জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার নিয়োগ দেবে সেনাবাহিনী।

সিলনিউজ২৪.কমঃ সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনা শিক্ষা কোরে ‘জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (ওয়ারেন্ট অফিসার)’ হিসেবে বাংলাদেশি (পুরুষ) নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

সেনাবাহিনীতে যোগদানে আগ্রহী পুরুষ প্রার্থীদের আবেদনের বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা,বয়স, শারীরিক যোগ্যতা, আবেদনের নিয়ম, নির্বাচন প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত এ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে যেমনি নিজের ক্যারিয়ার নিশ্চিত করা যায় তেমনি দেশের কাজেও নিজেকে নিযুক্ত করা যায়। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১২ মে এবং শেষ হবে ৭ জুন, ২০১৭।

নিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য:

শিক্ষাগত যোগ্যতা: উল্লিখিত পদটিতে আবেদন করতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীকে বিএ, বিএসসি বা বিকম পাস হতে হবে। শিক্ষা প্রশিক্ষণে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা এবং শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। স্নাতক বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম সিজিপিএ ২.০০ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ কমপক্ষে ৩.০০ থাকতে হবে।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে লম্বায় কমপক্ষে ১.৬৮ মিটার বা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে। এবারের বিজ্ঞপ্তিতে শুধু মাত্র পুরুষদেরকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীর ওজন হতে হবে ১১০ পাউন্ড বা ৪৯.৯ কেজি । বুকের মাপ হতে হবে স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬ মিটার বা ৩০ ইঞ্চি এবং ষ্ফীত অবস্থায় ০.৮১ মিটার বা ৩২ ইঞ্চি। প্রার্থীগণকে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য হতে হবে। প্রত্যেক প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে।

অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীদের অবিবাহিত হতে হবে। তালাকপ্রাপ্ত প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন না। আগামী ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত প্রার্থীদের বয়স ২০ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়েবসাইট (www.joinbangladesharmy.mil.bd) অথবা টেলিটকের ওয়েবসাইট (army.teletalk.com.bd) থেকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রার্থীদের প্রাথমিক শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য সেনাবাহিনীর বিভিন্ন এরিয়া সদর দপ্তরে উপস্থিত হতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত জেলার প্রার্থীদের নির্দিষ্ট তারিখে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

যেভাবে আবেদন করা যায়: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এসএমএস, অনলাইন ও সরাসরি এই তিন প্রক্রিয়াতেই আবেদন করা যাবে। পূর্বের সকল পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার স্থান ও তারিখ প্রার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টা আগে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হতো। টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল হতে এসএমএস করে আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর একটি ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড আসবে। প্রার্থী ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে আবেদন চলাকালীন সময়ে নিজস্ব প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীকে একটি পিন নম্বরসহ এসএমএস প্রেরণ করা হবে। উল্লিখিত ভর্তি পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা হওয়ার কারণে মোবাইল ব্যালেন্স ৫০০ টাকার বেশি থাকতে হবে। দ্বিতীয় দফা এসএমএস প্রাপ্তির পর প্রার্থীকে একটি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে প্রার্থীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

যা সাথে অানতে হবে: শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র, মার্কশিট অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে। যদি কেউ ফটোকপি সঙ্গে আনতে চায় তা হলে তা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কতৃক সত্যায়িত হতে হবে। তবে পরবর্তীতে মূল সনদপত্র প্রদর্শন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কতৃক দেয়া স্থায়ী ঠিকানা ও জন্ম তারিখ সম্বলিত মূল প্রশাংসাপত্র সঙ্গে আনতে হবে। অভিভাবকের সম্মতিসূচক সনদপত্র যা সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান কতৃক সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান কর্তৃক দেওয়া জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি আনতে হবে। সরকার অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারিগরি দক্ষতার মূল সনদপত্র যদি থাকে তা হলে তা সঙ্গে আনতে হবে। সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজর ৬ কপি এবং স্ট্যাম্প সাইজের ২ কপি ছবি আনতে হবে। এই ছবির পটভূমি নীল  অথবা আকাশী রংয়ের, পরিধেয় পোশাক হালকা রংয়ের ও প্রথম শ্রেণির গেজেটেড সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। সাঁতার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ও লিখিত পরীক্ষার জন্য কলম, পেন্সিল, স্কেল ও ক্লিপবোর্ড ইত্যাদিও সঙ্গে আনতে হবে।

নির্বাচন পদ্ধতি: প্রাথমিক নির্বাচন শেষে আগামী ৭ জুলাই  সকাল ৯ ঘটিকার সময় প্রার্থীদেরকে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রার্থীগণকে নির্বাচন করা হবে। এতে থাকবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা। স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাক্ষাত্কারের মাধ্যমেও প্রার্থীগণকে টিকে থাকতে হবে।

সুযোগ-সুবিধা: সেনাবাহিনীতে কর্মরত প্রত্যেকের বেতন ভাতা সেনাবাহিনীর বিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সূত্র: ইত্তেফাক

Facebook Comments