পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

সিলনিউজ২৪.কম: চূড়ান্ত বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। আজ সোমবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত সিএসই’র বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পুঁজিবাজারের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ বিবেচনা ও বাজেটে সিএসই’র পক্ষ থেকে যে কর প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তার পুনঃবিবেচনা করার আহবান জানানো হয়।

সিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, সফলভাবে জাতীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যাশিত জিডিপি গ্রোথ অর্জন সম্ভব হবে। দেশের মেগা প্রকল্পসমূহের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি পরিকল্পিতভাবে অগ্রগতি অর্জন করলে পুঁজিবাজারে এর সুফল আসবে। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এর বিষয়ে অর্থমন্ত্রী দৃষ্টি দেয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানায় সিএসই।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ লিমিটেড কোম্পানি, কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত রয়েছে। তার মধ্যে মধ্যম এবং বৃহদায়তনের কমপক্ষে কয়েক হাজার কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ আছে।কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র কয়েকশ কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে। যা একান্তই নগণ্য। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী এক্সচেঞ্জ সমূহের ডিমিউচুয়ালাইজেশন কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে। এখন প্রয়োজন পুঁজিবাজারের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ।

সিএসই মনে করে, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এ রূপান্তর করার যে রূপকল্প সরকারের রয়েছে তাতে ব্যাপকভাবে বেসরকারি পুঁজি সঞ্চালনের প্রয়োজন। আর এ লক্ষ্য পূরণের জন্য পুঁজিবাজার ব্যপক ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশি- বিদেশী বেসরকারি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে পুঁজিবাজারের Untapped Opportunity কাজে লাগানো অতীব প্রয়োজন।

সেই উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ সমূহ বিবেচনার যোগ্য :

স্বল্প ও মধ্য-মেয়াদী স্থিতিশীলতা এবংআস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং কৌশল বাজেট কাঠামোয় ঘোষণা করা।

বাজেট কাঠামোয় পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ এবং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে ক্যাপিটাল মবিলাইজেশন এর লক্ষ্যে স্বল্প ও মধ্য-মেয়াদী সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং লক্ষ্য নির্ধারণ।

পুঁজিবাজার সংস্কারের ফলশ্রুতিতে উদ্ভাবিত ডিমিউচুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ এর সাসটেইনেবিলিটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীসহ দেশী বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীগণের কাছে ডিমিউচুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জ এর শেয়ার আকর্ষণীয় করার জন্য অন্ততপক্ষে তিনবছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধার সুস্পষ্ট ঘোষণা।

পুঁজিবাজারে সিএসইর কর প্রস্তাবনা পুনঃবিবেচনাঃ

পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনয়নের জন্য এর মধ্যে সিএসই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে কতিপয় প্রস্তাব পেশ করেছে। গণমুখী পুঁজিবাজারের স্বার্থে একটি আধুনিক স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলো পুনঃবিবেচনার জন্য আহবান জানায় সিএসই।

১. এক্সচেঞ্জ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী সময় উপযুক্ত ব্যবসায়িক পরিধি বিস্তৃতিকরণ পর্যন্ত এবং এক্সচেঞ্জে কৌশলগত বিনিয়োগকারীকে আকর্ষনের জন্য দেশের এক্সচেঞ্জসমূহের জন্য আরও তিনবছর ১০০% কর অবকাশ সুবিধা বহাল করা।

২. তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের কর হারের ব্যবধান অন্তত পক্ষে ১৫% বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

৩. পুঁজিবাজারে চলমান মন্দা অবস্থা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে প্রনোদনা হিসেবে ট্রেকহোল্ডার কর্তৃক লেনদেন এর উপর বর্তমানে প্রযোজ্য ০.০৫% কর হার ০.০১৫% করা যেতে পারে।

৪. লভ্যাংশ প্রদানের সময় কোম্পানি তার মুনাফার উপর কর প্রদান করে থাকে।পুনরায় লভ্যাংশ বিতরণের সময় করকর্তনের ফলে দ্বৈতকরের সৃষ্টি হয়।লভ্যাংশ আয়ের উপর দ্বৈত করনীতি পরিহার করা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের বর্তমান সীমা ২৫,০০০ টাকার পরিবর্তে ১,০০,০০০টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

৫. সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের ব্যবহৃত সফটওয়্যার এর উপর উৎস আয় কর এবং মূসক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। সূত্র: শেয়ারবাজারনিউজ

Facebook Comments