একশ্রেণির জ্ঞানপাপী আছে, যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ায়ঃ প্রধানমন্ত্রী

সিলনিউজ২৪.কমঃ হাওর এলাকার বন্যার পানিতে ইউরেনিয়াম আছে বলে অপপ্রচার ছড়ানোর জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। একশ্রেণির লোক আছে, তারা জ্ঞানপাপী। তারা দেখে হোক, না দেখে হোক উদ্দেশ্যমূলকভাবে নানা কথা বলে বেড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়ন বোর্ডের সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেসব এলাকা বন্যাকবলিত হয়, সেখানে সাধারণত মাছ ও জলজ প্রাণী মারা যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু অপপ্রচার আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমি দেখলাম, বিএনপির কোনো একজন নেতা, ভাবখানা এমন মহাবিজ্ঞানী, তিনি বলে দিলেন, ভারত থেকে ইউরেনিয়াম এসে এই হাওর অঞ্চলের মাছ মেরে ফেলছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন এই অভিযোগটা আসল, তখন কিন্তু আমরা বসে থাকিনি। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন থেকে বিজ্ঞানী পাঠিয়ে সেখানকার পানি পরীক্ষা করা হলো। তারা বলল, সেখানকার পানিতে এ রকম কিছু পাওয়া যায়নি। একথা শোনার পরেও তারা (বিএনপি) প্রেস কনফারেন্স করে একথা বলে বেড়াচ্ছে, এর মানে কী?’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা বলছে, আমি নাকি হেফাজতের সঙ্গে সন্ধি করে ফেলেছি। চুক্তি করে ফেলেছি। চুক্তিটা কী করলাম। হেফাজতের সঙ্গে আমাদের তো কোনো চুক্তি হয়নি। চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।

হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্টে যে স্ট্যাচু করা হয়েছে, সেটা নিয়েও কথা উঠেছে। গ্রিক গডেস অব জাস্টিস, থেমেসিস। তার স্ট্যাচু। কিন্তু গ্রিক স্ট্যাচুকে যখন শাড়ি পরিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো, আমি সে বিষয়টিই চিফ জাস্টিসকে বলেছিলাম।

স্ট্যাচু আমাদের দেশে অনেক আছে, থাকবে এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘এটা তো হাজার বছরের পুরোনো একটা বিষয়। হাইকোর্টের মতো জায়গায় হঠাৎ এটা স্থাপন করা হলো কেন? ঈদগাহে নামাজ পড়তে গেলে এটা কেন আড়াল করে দেওয়া হলো না? আর স্ট্যাচু যখন থাকবে তখন এটাকে কেন বিকৃত করা হলো? কাজেই আমি নিজেও বলেছি, এটা আমার পছন্দ না। এটা আমি চিফ জাস্টিসকে বলেছি এবং যে ভাস্কর করেছেন তাঁকেও বলেছি।

কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসার অবদান রয়েছে। এটাকে অস্বীকার করা যাবে না। দেওবন্দ যে কওমি মাদ্রাসা, যারা প্রথম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু করে তাদের হাতেই তৈরি, তারাই করেছিল। সেখানকার যে কারিকুলাম সেটা কিন্তু ভারত গ্রহণ করেনি। ভারতে যদি আপনারা খোঁজ নেন, তাহলে দেখবেন, কলকাতায় যেসব মাদ্রাসা আছে সেখানে হিন্দু, মুসলমান সকলেই লেখাপড়া করছে। এ রকমও মাদ্রাসা আছে যেখানে ৪০ ভাগ হিন্দু শিক্ষার্থীও রয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন, ১৪ লাখ শিক্ষার্থী ৭৫ হাজার কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভ করছে। তাদের কারিকুলাম কী? কী তারা শিখছে কেউ বলতেই পারছে না। সেই জায়গায় আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, যে উদ্যোগ আমাদের বহু আগেই নেওয়া উচিত ছিল, যাতে করে তাদের শিক্ষা যেন মানসম্পন্ন হয়। আর এই শিক্ষার মাধ্যমে তাদের যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।

Facebook Comments