বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল সিটি হচ্ছে সিলেট।

সিলনিউজ২৪.কমঃ সিলেটে স্বতন্ত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর অঙ্গিকার পূরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন।

রবিবার দুপুর ২টায় সিলেটের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্তমান সরকারের আমলে সিলেটের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

তিনি জানান- সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং দাবি ছিলো সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেটবাসীর কাছে অঙ্গিকার করেছিলেন সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। আগে দাবি ছিলো ওসমানী মেডিকেলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরের। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ আলাদা, নতুন ক্যাম্পাসে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছেন। এটা সিলেটবাসীর জন্য বড় পাওয়া। 

বাংলাদেশে প্রথম ডিজিটাল সিটি হচ্ছে সিলেট, এমন তথ্য জানিয়ে ড. মোমেন বলেন- দেশে ডিজিটাল কোন সিটি যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেটা হবে সিলেট। সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ট ডিজিটাল করা হবে। এর ফলে এর আওতায় থাকা নাগরিকরা ঘরে বসেই সব ধরণের সুগোগ সুবিধা ভোগ করবেন। ঘরে বসে যে কোন তথ্যসেবাসহ ট্যাক্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। নিয়ইর্কে নিজ বাড়ির ট্যাক্সসহ যাবতীয় কাজ ঢাকায় বসে যেভাবে সম্পাদন করতে পারেন, সেভাবে সিলেট নগরবাসীও ঘরে বসে অনলাইন সেবা ভোগ করতে পারবেন। প্রথমধাপে ৩৮৩টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে তিনি জানান।

এছাড়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্প্রসারণ, ইন্টার্নি ডাক্তার এবং নার্সদের জন্য ১০০ বেডের ছাত্রাবাস, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ২০০ শয্যায় উন্নীত, ডেন্টাল হাসপাতাল সম্প্রসারণ, ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল নির্মাণ, শাহপরান হাসপাতালের জনবল নিয়োগ, সিলেট নগরীর ছড়া খাল উন্নয়নে ৩৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ, বৃহত্তর সিলেটের সড়ক উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, যার মধ্যে জকিগঞ্জ সড়কের চুড়খাই ব্যয় হবে ১৭৮ কোটি টাকা। তবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এসব বিষয় ছাড়াও তিনি আটকে থাকা সিলেট-ঢাকা চারলেন প্রকল্প, বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস সড়ক, আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়ক চারলেন, সিলেট আখাউড়া ব্রডগেজ লাইন, চলমান সিলেট হাইটেক পার্ক প্রকল্প, সিলেট বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, পুরাতন কারাগারে প্রস্তাবিত পার্ক নির্মাণ, সিলেট নগরী ও শহরতলিতে চত্ত্বর নির্মাণ নিয়েও কথা বলেন। এর মধ্যে বিগ বাজেটের সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প এখনো আটকে আছে বলে জানান তিনি। সিলেটের জন্য গ্যাসের বিষয়টিও থমকে আছে। এসব বিষয়ে স্বচিত্র প্রতিবেদনের জন্য তিনি সাংবাদিকদের দৃষ্টিগোচর করেন। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার অনেক আগে স্থানান্তরের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন- আগামী ডিসেম্বরে কারাগার স্থানান্তরিত করা হবে। সেই সাথে পুরাতন কারাগারে পার্ক স্থাপনের কাজটিও শুরু হবে বলে তিনি জানান। 

এছাড়া তিনি সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে আজ থেকে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন- সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ প্রমুখ।

Facebook Comments