ভালবাসার টানে রাজপ্রাসাদ ছাড়লেন রাজকুমারী মাকো।

সিলনিউজ২৪.কমঃ শৈশব থেকে প্রাসাদের বৈভব উপভোগ করার পর এ বার সম্ভবত বৈরাগ্য এসেছে জাপানের রাজকুমারীর! আর তাই রাজপ্রাসাদের বিলাস, বৈভবের মোহ ছেড়ে তিনি মিশে যাচ্ছেন আমজনতার স্রোতে। বিয়ে করতে চলেছেন এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেকে। পাত্রকেই কোমুরো তার বহু দিনের প্রেমিক।

কলেজে পড়তে পড়তেই দু’জনের আলাপ। এরপর রাজকুমারী মাকোর সঙ্গে কোমুরোর প্রেম। হালে চার হাত জোড় বাঁধার পাকাপাকি সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছেন রাজকুমারী। আর তা নিয়েই হইহই পড়ে গেছে জাপান জুড়ে। ভালবাসার টানে প্রাসাদ ছেড়ে রাজকুমারী চলে যাবেন মধ্যবিত্ত পরিবারে- মন থেকে অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছেন না।

সম্রাট আকিহিতোর জাপানে রাজবংশকে এখনও বিরাট সম্মানের চোখেই দেখে সাধারণ মানুষ। তার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে। কেউ কেউ ‘আহা, উহু’ করে বলতে শুরু করেছেন-‘করছেন কী রাজকুমারী!

রাজকুমারী মাকো তার দাদু সম্রাট আকিহিতোর মতোই পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।

সম্রাট আকিহিতো যেমন ঠিক করে ফেলেছেন, রাজদণ্ড রক্ষা করার দায়িত্বটা তিনি আর পালন করবেন না। বয়স হয়েছে ৮৩। শরীর আর গুরুদায়িত্বের বোঝা বইবার ধকল সইতে পারছে না! তার নাতনি রাজকুমারী মাকোও তেমনই ঠিক করে ফেলেছেন, বাকি জীবনটা তিনি আর রাজপ্রাসাদের বিলাস বৈভবে ডুবে থাকবেন না। প্রাসাদ ছেড়ে গিয়ে উঠবেন কলেজের সহপাঠী কেই কোমুরোর ‘ছোট্ট কুঁড়ে’তে!

সম্রাট আকিহিতোর তিন নাতনি মাকো, কাকো আর আইকো। নাতি একটিই, ১০ বছরের রাজকুমার হিসাহিতো। মাকোই এদের মধ্যে বয়সে বড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজপ্রাসাদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্রাট আকিহিতোর খুব আদরের নাতনি ২৫ বছর বয়সী রাজকুমারী মাকো লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে মাস কয়েক আগে গবেষকের কাজ নিয়েছেন একটি জাদুঘরে। আর তার ২৫ বছর বয়সের প্রেমিক কেই কোমুরো কাজ করেন আইন মন্ত্রণালয়ে।

প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন রাজকুমারী।

দ্য জাপান টাইমস বলছে, রাজবংশের বাইরে বিয়ে করলে মাকোকে রাজপ্রাসাদের সব মোহ ও সম্পত্তির অংশ পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। রাজবংশের এটাই নিয়ম।

কিন্তু ভালবাসার টানে সব ছাড়তে রাজি মাকো- সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সে কথা। সূত্র সমকাল

Facebook Comments