অভাব ও দমকলবাহিনীর অবহেলার কারণেই এতো মানুষের প্রাণ হারিয়েছে।’

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করা জন্য এখানে বেশ কিছু ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। লন্ডনের দমকলের সহকারী কমিশনার স্টিভ অ্যাপটার বলেছেন, পুরো ভাবনটিতে তল্লাশি সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সেটি ভেঙ্গে পড়ার কোন ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের কমিশনার ড্যানি কটন বলেন, ‘ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই দমকলকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে কিছুটা সময় লেগেছে। তারা কোনো ফ্ল্যাট বা রুম চিহ্নিত করতে পারছে না। ভেতরের সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা পরবর্তী কাজ আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এরিমধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এটি তদন্তের জন্য বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

লন্ডন পুলিশের কমান্ডার স্টুয়ার্ট সান্ডি বলেন, ‘হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। প্রায় ৪০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরই মধ্যে সব দিক বিবেচনায় রেখে আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে এক কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কেনো এত বেশি সময় লাগলো, সেবিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে লন্ডন মেয়র সাদিক খান বলেন, ‘আমাদের দমকল বাহিনী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত লোকজন অনেক সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তাছাড়া সাধারণ লোকজনও সবাই দুর্ঘটনা কবলিতদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর লন্ডনবাসী যেভাবে ধৈর্য্যের সঙ্গে পুরো বিষয়টি সামাল দিয়েছেন, তাতে আমি গর্বিত।

তবে পুরো ভবনটিতে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা কেন হিমশিম খেয়েছে সেটি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।

Facebook Comments