নিউজটি পড়া হয়েছে 222

‘কোন আমটি কখন খাবেন’

সিলনিউজ২৪.কমঃ কোন কাজ কখন করবেন, এর একটা হাজির-জবাব আছে। ‘সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়।’ কিন্তু কোন আম কখন খাবেন তারও তো একটু হদিস থাকা দরকার। কাজের সঙ্গে মিলিয়ে বলা যায়, সময়ের আম সময়ে খাবেন।

আম খাওয়ার এই আলোচনার দরকার কী? আম পাকলে খাবেন, মামলা খতম। কিন্তু একদল যাঁরা গাছে আমের পাকন দেখার সুযোগ পাননি, আরেক দল যাঁরা আমের মতো রসাল ফলের সঙ্গে বাণিজ্যিক লোভে নীরস আচরণ করেন—দুই পক্ষের জন্যই এই আম-আলোচনা দরকারি।

ফলের বাজারে ইতিমধ্যে আম-রাজত্ব শুরু হয়ে গেছে। আপেল, কমলা, আনার, নাশপাতিরা এখন পাত্তা কিংবা পাত পাচ্ছে কম। হুড়মুড় করে সব আম বাজারে ঢুকে পড়লেও অভিজ্ঞতা বলছে একটা আমসূচি থাকা দরকার। সেই কাজটি করেছেন আম গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী। ‘কোন আমটি কখন খাবেন’—শিরোনামে তিনি একটি বই-ই লিখে ফেলেছেন। উদ্দেশ্য, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম থেকে ভোক্তাকুলকে রক্ষা করা।

বইয়ের ভূমিকায় মাহবুব সিদ্দিকী লিখেছেন, ফলমূল কিনতে গিয়ে ভোক্তারা বেশ কয়েক বছর ধরে বিষ-আতঙ্কে ভুগছেন। এমনকি চাল, ডিমের মতো পণ্য কিনতে গিয়েও সন্দেহে ভোগেন। প্রতি মুহূর্তে প্রতারিত হওয়ার আতঙ্ক মানসিক চাপ তৈরি করছে। লেখক বলছেন, ‘বাঙালি হয়ে জন্মেছি। ফল তো আমাদের খেতেই হবে। শুধু স্বাস্থ্যের দিক ভেবে নয়, মৌসুমি ফল খাওয়া আমাদের জনঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশও বটে।’

মাহবুব সিদ্দিকীর ‘কোন আমটি কখন খাবেন’ বইটি এ বছর (২০১৭) বইমেলায় প্রকাশ করেছে আগামী প্রকাশনী। এতে দেশের জনপ্রিয় ও ব্যবসায়িকভাবে সফল কয়েকটি জাতের আম সম্পর্কে দেওয়া বর্ণনা বেশ আগ্রহ উদ্দীপক। লেখক ২০১৫ সালের ২৭ মে ভোক্তাদের জন্য আম খাওয়ার দিনক্ষণ জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন প্রথম আলোয়। ওই নিবন্ধটিই এই বইয়ের উৎস।

আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল হলেও উৎপাদন ও বাণিজ্যের দিক থেকে আম এগিয়ে আছে। এই আমের মৌসুম থাকে পাঁচ মাস। এর মধ্যে জুন ও জুলাই মাস থাকে রমরমা। এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ২৫ জাতের আম উৎপাদন হয়, বাজারে আসে। তবে অতি উন্নত জাতের আম আছে মাত্র ১০টি। আম ভোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের প্রথম কাতারের, সন্দেহ নেই। কিন্তু সঠিক আমটি সঠিক সময়ে খাওয়ার বিষয়ে তাদের সচেতনতা যথেষ্ট নয়। নিজের স্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, পরিবারের অপর সদস্যদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নির্ভর করছে ক্রয়সংক্রান্ত সতর্কতা ও সচেতনতার ওপর।

আগাম জাত, মধ্য মৌসুমি জাত এবং নাবি জাত—মোটা দাগে এই তিন ভাগে বিভক্ত বাংলাদেশের আম। মধ্য মে থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকে আগাম জাতের আম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, রানীপছন্দ, বৃন্দাবনি, গুলাবখাশ ও বারি-১। মধ্য জুন থেকে পাকতে শুরু করে মধ্য মৌসুমি আম। এগুলোর মধ্যে প্রধান হলো ল্যাংড়া। পাশাপাশি আসে লক্ষ্মণভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত, খুদিক্ষীরশা, হাঁড়িভাঙ্গা, বোম্বাই, সূর্যপুরি, বারি-২ ইত্যাদি। আর জুলাইয়ের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাকে এবং পাওয়া যায় নাবি জাতের আম। যেমন : ফজলি, আম্রপালি, মোহনভোগ, গৌড়মতি, বারি-৪, আশ্বিনাসহ কয়েক জাতের আম।

মোদ্দা কথা, যে আমগুলো বাজারে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো প্রাকৃতিক শৃঙ্খলা মেনে নির্দিষ্ট সময়ে পুষ্ট হচ্ছে, পাকছে। আমাদের বাগানিরা যদি এটা জেনে এবং মেনে গাছ থেকে আম পাড়েন, তাহলে ভোক্তারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন। বাণিজ্যিক মনস্তত্ত্বের কারণে সেটা যেহেতু হচ্ছে না, ফলে এগিয়ে আসতে হবে ভোক্তাদের। তাঁরা যদি সময়টা জেনে-বুঝে আম কেনেন, তাহলে বদলে যেতে পারে বর্তমান বাজারচিত্র।

 

বিশেষ কয়েকটি আম                                   কেনার সঠিক সময়

গোবিন্দভোগ                                                           ১৫ থেকে ৩০ মে

গোপালভোগ                                                       ২৫ মে থেকে ১০ জুন

ক্ষীরশাপাত, হিমসাগর                                             ১০ থেকে ৩০ জুন

ল্যাংড়া, বারি আম–২, লক্ষ্মণভোগ, বোম্বাই        ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই

আম্রপালি                                                      ২৮ জুন থেকে ২৫ জুলাই

ফজলি                                                        ৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট

আশ্বিনা                                                     ৭ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর

উৎসঃপ্রথম আলো

ফেসবুক মন্তব্য
xxx