তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ব্যাংক।

সিলনিউজ২৪.কম:  তথ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ রয়েছে খুবই উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এমন পরিস্থিতির বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ঝুঁকি কমাতে প্রতিবছর ব্যাংকগুলো ব্যয় বাড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে এক কর্মশালায় ব্যাংকগুলোর ওপর পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য শংলে ধরা হয়।

দেশের মোট ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টির ওপর নমুনা ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

‘আইটি অপারেশন্স অব ব্যাংক’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. শিহাব উদ্দিন খান। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। কর্মশালার পর্যালোচনা দলে ছিলেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক শিহাব উদ্দিন খান, মাহবুবুর রহমান আলম, সহকারী অধ্যাপক কানিজ রাবি্ব এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আইটি প্রধান মোহাম্মদ এমদাদুল হক খান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জরিপের আওতায় আসা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৬ শতাংশ মনে করে তাদের তথ্য নিরাপত্তা যথেষ্ট নয়। এসব ব্যাংক খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩৬ শতাংশ মনে করে যেকোনো মুহূর্তে তাদের তথ্য চুরি হতে পারে। ৩২ শতাংশের ধারণা তাদের ঝুঁকি কিছুটা কম। আর ১২ শতাংশ রয়েছে কম ঝুঁকিতে। এ ছাড়া ৪ শতাংশ মনে করে তথ্যপ্রযুক্তিতে তাদের কোনো ঝুঁকি নেই।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকগুলোর আইটি খাতে বিনিয়োগ ধীরগতিতে বাড়ছে। ২০১৬ সালে পুরো ব্যাংক খাতে এক হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এ ব্যয়ের বেশিরভাগই হয়েছে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কেনা, নেটওয়ার্কিং, প্রশিক্ষণ ও অডিট খাতে। ২০১২ সালে আইটিতে সব ব্যাংকে বিনিয়োগ ছিল এক হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। গত বছর এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।

এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ব্যাংকগুলোর মোট ৭৬ দশমিক ৯০ শতাংশ শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। আগের বছর অনলাইনের আওতায় ছিল ৭৫ দশমিক ১০ শতাংশ শাখা। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর শতভাগ শাখা অনলাইনে পরিচালিত হলেও সরকারি ব্যাংকগুলোর কারণে গড় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ব্যাংকগুলোর আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় লোকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগলে শতভাগ ব্যাংকে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার অ্যালার্ম পদ্ধতি থাকলেও স্বয়ংক্রিয় ফায়ার স্প্রে পদ্ধতি রয়েছে ৭২ শতাংশ ব্যাংকে। অবশ্য গত বছর ও তার আগের বছর ৬৮ শতাংশ ব্যাংকে এ পদ্ধতি ছিল। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, বাংলাদেশ অটোমেটেড চেক ক্লিয়ারিং হাউসসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর রাজী হাসান বলেন, ব্যাংকগুলো বিদেশি সফটওয়্যার ব্যবহারে ঝুঁকছে। এর পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও এখনও ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। সব ব্যাংকে একই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতি কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যাংক তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আইটি ও সাইবার নিরাপত্তাসহ সাত বিষয়ে বিআইবিএম পর্যালোচনা ও গবেষণা করে আসছে। ব্যাংকিং খাতের সেবার মান বাড়াতে বিআইবিএমের সুপারিশের আলোকে ব্যবস্থা নিতে পারে। পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, নিরীক্ষার সময় আইটি দুর্বলতা ধরা না পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে বড় জালিয়াতি হয়। এ জন্য নিরীক্ষার সব দলে একজন করে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ রাখতে হবে।

আরও বক্তব্য রাখেন, বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী, বিআইবিএমের পরিচালক ড. শাহ মোহাম্মদ আহসান হাবীব, সাউথইস্ট ব্যাংকের এএমডি এস এম মঈন উদ্দিন চৌধুরী, পূবালী ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জিএম দেবদুলাল রায়।

Facebook Comments