দিব্যা ভারতী! অসময়ে হারিয়ে যাওয়া এক গুনি অভিনেত্রী।

ইকবাল এইচকে খোকন: দিব্যা ভারতী, পুরো নাম দিব্যা ওম প্রকাশ ভারতী। বলিউডের এক সময়ের হার্টথ্রুব অভিনেত্রী তিনি। তৎকালীন সময়ে উপমহাদেশে তার নাম যশ সবই ছিল অনেক উচ্চতায়। নিজিও অভিনয় আর সৌন্দর্যের মাদকতা ছড়িয়েছেন লাখো ভক্ত আর দর্শকদের মাঝে। প্রতিভাবান অভিনেত্রী ছিলেন দিব্যা। খ্যাতির শীর্ষে যখন আরোহণের দুর্দান্ত সময়, তখনই তার জীবনের আলো নিভে যায়। ক্ষণজন্মা এ অভিনেত্রী কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন মাত্র ১৯ বছর বয়সেই। ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করা দিব্যা ১৯৯৩ সালে ৫ এপ্রিল মুম্বাইয়ে তাঁর ৫ তলা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে নিচে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। যদিও তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য অাজও রহস্যময় থেকে গেছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে তিনি মূলত ভারসাম্য হারানোর ফলে ব্যালকনি থেকে নিচে পড়ে যান। তবে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু, দুর্ঘটনাজনিত না হত্যাকাণ্ড তা অস্পষ্ট রয়ে গেছে আজও।

তখন পুলিশের তদন্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য যেভাবে এসেছে তাতে সেটা নির্দেশ করে এটি একটি দূর্ঘটনা ছিলো। তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই রাতে দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর সময় তিনজন মানুষ উপস্থিত ছিল। একজন দিব্যা ভারতীর ড্রেস ডিজাইনার নীতা লুলা ও নীতার স্বামী ডঃ শ্যাম লুলা এবং বাসার কাজের মেয়ে। দিব্যার স্বামী প্রযোজক সাজিদ নাদিদওয়ালা সেসময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। পরেরদিন ভোরে দিব্যাকে আউটডোর শুটিংয়ে যেতে হবে বিধায় রাতের বেলাতেই তিনি তার ড্রেস ডিজাইনার নীতা লুলাকে বাসায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এই তিনজনের উপস্থিতিতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে রাত ১১.৪৫ মিনিটের সময়। সাক্ষী নীতা লুলার ভাষ্য অনুযায়ী, দিব্যা ভারতী ড্রিঙ্ক করতেন। এই অবস্থায় খোলা জানালার উপর একেবারে ধারে বসে কাজের মেয়েটির সাথে কথা বলছিলেন দিব্যা। এসময় সে হঠাৎ ব্যালেন্স হারিয়ে পাঁচ তলা থেকে নীচে পড়ে যান। যার ফলে মৃত্যুকে এড়ানো যায়নি। তবে আরেকটি সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, দিব্যার উচ্চতা ভীতি ছিলো। তথ্যটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে জানালার ধারে তার ওভাবে বসাটা কোনওভাবেই মেলে না। এ দুটি প্রশ্ন রহস্যটা আরো বাড়িয়ে দেয়। তাই ২৪ বছর হয়ে গেলেও দিব্যার মৃত্যুরহস্য অাজও অন্ধকারে। ভক্তরা মেনে নিতে পারেননি যে দিব্যা ভারতী সুইসাইড করেছেন, ভক্তদের দাবী দিব্যাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সবকিছুকে ছাপিয়ে যে সত্যটি সবচেয়ে বড় সেটা হলো দিব্যা ভারতী নেই, ভক্তরা কি ভুলে গেছেন তাদের প্রিয় অভিনেত্রীকে! সম্ভবত না, কারন তার মৃত্যুবার্ষিকী অাসলে ভক্তদের হাহাকারটা এখনো উপলব্ধি করা যায়। প্রিয় মানুষের শারীরিক অস্তিত্ব হয়তো বিদ্যমান নেই, তবে তার স্মৃতি, তার অভিনয়, তার ছবিতে অাজও তাকে খুঁজে ফেরেন ভক্তরা।

দিব্যা ভারতী ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯২ সালে প্রযোজক সাজিদকে গোপনে বিয়ে করেন এবং বিয়ের বিষয়টি তিনি অনেকদিন পর্যন্ত গোপন রেখেছিলেন। সাজিদ মুসলমান হওয়াতে এই বিয়েতে দিব্যার পরিবারের একেবারেই মত ছিল না। কিন্তু পরিবারের বিপক্ষে যেয়ে দিব্যা সাজিদকে বিয়ে করে। সাজিদের ভাষ্যানুযায়ী, বিয়ে করার পরে সে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করেন। এবং মুসলিম নাম হিসেবে ‘সানা নাদিদওয়ালা’ নামটি গ্রহণ করেন। কিন্তু সার্বিক বিষয় চিন্তা করে সেসব গোপন রাখা হয়।

১৯৯০ সালে তেলুগু বব্বিলি রাজা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দিব্যা ভারতী চলচ্চিত্র কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এরপর ১৯৯২ সালে বিশ্বআত্মা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। তার অভিনীত ছবি শোল অর শবনম (১৯৯২) এবং দিওয়ানা (১৯৯২) চলচ্চিত্র দুটি বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে এবং যার জন্যে ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ নারী অভিষেক পুরস্কার অর্জন করেছিলেন তিনি।

১৯৯২ এবং ১৯৯৩-এর প্রথমার্ধে তিনি মোট ১৪টি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যা আজ পর্যন্ত বলিউডে অভিষেক হিসেবে তার রেকর্ড হয়ে আছে।

শাহরুখের অভিষেক ঘটে দিব্যার বিপরীতে ‘দিওয়ানা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। আজ শাহরুখ বলিউডের কিং, অার দিব্যা পৃথিবী নেই।

বলিউডের এই ক্ষণজন্মা অভিনেত্রী দিব্যা ভারতী তার অভিনয় অার ভক্তদের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন চিরদিন।

সিলনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম/সম্পাদক/১৪ জুন

Facebook Comments