বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতিবাজ কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না: পানি সম্পদ মন্ত্রী

সিলনিউজ২৪.কমঃ পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পিআইসি ও ঠিকাদারের কোন বিল প্রদান হবে না। কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ না করলেও গতবারও কিছু জায়গা থেকে কাজ সম্পূর্ণ হয়নি জানার পর তখন অর্ধেক টাকা দেইনি।

তিনি বলেন, বোরো ফসলহানির পর হাওরে মানুষের দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বধীন সরকারের আমলে কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না। সরকার কৃষকদের পাশে থেকে সব ধরনের সহায়তা করবে। এখন আমাদের চেষ্টা করতে হবে হাওরের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির জন্য।

সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর ও বাঁধ পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে। পিআইসির কাজে ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও ঠিকাদারের কাজে ৯ কোটি টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। কাজের বিষয়ে ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ের তদন্ত শেষ না পর্যন্ত আর কোন বিল প্রদান করা হবে না। কোথাও কাজের বেশী টাকা প্রদান করা হলে টাকা ফেরত আনা ও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও কঠোর অবস্থানে আছেন। সাধারণ দুনীতি হলেও এত বড় দুর্ভোগ সৃষ্টি হত না। এখানে অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সুনামগঞ্জের ৩ লাখ পরিবার কষ্টে আছে। কিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা যায় ও এই দুর্যোগ থেকে আগামীতে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সে উপায় খুঁজতে হবে। সুনামঞ্জের চারটি নদী মরা সুরমা, যাদুকাটা, রক্তি ও বৌলাই নদী খনন করা হবে।

বাঁধ নির্মাণ ও তদারকিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দায়িত্বে প্রদানে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা বিবেচনা করব, আমার নিজেরও চিন্তা আছে। কিভাবে কাজ সুুষ্ঠুভাবে করা যায় আমরা সেটাই আমরা করব। আমরা হাওরের ফসল রক্ষা করতে চাই, হাওরের কৃষকদের বাঁচাতে চাই।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম বীর প্রতীক, সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমদ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাইসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ অফিসের কর্মকর্তাগণ।

Facebook Comments