টানা ২৫ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও রক্ষা করা গেলো না শনির হাওরকে। ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

সিলনিউজ২৪.কমঃ টানা ২৫ দিন লাখো কৃষক প্রাণপণ চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তাহিরপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ শনির হাওরকে। রবিবার লালুর গোয়ালা ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে শনির হাওরে পানি শুরু হয় প্রবেশ। এর আগে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ছোট বড় ২৫টি হাওরের ১০ হাজার হেক্টর বোর ফসল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়।

উপজেলাবাসীর শেষ সম্বল হিসেবে ছিল উপজেলার শনির হাওর। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা করেও সেটি আর রক্ষা করা গেলনা।

বাধ্য হয়ে শনির হাওরের বীরনগর, রামজীবনপুর, উজান তাহিরপুর এলাকায় কৃষকরা হাওরে পানি প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই গো-খাদ্য হিসেবে কাঁচা-পাকা ধান যে যতোটুকু পারছেন কেটে নিচ্ছেন। তবে এজন্য আবার গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। জনপ্রতি ধানকাটা শ্রমিকের দিনমজুরি ৬শ’ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এছাড়াও তাদের দুইবেলা খাবার। তারপরেও রয়েছে ধান কেটে ধান বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আসার জন্য পরিবহন সংকট। কোন রকমে ধান কাটলেও পাওয়া যাচ্ছেনা নৌকা কিংবা অন্য কোন বাহন।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম জানিয়েছেন- পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ তাহিরপুরপুর তিন উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল চাষ হয়েছিল শনির হাওরে। পুরো হাওরের ফসলই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানিয়েছেন- ‘হাওরপাড়ের হাজারো কৃষককে নিয়ে গত ২৫ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেছি হাওর রক্ষা করার, কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে হাওরের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।”

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন- “উপজেলায় ওএমএস কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে। এছাড়াও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি অন্যান্য সহযোগিতা পাওয়ার জন্য।

Facebook Comments