চট্টগ্রামের ৩৩টি পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

সিলনিউজ২৪.কম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ৩৩টি পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। গত এক দশকে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রায় আড়াইশ মানুষের প্রাণহানি হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রতিবছর বর্ষায় কেবল লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায় সারছে প্রশাসন।

চট্টগ্রামে ২০০৭ সালের ১১ জুন পাহাড় ধসে মারা যায় ১২৭ জন। ঘটনার পর পাহাড়গুলো তদারকি করে প্রাণহানি রোধে গঠিত হয় ১৮ সদস্যের পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু গত এক দশকে শুধু বর্ষা মৌসুমে বৈঠক আয়োজন আর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনায় সীমাবদ্ধ কমিটির কার্যক্রম।

চলতি বছরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি অভিযানে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ। কিন্তু পরে তদারকি না করায় পুনরায় সংযোগ নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছেন এসব বাসিন্দা।

২০০৭ সালের দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পাহাড় ধসে দুর্ঘটনার ২৮টি কারণ চিহ্নিত করে ৩৬টি সুপারিশ করা হয়েছিল। সুপারিশে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া থাকলেও বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করা হয়নি।

পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পূণর্বাসনে ৭৪ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হলেও কোন প্রকল্প না থাকায় ১০ বছরেও তা খরচ করা যায়নি। অন্যদিকে, সিটি করপোরেশন পাহাড়ে বসবাসকারী ১৬১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করতে একটি ৭-তলা ভবন নির্মাণ করলেও তা তাদের বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না।

Facebook Comments