ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য এনে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবে বিএনপি: খালেদা জিয়া।

সিলনিউজ২৪.কমঃ ক্ষমতায় গেলে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য এনে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবে বিএনপি। ভিশন ২০৩০ নিয়ে মঙ্গলবার (১০ মে) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় ২০৩০ সালকে সামনে রেখে বিএনপির নানান অঙ্গীকারের কথা শোনান সবাইকে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতায় গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে আর কী কী করবেন তার অনেককিছুই তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

তিনি বলেন,  প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা একটি স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে সেটা নিয়েও নতুন করে ভাবা হবে। সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল এবং এধরনের আরো কিছু ব্যবস্থায় সংযোজন, প্রতিস্থাপন করা হবে। বিএনপি অগণতান্ত্রিক বিষয়গুলোর সাংবিধানিক সংশোধন করবে। জনগণের অধিকার পুন:স্থাপন করবে। জাতীয় স্বার্থ বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

খালেদা জিয়া আরো যোগ করেন, সুনীতি, সুশাসন ও সু-সরকারের সমন্বয় ঘটাবে বিএনপি।  ক্ষমতায় গেলে গণভোট ব্যবস্থা চালু করা হবে। পুলিশ, প্রসাশন, বিচার ও কারাগারে হস্তক্ষেপ কমাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। বিচার বিভাগর কর্তব্য পালনে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিএনপি দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপোস করবে না। স্বচ্ছদা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করা হবে।

এরপর খালেদা জিয়া আরো বলেন, দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা রোধ করা হবে। বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। সকল ধরনের কালা কানুন বন্ধ করা হবে। শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে।  যোগ্য বিচারকদের মাধ্যমে মামলা জট কমিয়ে আনা হবে। উচ্চ পর্যায়ের জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা হবে। অনেক সময় দেখা যায় পুলিশ মামলা নেয় না। অনলাইন ও টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে মামলা দায়েরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে, গ্রাম আদালত চালু হবে। বিএনপি অন্য রাষ্ট্রের কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না। এবং দেশের ব্যাপারেও কারো হস্তক্ষেপ মেনে নিবে না। মাথাপিছু আয় ৫০০০ ডলারে উন্নীত করা হবে। গবেষণার মান আরো উন্নয়ন করা হবে। সংবিধান সংশোধন করে নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাস যেন শ্রমিকদের সেবার ব্যাপারে সচেতন থাকে সেই চেষ্টা করা হবে। শেয়ার মার্কেট ও ব্যাংক লুট প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাগর রুনি সহ সব সাংবাদিক হত্যার নিস্পত্তি করা হবে।

খালেদা জিয়া আরো বলেন, আইসিটি খাতে আরো সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিতর্কিত ধারা বাতিল করা হবে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বানানো হবে। প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এক দশকে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। আশা করি এই ভিশন বাস্তবায়নে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা পাবো।সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়েও সফলতা না পাওয়া

এবং দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি এখন সংসদের বাইরে। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নানা প্রভাব লক্ষ করা গেছে। এই অবস্থায় ‘ভিশন ২০৩০’ রুপরেখা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হলেন দুই মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া।

Facebook Comments