ফুটবলকে বিদায় জানালেন ওয়াহেদ।

ইকবাল এইচকে খোকনঃ অনেকটা আচমকাই ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ২৩ বছর বয়সী জাতীয় দলের স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আহমেদ। ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনেই এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন ওয়াহেদ।

স্ট্যাটাসে ওয়াহেদ লিখেছেন, বাবা অনেক স্বপ্ন দেখতেন যেন আমি দেশের হয়ে ফুটবল খেলি। বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে ফুটবল খেলা। বাবার স্বপ্ন পূরণ করেছি। লাল সবুজের পতাকার জন্য খেলেছি। অনেক ইচ্ছা ছিল দেশের ফুটবলকে ভালো কিছু দেয়ার। ইচ্ছাটা পুরোপুরিভাবে শেষ হলো না। পরিবারকে সময় দিতে ফুটবল থেকে অবসর নিচ্ছি।দেশের হয়ে খেলতে পারবো না এটা সত্যি কষ্টকর কিন্তু জীবন অনেক কঠিন। অনেক বেশি মিস করবো দেশের ফুটবলকে। ফুটবলার ওয়াহেদ হবার পিছনে যারা আমাকে সাপোর্ট করেছেন, বিশেষ করে আমার পরিবার, কোচ, সতীর্থ আর আর আপনারা, সবাইকে অনেক বেশি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনেক বেশি ধন্যবাদ জানাই সিলেটের সবাইকে। আপনাদের ভালোবাসা না পেলে এতত দূর আসতাম না। আমার এই সিদ্ধান্তে অনেকেই কষ্ট পাবেন আমি জানি। ক্ষমা করে দিবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। ভালো থাকবেন।


ওয়াহেদের অবসরের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সিলেটে ওয়াহেদের ভক্ত আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে শুরু হয় তোলপাড়। কেন এভাবে অবসরে গেলেন ওয়াহেদ’ এই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ভক্তদের মাঝে। তবে একান্ত পারিবারিক কারনেই ফুটবলকে বিদায় দিলেন ওয়াহেদ।

ওয়াহেদের শুরুটা হয়েছিল ঢাকা মোহামেডানের হয়ে বয়সভিত্তিক দলে খেলে। ঢাকার ফুটবলে প্রথম নজর কাড়েন ২০১৩ গ্রামীণফোন সুপার কাপে মোহামেডানকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা এনে দিয়ে। মোহামেডানের শিরোপা জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন সিলেটের শিবগঞ্জ এর ছেলে ওয়াহেদ

পেশাদার লীগে ২০১১ সালে ১৩ গোল করেছিলেন ওয়াহেদ। প্রিমিয়ার লিগে ওই মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করেন তিনি। পরে কিছুদিন মোহামেডানের অধিনায়কের দায়িত্তেও ছিলেন ওয়াহেদ।

পরের মৌসুমে যোগ দেন আকাশী শিবিরে। কিন্তু দুই মৌসুমের বেশিরভাগ সময়ই আবাহনীর সাইড বেঞ্চ বসে থাকতে হয়েছে তাকে। পারফরমেন্সে প্রভাবটা পরে সেখান থেকেই। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে গোল পান হাতে গোনা  মোট ১০টি।

ওয়াহেদ জাতীয় দলে ২০১৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর খেলেছেন ২০১৪ সালে কোরিয়ার এশিয়ান গেমসেও।

ওয়াহেদ ব্যাক্তি জীবনে ২০১৪ সালে লন্ডনপ্রবাসী শাহনাজ প্রিয়ার সাথে বিয়ের পিড়িতে বসেন। এরপর লন্ডন এবং বাংলাদেশে সময় কেটেছে ওয়াহেদের। এতে করে ফুটবল ক্যারিয়ারে কিছুটা প্রভাব পরে তার।

চলতি বছরের ২ জানুয়ারী স্থায়ীভাবেই লন্ডনে পাড়ি জমান ওয়াহেদ। প্রায় তিন মাস বিদেশ থাকার পর আবারও মার্চের ১৮ তারিখে দেশে ফিরেছিলেন। নতুন মৌসুমে খেলার জন্য প্রস্তাবও পেয়েছিলেন অনেক ক্লাবের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবলকে ইতি টেনেই স্থায়ীভাবে ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে চলে যান প্রবাসে।

সিলনিউজ২৪কম/০৩ মে ২০১৭/১৪:২৫

Facebook Comments