আরব আমিরাতের ফুজিরা প্রদেশের মাটির মসজিদ।

সিলনিউজ২৪.কমঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরা প্রদেশের আল বিদিয়া মাটির মসজিদটি দেশটির ঐতিহাসিক ও প্রাচীন নিদর্শনের অন্যতম। ফুজিরাহ শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে আল বিদিয়া নামক স্থানে মসজিদটি অবস্থিত। অনেকের মতে, মসজিদটি প্রায় ৬০০ বছর আগে ৫৩ বর্গমিটার (৫৭০ বর্গফুট) আয়তনজুড়ে নির্মিত হয়।

১৯৯৭-৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ফুজিরাহ প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্র দ্বারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। সে হিসেবে ধারণা করা হয়, এটি ১৪৪৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়েছে। তবে অনেকের মতে, ইসলাম প্রচারের জন্য এ অঞ্চলে আগত কয়েকজন সাহাবা হাজার বছর আগে পাহাড় কেটে এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন।

মসজিদটির পুরোটাই মাটি ও পাথরের তৈরি। চারপাশের দেয়াল ছাড়াও একটি মাত্র মাটির পিলারের উপর ভর করে আছে ৬০০ বছরেরও পুরনো এ প্রাচীন মসজিদটি। কাঁচা মাটি দ্বারা পলেস্তরার স্তর দেওয়া আছে দেয়ালে। বিভিন্ন সময় সংস্কার করা হলেও বর্তমানে দেয়ালের কিছু কিছু জায়গা থেকে পলেস্তরার স্তর খসে পড়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে কয়েকবার দেয়ালের রংও পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রার্থনা কক্ষের মধ্যে কোনো জানালা নেই। তবে বাতাস আসা-যাওয়ার  জন্য মূল ফটকের ওপর কিছুটা অংশ প্রায়ই খোলা থাকে। আলো আসার জন্য  রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি ফাঁকা জায়গা।

মসজিদের ছাদে ভিন্ন রকমের চারটি গম্বুজ, প্রার্থনা কক্ষের ভেতরে ছোট মিহরাব ও একটি মিম্বার, মসজিদের সামনে একটি পানির কূপ ও পেছনে দুটি দুর্গ রয়েছে। ভেতরের দেয়ালে কোনো কোনো অংশে সাধারণ কারুকার্য করা। কোরান রাখার জন্য দেয়ালের চারপাশে ঘনক আকৃতির বক্স করা। মসজিদের ভেতরে কিছু কোরান শরিফ, কয়েকট বাতি, দুটি এসি, মাইক, একটি দেয়ালঘড়ি ও একটি বিদ্যুৎচালিত পাখা রয়েছে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে একটি অতি প্রাচীন বরই গাছ।

দুর্গ দুটি সম্পর্কেও মতপার্থক্য রয়েছে এখানকার অনেকের। কেউ বলছে, আজান দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হতো এই দুর্গ। আবার কেউ বলছে, সাহাবারা যুদ্ধের সময় নিরাপত্তার জন্য তৈরি করেছেন দুর্গ দুটি। দুর্গের কাছে গেলে আরব্য উপসাগরের অংশবিশেষ দেখা যায়।

জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত না হলেও প্রতিদিন এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন মুসল্লি ও আগত পর্যটকরা। কিন্তু প্রায় ১০ মাস থেকে মসজিদের মূল কক্ষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট নাকি অন্য কোনো কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ নফল নামাজ আদায় করা বন্ধ করে দেন। ফলে অনেক আশা নিয়ে আগত মুসল্লিদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

২০০৩ সালের মার্চে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি নিজস্ব অর্থায়নে পুরনো  নিদর্শন ছাড়াও মসজিদের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মাণ করেছে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা অজুখানা, বিশ্রামের জন্য আলাদা কক্ষ, দুর্গে যাতায়াতের জন্য পাথরের সিঁড়ি। সীমানা প্রাচীরসহ মসজিদের পাশে তৈরি করা হয়েছে একটি বাগান। এ ছাড়া এখানে দুটি দোকানঘরও রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবসে আমিরাতের ঐহিত্যবাহী জিনিসপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এখানে। ফুজিরাহসহ পুরো আমিরাতের অনত্যম দর্শনীয় স্থান এটি। প্রতিদিন আল বিদিয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভিড়ে থাকে মুখরিত পরিবেশ।

ঐতিহ্যবাহী আল বিদিয়া মসজিদের অবস্থান ফুজিরাহ শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে, (দিব্বা-খোরফাক্কান সড়ক হয়ে শারম থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার উত্তরে) ও সানদি বিচ থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দক্ষিণে আল বিদিয়া নামক স্থানে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৬টা পর্যন্ত এটি উন্মুক্ত থাকত। কিন্তু প্রায় ১০ মাস আগে মসজিদের মূল নামাজ কক্ষ বন্ধ করে রাখা হয়। তবে প্রতিদিন শত শত পর্যটক এ মসজিদ দেখতে আসে। এ ছাড়া এখানে আসা পর্যটকদের ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে ফুজিরাহ, খোরফাক্কান ও কালবা বিচ।

এখানে যেমন রয়েছে উন্নতমানের খাবার হোটেল, তেমনি থাকার জন্য রয়েছে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যেই ফুজিরাহ রোটেনা, লি মেরডিয়াম ও খোরফাক্কান ওশিয়্যানিক হোটেল। নামাজ আদায়ের জন্য রয়েছে মনোরম বড় মসজিদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেচাকেনার জন্য আছে একটি বড় বড় মার্কেট ও বাজার।

উল্লেখ্য, হাফেজ আহাম্মদ নামের একজন বাংলাদেশি প্রবাসী। ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে ১০ বছর ধরে তিনি ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা। সূত্রঃ কালেরকন্ঠ

Facebook Comments