বন্দরের সুনামের জন্য মিলেমিশে কাজ করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সিলনিউজ২৪.কমঃ চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম যাতে অক্ষুণ্ন থাকে সে জন্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দক্ষতার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৩০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনের পোর্ট এক্সপো উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’ প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিচ্ছিন্ন সব এলাকায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরি করে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হবে।

পোর্ট এক্সপো উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সব সময় নজর রাখতে হবে। দক্ষ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বন্দর অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সবাইকে মিলে কাজ করে যেতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর এই বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান বন্দর যাতে ব্যবহার করতে পারে সে সুযোগ করে দিচ্ছি। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরো বেশি সমৃদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে এই বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখান বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগের চমৎকার একটি জায়গা। বন্দরকে উন্নত করা, আধুনিক করার ক্ষেত্রে আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সব ক্ষেত্রেই আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। বন্দর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছি।তিনি আরো বলেন, ‘এক্সপোর মাধ্যমে সুনাম বাড়বে। বাংলাদেশকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যে লক্ষ্য নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, তাঁর আদর্শ নিয়েই সরকার গঠনের পর থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরো গতিশীল করাই আমাদের লক্ষ্য। বন্দর আমাদের দেশের জন্য বিশাল সম্পদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের নবনির্মিত কারশেডে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী পোর্ট এক্সপোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম, তিনি সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বারখ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় বে-টার্মিনালকে সরকারের ফাস্ট ট্রেক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আট বছরে লয়ডস লিস্টে চট্টগ্রাম বন্দর ২২ ধাপ এগিয়েছে। অবস্থান আরো শক্তিশালী হচ্ছে। কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্লু ইকোনমি শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও মমতাজ বেগম।

‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’ উদ্বোধন : এদিকে সকাল ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজারের মহেশখালীকে ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পটির উদ্বোধনকালে তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ, টেলিযোগাযোগ বিভাগ, এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এবং উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের আরো সুযোগ এবং বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধাসংবলিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। ’ তিনি বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা দিতে দেশে ডিজিটাল ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দেওয়া হচ্ছে। এটা থেকে যেন মহেশখালী দ্বীপের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখছে সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু মহেশখালী নয়, দেশের অন্যান্য দ্বীপ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এমন প্রযুক্তিগত সুবিধা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। আমরা অল্প দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করব। সেটা উেক্ষপণ হয়ে গেলে আরো সুবিধা আমাদের সামনে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে মহেশখালী উপজেলার বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রশিদা আক্তার, মহেশখালী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাবিহা নুর ও মহেশখালী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

কোরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে হাতে নেওয়া প্রকল্পটির কাজের মধ্যে রয়েছে পুরো দ্বীপ এলাকায় দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। আধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা ব্যবহার করে সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তাকে সমৃদ্ধ করা এবং ই-গভর্ন্যান্সসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আইওএম চিফ অব মিশন শরৎ দাশ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক প্রমুখ।

Facebook Comments