হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ।

সিলনিউজ২৪.কমঃ দেশের হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার ও তাদের পাশে থাকার জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতির দেওয়া তথ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। এসব বিষয় গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করতে হবে।

সোমবার (২৪ এএপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনির্ধারিত আলোচনায় হাওর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিবের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যায় হাওরে এত সংখ্যক মাছ মরেছে, এত টন ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ধরনের পরিমাপ ও ক্ষয়ক্ষতি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। সঠিক তথ্য না জেনে এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করছে সরকার। পরিস্থিতির যতদিন পর্যন্ত উন্নতি না হয়, ততদিন সরকার ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। ত্রাণের ঘাটতি যেন না হয়, সে জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চারটি মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

এদিকে ‘মৎস্য সঙ্গ নিরোধ আইন-২০১৭’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়াও মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০১৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা আমদানি করলে জেল-জরিমানা: বিদেশ থেকে আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ আমদানি করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে মৎস্য সঙ্গ নিরোধ আইন-২০১৭-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইন অমান্য করলে দুই বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে মৎস্য রেণু, মৎস্য পোনা ও মাছ আমদানি করা হয়। এসব রেণু, পোনা ও মাছে যেন কোনো জীবাণু না থাকে সে জন্য এ আইন করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে একটি কর্তৃপক্ষ থাকবে। কর্তৃপক্ষের প্রধান থাকবেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে আমদানি ও রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারবে। কর্তৃপক্ষ ‘মৎস্য সঙ্গ নিরোধ কেন্দ্র’ স্থাপন করতে পারবে। বিদেশ থেকে মাছ, পোনা ও রেণু আমদানি করতে হলে এ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার কম হওয়ায় ক্ষোভ: চলতি বছর প্রথম তিন মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার দেখে প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যেসব মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাফল্য দেখিয়েছে, তাদের প্রশংসা করেছেন। যারা ধীরগতিতে বাস্তবায়ন করছেন, সেইসব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের মনিটরিংয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিবের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। একজন সচিব সমকালকে বলেন, সচিবরা যেন প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তরিক হন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো ধরনের গাফিলতি হলে জবাবদিহি করতে হবে ওই সচিবকে। কোনো সমস্যা থাকলে সে বিষয়ে অবহিত করতে বলেছেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা দৃশ্যত পিছিয়ে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার গত বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৪৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৬২ দশমিক ০৩ শতাংশ।

সচিব বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১০টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় ১০১টি, বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৭টি, বাস্তবায়নাধীন ৫৪টি। বাস্তবায়নের হার ৪৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে ১৩টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে। ওই সময় সিদ্ধান্ত হয় ৭৯টি। এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয় ৪৯টি, বাস্তবায়নাধীন ছিল ৩০টি ও বাস্তবায়নের হার ছিল ৬২ দশমিক ০৩ শতাংশ।’

সচিব আরও জানান, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতি বা কর্মকৌশল ৫টি, চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ৮টি অনুমোদিত হয়েছে। এ সময় সংসদে আইন পাস হয়েছে ১০টি। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নীতি বা কর্মকৌশল অনুমোদিত হয়েছে ৩টি। চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে ৫টি। এ সময় সংসদে ৯টি আইন পাস হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা লাকী আখন্দের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভায় শোক প্রকাশ করা হয়। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত লাকী আখন্দ গত ২১ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মন্ত্রিসভা লাকী আখন্দের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে।’

এ ছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, ঝামেলামুক্ত ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফারের পথ সুগম করতে এবং কনজিউমারের প্রবেশ বাড়ানো ও দেশের ফ্রি লাঞ্চারের অর্থ সংগ্রহের জন্য বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা পেপল খুব শিগগির বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।

Facebook Comments