সিলেটে দশ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের।

সিলনিউজ২৪.কমঃ সিলেটের উপশহর শাখার ব্যাংক এশিয়া’র বর্তমান ও সাবেক ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫৮ কোটি টাকা আত্মসাত করার পৃথক দুটি মামলায় হয়েছে। সিলেটের মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এই দুটি মামলা দায়ের হয়।

মামলার দুটি দায়ের করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও সিলেট নগরীর দর্জিবন্দ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনসুর আহমদ কামালী।

মঙ্গলবার (০২ মে) উক্ত দুটি মামলা দায়ের করা হয়।অভিযুক্তরা হচ্ছেন ব্যাংক এশিয়ার সিলেট উপশহর শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সাবেক-বর্তমান ১০ কর্মকর্তা।

এর মধ্যে ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা আত্মসাতের মামলায় অভিযুক্তরা হচ্ছেন- ব্যাংক এশিয়ার উপশহর শাখার সাবেক ম্যানেজার মুনির হোসেন চৌধুরী, ঘটনার সময় কর্মরত প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হেড অব রিকোভারি নাছিরুল হুসেইন, নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম, সিলেট শাখার কর্মকর্তা আবুল হাসনাত, দেওয়ান আদনান ও এটিএম আনোয়ার শিকদার।

পাশপাশি জাল দলিলে বাড়ি আত্মসাতের মামলার অভিযুক্তরা হচ্ছেন- ব্যাংক এশিয়ার উপশহর শাখার সাবেক ম্যানেজার মুনির হোসেন চৌধুরী, সাবেক এস.ও ক্রেডিট সোহেল রানা, সাবেক সাব ম্যানেজার হুসবান আহমদ চৌধুরী, ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল হাসনাত, এটিএম আনোয়ার শিকদার ও ওই শাখার কর্মরত বর্তমান ম্যানেজার।


বাদির আইনজীবি রফিক আহমদ জানান- প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাত ছাড়াও জালিয়াতির মাধ্যমে বাদির বাড়ি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়েছেন অভিযুক্তরা। বাড়ির সম্পদমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা দুটি মামলার অভিযোগ আমলে নিয়েছেন।

তিনি আরও জানান- ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষকে ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে ২০১৩ সালের ৫ জুন ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বাদী ৭ কোটি ৯৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৭৯ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করেন। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে তা আত্মসাৎ করেছেন। 

তাছাড়া বাদীর টিলাগড়স্থ ১২ তলা টাওয়ারে ও দর্জিবন্দের ৫ তলা আবাসিক ভবনের জমি আত্মসাতের জন্য সিলেট সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ১২১৪৬/১০ইং ও ১২১৪৭/১০ ইং নং দলিলগুলো আসামিরা জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। বাদীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মওদুদ আহমদ কামালীকে ঋণের ভুয়া গ্রান্টার সাজিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

Facebook Comments