‘তামাক উন্নয়নের অন্তরায়। সিলেটে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত

সিলনিউজ২৪.কম\আজ বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস। ১৯৮৭ সাল থেকে প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর সহযোগী সংস্থাসমূহ তামাকের স্বাস্থ্যঝুঁকিসমূহ তুলে ধরে তামাক ব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস’ পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাবিশ্বের ন্যায় সিলেটেও পালিত হয়েছে এই দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘তামাক উন্নয়নের অন্তরায়’।

আজ বুধবার (৩১ মে) সকালে এন্টি ট্যোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র উদ্যোগে দিবসটি পালনে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর মাসিক খরচের ৫ শতাংশ তামাক ব্যবহারে এবং ১০ শতাংশ তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করে। তামাকজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের ফলে বছরে আরো ৬৫২.৮৬ মিলিয়ন ডলার আয়-ক্ষতি হয়।

হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে তামাকচাষের জমি ৩গুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে । ক্রমবর্ধমান তামাকচাষের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি ক্রমশ হুমকির মুখে পড়ছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং লিঙ্গ সমতা টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলেও বাংলাদেশের বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে মূলত শিশু ও নারী শ্রম ব্যবহার করে। কারখানার শিশুশ্রমিকরা পাচ্ছেনা শিক্ষা লাভের সুযোগ। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার না করেও, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে প্রায় ১ কোটি নারী। এই বিপুল বৈষম্য টিকিয়ে রেখে, টেকসই উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়।

এছাড়াও তামাক ব্যবহারের কারণে কর্মক্ষম মানুষের বিরাট অংশ অকাল মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের শিকার হন যা দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। বৈশ্বিক এবং আভ্যন্তরীণ বৈষম্য হ্রাস ব্যতীত টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভবপর নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এবং এই মৃত্যুভার এর ৮০ ভাগই বহন করতে হবে বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে। তাছাড়া বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি হলেও পাবলিক প্লেস -এ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার চিত্র ঠিক উল্টো। শহরের আবদ্ধ স্থানে বায়ু দুষণের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান। যা টেকসই নগর ও তার অধিবাসীদের নিরাপদ রাখার বড় অন্তরায়।

বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রন) আইনটি সংশোধন করে। এরপর ২০১৫ সালে প্রকাশ করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রন নীতি, তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ নীতি, স্বাস্থ উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতি ইত্যাদি প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এসব নীতি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে বলিষ্ঠ ভ‚মিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রানালয়, বিভাত, অধিদপ্তর ও দপ্তরের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করছে।

ফেসবুক মন্তব্য
xxx